সাংবাদিক কারো প্রতিপক্ষ নয়
(মোঃ মশফিকুর রহমান)
মানুষ যেখানে ভাবনা শেষ করে সেখান থেকে একজন সাংবাদিক ভাবতে শুরু করে| একজন সংবাদকর্মি দূর্নীতি, অসঙ্গতি, উন্নয়ন সম্ভাবনা এসবই তুলে ধরবেন এতে করে যদি দু’একজনার স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে| আর ওই দুএকজন সাংবাদিকদের পথরোধ করতে পারবে না। কারণ সাংবাদিক কাজ করে জনগণের জন্য দেশের জন্য।
যাইহোক বলছিলাম- পলাশবাড়ীর কর্মরত সাংবাদিক নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে স্যোসাল মিডিয়াতে পলাশবাড়ীর সাংবাদিকদের নিয়ে মনগড়া লেখালেখি। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে যে বিষয় গুলো সামনে এনে সাংবাদিকদের কে উপহাস করা হয় সেগুলো হলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সাংবাদিক। অন্য পেশায় থেকে সাংবাদিকতা পেশায় আশা ও কিছু সাংবাদিকের অনিয়মের কথা।
প্রথমেই বলি পলাশবাড়ীতে একশত সংবাদকর্মি মনে হয় হবে না। তবে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় খোঁজ নিলে দেখা যাবে পলাশবাড়ীর চেয়ে দ্বিগুণ সাংবাদিক আর ওসব উপজেলার সরকারি-বেসরকারি অফিস ঘুরে এসে সাংবাদিক মূল্যায়নে পলাশবাড়ীর সাংবাদিকদের ব্যাপারে আলহামদুলিল্লাহ বা ভালো আছি বলতে হবে ।
তারপরেও একটি সমিক্ষা তুলে ধরছি- বাংলাদেশে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা তিন হাজার পঁচিশ টি, টেলিভিশন চ্যানেল পয়তাল্লিশ টি, সারাদেশে অনলাইন পত্রিকা কতগুলো আছে তার কোন পরিসংখ্যান এখনো সরকারের কাছে নেই তবে নিবন্ধনের জন্য দুই হাজারের অধিক আবেদন তথ্য মন্ত্রনালয়ে পরেছে সে ক্ষেত্রে পলাশবাড়ীতে সাংবাদিক গণনায় একেবারেই অপ্রতুল। এর পরে অন্য পেশা থেকে এসে সাংবাদিকতা করা নিয়ে মতভেদ যা অনেক টা উদাসীন। মন্তব্য বলা যেতে পারে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কেউ উপজেলায় সংবাদকর্মি হিসেবে কাজ করবে না আর প্রয়োজন ও হবে না জেলা উপজেলার যারা কাজ করে তারা একটু চোখকান খোলা রেখে দ্বায়িত্বশীল কাজ করলেই চলবে আর সারা বাংলাদেশ সাংবাদিকদের বড় একটা অংশ কাজ করে।
এই জেলা উপজেলা থেকেই আর সেই জেলা উপজেলার সাংবাদিকদের কে মূল্যায়ন না করা জ্ঞান পাপীর শামিল। যেখানে কৃষিবিদ হয়ে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান হওয়া যায়, ডাক্তারি পরে ব্যাংকার হওয়া যায়, ইন্জিনিয়ার হয়ে পুলিশ অফিসার হওয়া যায়, যেখানে শিক্ষানুরাগী না হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক হওয়া যায়। ধর্মীয় জ্ঞান বা ধর্মীয় অনুশাসন না থাকলেও মসজিদ মাদ্রাসার সভাপতি হওয়া যায়। তবে অন্য পেশা থেকে সাংবাদিকতা কেন নয়।
এরপর আশা যাক- দূর্নীতিগ্রস্ত সাংবাদিকতা দূর্নীতি কোথায় নেই। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জর্জ, ব্যারিষ্টার,পুলিশ,ব্যাংকার, চেয়ারম্যান,মেম্বার, এমপি, মন্ত্রী, শিক্ষক, মাছ ওয়ালা, রিকশা ওয়ালা এমন কি খেত মজুর যারা কিনা অন্যের জমির আইল ঠেলে এতসবের মধ্যে শুধু সাংবাদিক কেন সামনে আসে কারণ একটা যারা আসল দূর্নীতিবাজ তাদের কথা জাতিকে জানানো হলো।
সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় অপরাধ, তবে সারা দেশের ন্যায় পলাশবড়ীতেও কিছু সাংবাদিক যে নেতিবাচক কর্মকারণ্ড জড়িয়ে পরেছে তা অস্বীকার করার নয়। এখানেও অন্যান্য পেশার মতো অযোগ্য লোক অনুপ্রবেশ করেছে। যা কিনা স্হানীয় সাংবাদিক সংস্থা ও সরকারি সংস্থা যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। যার ফলাফল সময়ের দাবি মাত্র। তাই বলে সকল সাংবাদিক মহলকে ঢালাও ভাবে অপবাদ দেয়া মোটেও ঠিক নয় বলে মনে করেন পলাশবাড়ী উপজেলার সাংবাদিক নেতারা।
লেখক- মোঃ মশফিকুর রহমান 
























