দিনাজপুরের খানসামায় প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় প্রেমিক জীবন চন্দ্র রায় (১৭) মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কীটনাশক পানে আত্নহত্যা করেছে। এ ঘটনাটি বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের পূর্ব হাসিমপুর গ্রামের তাঁতীপাড়ায় ঘটেছে। নিহত জীবন চন্দ্র রায় ওইপাড়ার বিমল চন্দ্র রায়ের ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভাবের সংসারে খরচ যোগাতে গিয়ে জীবন রায়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতেই তার পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে যায়। পড়াশোনা বন্ধ হলে জীবন নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চাকুরি নেয়। সেখানে চাকুরি করা কালে নীলফামারীর সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের রেলঘুন্টি এলাকার জনৈক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর একপর্যায়ে প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে করতে সম্মত হয়ে উভয়ের পরিবারে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তাদের বিয়েতে দুই পরিবারই অসম্মতি জানায়। এমতাবস্থায় প্রেমিকার পরিবার অন্যত্র ওই প্রেমিকার বিয়ে ঠিক করে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে প্রেমিক জীবন রায় গত ৩ মে বুধবার মধ্যরাতে কীটনাশক পান করে আত্নহত্যা করে। বুধবার সকালে পাটক্ষেত থেকে জীবন রায়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
জীবন রায়ের পিতা বিমল রায় জানান, কয়েক মাস থেকে তাঁর ছেলে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু প্রেমিকার পরিবার বিয়েতে সম্মত না হওয়ায় তাদের বিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কয়েকদিন থেকেই জীবন রায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমাদের ধারণা হচ্ছে- সে হতাশায় কীটনাশক পানে আত্নহত্যা করেছে।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রেমঘটিত কারণেই জীবন রায় আত্নহত্যা করেছে। কোন আপত্তি না থাকায় পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















