লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাঁটাতার বিহীন সীমান্ত থেকে রফিকুল ইসলাম টেরে নামের এক বাংলাদেশী যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রফিকুল ইসলাম টেরে (২৫) লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর এলাকার মৃত হায়দার আলীর পুত্র।
শুক্রবার বিকেলের দিকে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৯২৭ এর সাব ৩নং পিলার এলাকা থেকে টেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে গুলি ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত রফিকুল ইসলাম তার পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশী বাসিন্দা রবিউল ও সোহেল নামের দু’জন যুবকের সাথে ভারতীয় অংশের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার দরিবশ নগরটারী সীমান্ত লাগোয়া পাটক্ষেত এলাকায় যায়। সেখানে (ভারতীয় অংশে) ভারতীয় কয়েকজন যুবকের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রফিকুলের নিকট থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা এবং সেখানেই রফিকুল গুলিবিদ্ধ হয়। সে সময় টেরের সাথে থাকা বাংলাদেশী যুবক সীমান্ত লাগোয়া নদীতে ভেলায় চড়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত থাকা চুরকুটু নামের একজন মাঝিকে ডাকেন এবং তার ভেলায় তুলে বাংলাদেশ অংশে পাঠান। পরে খবর পেয়ে ভেলায় ভাসতে থাকা গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শনিবার (৮ জুলাই) ভারতে স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৭ জুন নির্বাচনী সহিংসতায় ফকরা বাবু নামের একজন ভারতীয় নাগরিক খুনও হয়েছে।তারপর থেকে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে ভারতের পঞ্চায়েত নির্বাচনী পরিবেশ। ভারতীয় নিহত সেই ফকরা বাবু বাংলাদেশী নিহত যুবক রফিকুল ইসলাম টেরের আত্মীয় হয় বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের ধারণা ভারতীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডটি হতে পারে।
মোগলহাট ইউনিযন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, দুর্গাপুর সীমান্ত থেকে রফিকুল ইসলাম টেরে নামের একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কে বা কারা মেরেছে তা এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে বিএসএফের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা গুলি চালিয়ে কাউকে হত্যা করেনি বলে দাবি করেছে।
ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















