রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুখ থুবড়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত ও তদারকি করার লক্ষ্যে বিগত ২০১৯ সালে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বছরের শেষের দিকে উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইসগুলো। যা বর্তমানে বেশির ভাগই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। কিছু মেশিন সচল থাকলেও হচ্ছে না এর ব্যবহার। এতে অনন্ত ৩৫-৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ডিভাইসগুলো অযত্ন-অবহেলায় এখন পড়ে আছে।
জানা গেছে, ২০২৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার ১৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপের বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরার বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ের জন্য ২০-৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাচাই করে মেশিন ক্রয় করার কথা থাকলেও শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে সকলেই মেশিন ক্রয় করেন। সে সময় শিক্ষা অফিসের ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করেননি। মেশিনগুলো লাগানোর পর ৬-৭ মাস পেরিয়ে গেলেই বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। এসব মেশিনের মধ্যে কিছু সচল থাকলেও সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ মেশিন চালু রাখতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট কানেকশন ও কম্পিউটার প্রয়োজন। বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেট সংযোগ ও কম্পিউটারের অপ্রতুলতায় ভেস্তে যায় এ কার্যক্রম। এসব মেশিনগুলো ব্যবহার না হতে হতে রীতিমতো জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, প্রধান শিক্ষকেরা অনেক সময় শিক্ষা অফিসে, বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ফলে বায়োমেট্রিক হাজিরা থাকলেও তাঁদের এসব অনুষ্ঠানে যেতে সমস্যা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ময়দান ডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর দুবলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ভাবকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হোসেনপুর ভুল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়-বায়োমেট্রিক মেশিন বাক্সবন্দী রয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এসব মেশিন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগে বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো স্থাপন করা হলেও অধিকাংশই অকেজো হয়ে গেছে। মেশিনগুলো মেরামতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সফলতা আসছে না। তিনি আরো বলেন, মেশিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বায়োমেট্রিক মেশিন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ আর এন্টারপ্রাইজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও কোনো সাড়া মিলেনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। উপজেলা পরিষদের আগামী মাসিক সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়

মুখ থুবড়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা 

প্রকাশের সময়: ০১:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত ও তদারকি করার লক্ষ্যে বিগত ২০১৯ সালে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বছরের শেষের দিকে উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইসগুলো। যা বর্তমানে বেশির ভাগই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। কিছু মেশিন সচল থাকলেও হচ্ছে না এর ব্যবহার। এতে অনন্ত ৩৫-৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ডিভাইসগুলো অযত্ন-অবহেলায় এখন পড়ে আছে।
জানা গেছে, ২০২৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার ১৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপের বরাদ্দ থেকে ডিজিটাল হাজিরার বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ের জন্য ২০-৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাচাই করে মেশিন ক্রয় করার কথা থাকলেও শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে সকলেই মেশিন ক্রয় করেন। সে সময় শিক্ষা অফিসের ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করেননি। মেশিনগুলো লাগানোর পর ৬-৭ মাস পেরিয়ে গেলেই বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। এসব মেশিনের মধ্যে কিছু সচল থাকলেও সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ মেশিন চালু রাখতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট কানেকশন ও কম্পিউটার প্রয়োজন। বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেট সংযোগ ও কম্পিউটারের অপ্রতুলতায় ভেস্তে যায় এ কার্যক্রম। এসব মেশিনগুলো ব্যবহার না হতে হতে রীতিমতো জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, প্রধান শিক্ষকেরা অনেক সময় শিক্ষা অফিসে, বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ফলে বায়োমেট্রিক হাজিরা থাকলেও তাঁদের এসব অনুষ্ঠানে যেতে সমস্যা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ময়দান ডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর দুবলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ভাবকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হোসেনপুর ভুল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়-বায়োমেট্রিক মেশিন বাক্সবন্দী রয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এসব মেশিন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগে বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো স্থাপন করা হলেও অধিকাংশই অকেজো হয়ে গেছে। মেশিনগুলো মেরামতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সফলতা আসছে না। তিনি আরো বলেন, মেশিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বায়োমেট্রিক মেশিন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এ আর এন্টারপ্রাইজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও কোনো সাড়া মিলেনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। উপজেলা পরিষদের আগামী মাসিক সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।