গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাহারিয়া খাঁন বিপ্লবের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সাইদুর রহমান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাইদুর রহমান উপজেলার বকসিগঞ্জ একে উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লবের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব।
সাংবাদিক সাইদুর রহমান জানান, গত রোববার রাত প্রায় সাড়ে ১০ টার সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সাদুল্লাপুর এলএসডি গোডাউনের পাশে তাকে গতিরোধ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব। এরপর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই (সাইদুর রহমানকে) কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এই ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুতই নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব।
এনিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব বলেন, আমি কিছু বিষয়ে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করছি। ওই ঘটনার পর আমি নিজে সাইদুর রহমানকে তিনবার ফোন দিয়েছি। কিন্তু ফোন রিসিভ করেনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করছি। আমার শুভাকাঙ্খি ও সংগঠনের আরোও কয়েকজন আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, সাংবাদিক সাইদুর রহমানকে লাঞ্চিতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদস্যগণ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আরও একজন সাংবদিককে লাঞ্চিত করেছেন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইদুর রহমান লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি শুনেছেন।। পরে সাইদুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, সাংবাদিক সাইদুর রহমানকে লাঞ্চিত করার বিষয়টি দুঃখজনক। এজন্য কোন ব্যক্তির দায় দল নেবেনা। দলীয় পদে থেকে যিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে তাকেই। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক, জাগো২৪.নেট 



















