সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খয়েরবাড়ী মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার কেউ পাস করেনি

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারের এসএসসি/২৪ইং পরীক্ষায় কেউ পাশ করেনি ।উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিরামপুর উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রে ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৭৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ভোকেশনাল ১টি, ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২২ট মাদ্রাসা যার মধ্যে ৬টি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট যুক্ত রয়েছে। বিরামপুর উপজেলায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি।

রবিবার (১২ মে) সারাদেশে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিরামপুর উপজেলায় ২ হাজার ৭’শত ৫৬ জন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ (পাশ) করেন ২ হাজার ৬০ জন পরীক্ষার্থী এবং ফেল করেন ৬’শত ৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এস এস সি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বিরামপুর উপজেলার ৬নং জোতবানী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা নাম পাওয়া যায়।

জানা যায়,খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৪ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে। পরীক্ষা চলাকালিন ইংরেজি পরীক্ষার দিন এক্সফেল হয় একজন। তবে, বাকি ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেও কেউ পাশ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আঃ রশীদ এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হরে তাঁর ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী সুপার আঃ লতিফ জানান, অত্র মাদ্রাসার ফলাফল খারাপ হওয়ায় আমি আতঙ্কিত। ১৯৬৫ইং সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় । মাদ্রাসাটির জমির পরিমান এক একর। মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ইং সালে এমপিওভুক্ত হয়। এই প্রথম অত্র মাদ্রাসার ফলাফল খারাপ হয়েছে।

আরও জানান যায়, ২০১৬ইং সালে খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমান সুপার আঃ রশীদ যোগদান করেন। প্রতিবছর ভাল ফলাফল হয়েছে। কিন্তু, এবারই পরীক্ষার খারাপ হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ মাদ্রাসায় শিক্ষকদের গ্রুপিং ও অবহেলার কারণে থমকে গেছে পড়ালেখার মান । অপরদিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দীর্ঘদিন সভাপতি পদে থাকার বিষয়েও অভিযোগ করে এলাকাবাসী।

মাদ্রাসার এস এস সি পরীক্ষার্থী মুর্শিদা নাশিদ নুহা বলেন, আমি সহ ২৪ জন পরীক্ষার্থী সকলে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমি আশাবাদী আমার ফলাফল ৪.৫ এর বেশি হবে। কিন্তু, দূভাগ্যের বিষয় কেন এমন ফলাফল হলো তা মেনে নিতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান জানান, আমার মাদ্রাসা একসময় উপজেলার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু, কেন এমন ফলাফল তা মেনে নিতে পারছি না। তবে আগামীতে যেনো ভালো ফলাফল করা যায়। সেই বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমশের আলী মন্ডল জানান, খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল কেন এমন হলো? এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে।

খয়েরবাড়ী মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার কেউ পাস করেনি

প্রকাশের সময়: ০২:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারের এসএসসি/২৪ইং পরীক্ষায় কেউ পাশ করেনি ।উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিরামপুর উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রে ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৭৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ভোকেশনাল ১টি, ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২২ট মাদ্রাসা যার মধ্যে ৬টি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট যুক্ত রয়েছে। বিরামপুর উপজেলায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি।

রবিবার (১২ মে) সারাদেশে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিরামপুর উপজেলায় ২ হাজার ৭’শত ৫৬ জন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ (পাশ) করেন ২ হাজার ৬০ জন পরীক্ষার্থী এবং ফেল করেন ৬’শত ৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এস এস সি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বিরামপুর উপজেলার ৬নং জোতবানী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা নাম পাওয়া যায়।

জানা যায়,খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৪ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে। পরীক্ষা চলাকালিন ইংরেজি পরীক্ষার দিন এক্সফেল হয় একজন। তবে, বাকি ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেও কেউ পাশ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আঃ রশীদ এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হরে তাঁর ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী সুপার আঃ লতিফ জানান, অত্র মাদ্রাসার ফলাফল খারাপ হওয়ায় আমি আতঙ্কিত। ১৯৬৫ইং সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় । মাদ্রাসাটির জমির পরিমান এক একর। মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ইং সালে এমপিওভুক্ত হয়। এই প্রথম অত্র মাদ্রাসার ফলাফল খারাপ হয়েছে।

আরও জানান যায়, ২০১৬ইং সালে খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমান সুপার আঃ রশীদ যোগদান করেন। প্রতিবছর ভাল ফলাফল হয়েছে। কিন্তু, এবারই পরীক্ষার খারাপ হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ মাদ্রাসায় শিক্ষকদের গ্রুপিং ও অবহেলার কারণে থমকে গেছে পড়ালেখার মান । অপরদিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দীর্ঘদিন সভাপতি পদে থাকার বিষয়েও অভিযোগ করে এলাকাবাসী।

মাদ্রাসার এস এস সি পরীক্ষার্থী মুর্শিদা নাশিদ নুহা বলেন, আমি সহ ২৪ জন পরীক্ষার্থী সকলে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমি আশাবাদী আমার ফলাফল ৪.৫ এর বেশি হবে। কিন্তু, দূভাগ্যের বিষয় কেন এমন ফলাফল হলো তা মেনে নিতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান জানান, আমার মাদ্রাসা একসময় উপজেলার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু, কেন এমন ফলাফল তা মেনে নিতে পারছি না। তবে আগামীতে যেনো ভালো ফলাফল করা যায়। সেই বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমশের আলী মন্ডল জানান, খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল কেন এমন হলো? এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে।