বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগে ক্ষতির মুখে খামারিরা

দিনাজপুর খানসামা উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর এলএসডি বা ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারি ও গরু পালনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রামের খামারি ওসমান আলী বলেন, ‘আমার খামারের গরুর শরীরে হঠাৎ করে টিউমারের মতো গুটি গুটি কী যেন বের হয়েছে! এটা হওয়ার পর থেকেই খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়ে শুধু ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। পশু চিকিৎসককে দেখিয়েছি, তারা ওষুধ দিয়েছে। দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে। গরুর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গাভি নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছেন ওই গ্রামের গরু পালনকারী নূর ইসলাম। তার গাভি প্রতিদিন দেড় কেজি করে দুধ দেয়। কিন্তু ৬ দিন ধরে গাভিটির চামড়ায় ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি বের হয়েছে। খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে গাভিটি। ফলে কমে গেছে দুধ উৎপাদনের পরিমাণও।
গরু চাষি জয়নাল আলীও এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক মাস ধরে আমার গাভির শরীরে গুটি বের হয়েছে। ডাক্তার প‍্যারাসিটামল আর হিস্টাসিন বড়ি দিয়েছেন। তা-ই খাওয়াচ্ছি। তবে এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও সারেনি।
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জুয়েল বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে আসছেন খামারিরা। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে সেরে উঠতে মাসখানেক সময় লাগছে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে ব‍্যথা অনুভূত হয়।
উপজেলার পাকেরহাটের ইজারাদার জানান, শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে গরু-ছাগল কিনতে আসেন বেপারিরা। তবে বতর্মানে হাটে প্রচুর পরিমাণে ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু আসছে। সেই গরুগুলো বাইরের বেপারিরা কিনতে চাচ্ছেন না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিদিন ৬-৭টি করে গরু আমাদের নিকট চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। এ সময়ে সারাদেশে কম বেশি এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু। আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছি। এ নিয়ে খামারিদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সময়মত চিকিৎসা নিলে প্রভাব তেমন একটা ক্ষতিকর না। এটি কম বেশি সারা বছর ছিল। কিন্তু গত এক মাসে এ রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ রোগের ভ্যাকসিন থাকলেও খামারিরা পশুকে ভ্যাকসিন দিতে তেমন একটা আগ্রহী হয় না। ফলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে সব জায়গায়। আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে সুস্থ গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দিচ্ছি। আর যেসব এলাকায় এসব রোগ আক্রান্ত হয়েছে ওই এলাকায় গরু সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। খামারিদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, প্রতিনিয়তই জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করতে হবে। মশা-মাছি আক্রান্ত করতে না পারে এজন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে।
জনপ্রিয়

গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগে ক্ষতির মুখে খামারিরা

প্রকাশের সময়: ০১:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০২৩
দিনাজপুর খানসামা উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর এলএসডি বা ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারি ও গরু পালনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রামের খামারি ওসমান আলী বলেন, ‘আমার খামারের গরুর শরীরে হঠাৎ করে টিউমারের মতো গুটি গুটি কী যেন বের হয়েছে! এটা হওয়ার পর থেকেই খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়ে শুধু ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। পশু চিকিৎসককে দেখিয়েছি, তারা ওষুধ দিয়েছে। দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে। গরুর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গাভি নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছেন ওই গ্রামের গরু পালনকারী নূর ইসলাম। তার গাভি প্রতিদিন দেড় কেজি করে দুধ দেয়। কিন্তু ৬ দিন ধরে গাভিটির চামড়ায় ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি বের হয়েছে। খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে গাভিটি। ফলে কমে গেছে দুধ উৎপাদনের পরিমাণও।
গরু চাষি জয়নাল আলীও এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক মাস ধরে আমার গাভির শরীরে গুটি বের হয়েছে। ডাক্তার প‍্যারাসিটামল আর হিস্টাসিন বড়ি দিয়েছেন। তা-ই খাওয়াচ্ছি। তবে এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও সারেনি।
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জুয়েল বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে আসছেন খামারিরা। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে সেরে উঠতে মাসখানেক সময় লাগছে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে ব‍্যথা অনুভূত হয়।
উপজেলার পাকেরহাটের ইজারাদার জানান, শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে গরু-ছাগল কিনতে আসেন বেপারিরা। তবে বতর্মানে হাটে প্রচুর পরিমাণে ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু আসছে। সেই গরুগুলো বাইরের বেপারিরা কিনতে চাচ্ছেন না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিদিন ৬-৭টি করে গরু আমাদের নিকট চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। এ সময়ে সারাদেশে কম বেশি এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু। আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছি। এ নিয়ে খামারিদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সময়মত চিকিৎসা নিলে প্রভাব তেমন একটা ক্ষতিকর না। এটি কম বেশি সারা বছর ছিল। কিন্তু গত এক মাসে এ রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ রোগের ভ্যাকসিন থাকলেও খামারিরা পশুকে ভ্যাকসিন দিতে তেমন একটা আগ্রহী হয় না। ফলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে সব জায়গায়। আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে সুস্থ গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দিচ্ছি। আর যেসব এলাকায় এসব রোগ আক্রান্ত হয়েছে ওই এলাকায় গরু সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। খামারিদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, প্রতিনিয়তই জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করতে হবে। মশা-মাছি আক্রান্ত করতে না পারে এজন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে।