সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানসামায় ৯৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টিতেই নেই শহীদ মিনার 

মাতৃভাষা আন্দোলনের আজ ৭১ বছর হয়ে গেলেও দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় দিবস পালন করা হয়। আবার কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছার অভাব ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলোও সারাবছর অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে। সেগুলো শুধু জাতীয় দিবসের দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদরাসা, কলেজ ও কারিগরি কলেজ মিলে ৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। উপজেলার কোনো মাদরাসা ও কারিগরি কলেজে শহীদ মিনার নেই।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর পূর্বেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও দেশ স্বাধীন হওয়ার এতোদিন পরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেই শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না। কেবলমাত্র উপজেলা সদর ও পাকেরহাটের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এতে করে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না। উপজেলার পাকেরহাট, ছাতিয়ানগড়, আঙ্গারপাড়া, খানসামা ও খামারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইট-সিমেন্টের শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে লোহার পাইপ দিয়ে বানানো শহীদ মিনার রয়েছে। সে সবের মধ্যে অনেকগুলো মরিচা ধরে বিবর্ণ বা বর্ণহীন হয়ে গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। অপরদিকে, উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করতে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের যেসব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া যেসব  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেগুলো সংস্কার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক বলেন, উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। সেগুলো প্রতিবছর সংস্কারের জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সভাপতিকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোকে ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনার নির্মাণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা যেন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে।
জনপ্রিয়

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হলেন সাদুল্লাপুরের মোতাহার হোসেন টিপু

খানসামায় ৯৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টিতেই নেই শহীদ মিনার 

প্রকাশের সময়: ০৮:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
মাতৃভাষা আন্দোলনের আজ ৭১ বছর হয়ে গেলেও দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় দিবস পালন করা হয়। আবার কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছার অভাব ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলোও সারাবছর অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে। সেগুলো শুধু জাতীয় দিবসের দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদরাসা, কলেজ ও কারিগরি কলেজ মিলে ৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। উপজেলার কোনো মাদরাসা ও কারিগরি কলেজে শহীদ মিনার নেই।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর পূর্বেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও দেশ স্বাধীন হওয়ার এতোদিন পরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেই শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না। কেবলমাত্র উপজেলা সদর ও পাকেরহাটের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এতে করে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না। উপজেলার পাকেরহাট, ছাতিয়ানগড়, আঙ্গারপাড়া, খানসামা ও খামারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইট-সিমেন্টের শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে লোহার পাইপ দিয়ে বানানো শহীদ মিনার রয়েছে। সে সবের মধ্যে অনেকগুলো মরিচা ধরে বিবর্ণ বা বর্ণহীন হয়ে গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। অপরদিকে, উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করতে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের যেসব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া যেসব  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেগুলো সংস্কার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক বলেন, উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। সেগুলো প্রতিবছর সংস্কারের জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সভাপতিকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোকে ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনার নির্মাণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা যেন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে।