কুড়িগ্রাম জেলায় সকল কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বাবা-মাকে নিয়ে এক ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন্স মাঠে সকল পুলিশ সদস্যের জীবিত পিতা-মাতাকে নিয়ে এক প্রীতি সম্মলনের আয়োজন করা হয়। এসময় তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।
পরে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা ও উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শ্রদ্বাভাজন পিতা-মাতাদের বেসিক হেল্থ চেকআপ ( ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, ব্লাড গ্রুপ সহ অন্যান্য) সেবা প্রদান করেন। ক্ষেত্রভেদে তাৎক্ষণিক সরবরাহ করা হয় প্রাথমিক মেডিসিন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বাবা-মায়েরা অনেকটা মিসিং ডট। নানাবিধ কর্মব্যস্ততা, বদলীর চাকরি, অবস্থান, পারিবারিক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাবা মায়েদের সেবাযত্ন বা দেখভাল করতে পারেন না। তাই সেই উপলব্ধি থেকে কুড়িগ্রাম জেলায় সকল কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পিতা-মাতাদের জন্য এক প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. রুহুল আমীন, উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওহিদুন্নবী, নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন রেজা, রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মমিনুল ইসলাম, পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মো. আখতারুজ্জামানসহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সকালের নাস্তা হিসেবে পরিবেশন করা হয় শীতকালীন পিঠাপুলি। সেই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মায়েদের জন্য ছিল আনন্দময় মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার ব্যবস্থা।
এ সময় প্রথম পুরষ্কার পান পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল জীবন চন্দ্র রায়ের মা জোনাকী রায়, দ্বিতীয় স্থানে ডিএসবিতে কর্মরত কনস্টেবল ইমরানের মা জেসমিন আক্তার এবং তৃতীয় স্থানে রৌমারী সার্কেল অফিসে কর্মরত এএসআই নিরস্ত্র মো. রোকনুজ্জামান এর মা আমবিয়া খাতুন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সকল পুলিশ সদস্যের বাবাদের নিয়ে আনন্দময় ঝুঁড়িতে বল নিক্ষেপ খেলার আয়োজনও করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার পান পুলিশ লাইন্সে কর্মরত এএসআই সশস্ত্র মো. রাজুর পিতা জয়নাল আবেদিন, দ্বিতীয় স্থানে পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল মিন্টু চন্দ্রের পিতা বাচ্চা চন্দ্র এবং তৃতীয় স্থানে ভূরুঙ্গামারী থানায় কর্মরত কনস্টেবল আল আমিনের পিতা এজাজুল।
পরে আগত পুলিশ সদস্য ও তাদের শ্রদ্ধাভাজন পিতা-মাতার সাথে পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম দুপুরের প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কর্মক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের সম্মান জানানোর এই বিরল বিষয় তাদের জীবনে প্রথম। তারা এই স্মৃতি আমৃত্যু মনের মনিকোঠায় সঞ্চয় করে রাখবেন আমার বিশ্বাস। পুলিশ সদস্যদের অনেক অভিভাবক মাননীয় আইজিপি ও সদাশয় সরকারের সুউচ্চ প্রশংসা করে স্মৃতি রোমন্থন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে গর্বিত পিতা-মাতাকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত শীতের শাল উপহার দেয়া হয়।
নিউজ ডেস্ক, জাগো২৪.নেট 
















