সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে সুন্দরগঞ্জে বিএনপি-শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিসহ সহযোগী সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্ত্বরে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ গাফ্ফার মোল্লা, এম, মাহফুজার লেলিন, সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপণ, যুগ্ম-আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম আযম, সদস্য সচিব মো. মতিয়ার রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব মো. আলম জামান মিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মণ্ডল রিয়াল প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে গুম খুন করেছে খুনি হাসিনা। এমনকি ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসব হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি জানাই।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন করে ষড়যন্ত্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। ১৫ আগস্টকে ঘিরে কোন অপশক্তি যেন মানুষের জান-মালের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

এদিকে, পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শত শিক্ষার্থী-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার মাধ্যমে এ বিচারের দাবি জানান তাঁরা।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে পৌরশহরের বাহিরগোলা মসজিদ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম সাদী, সমন্বয়ক নুর ইসলাম নুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম মিলন ও শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যারা হামলার ও প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের এই বাংলায় জায়গা নাই। সেই ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে। ছাত্রসমাজ কোটার এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই এখন আমাদের আবার রুখে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমাদের ভাই আবু সাঈদসহ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শত শিক্ষার্থী-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনি হাসিনা। তার আদেশে গুলি করতে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ-র আগে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

‘বিচার চাই বিচার চাই, খুনি হাসিনার বিচার চাই; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছ; আবু সাঈকে দেখা যায়, লাল-সবুজ পতাকায়; জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; আবু সাঈদ-এর রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’- সহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

 

 

জনপ্রিয়

শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে সুন্দরগঞ্জে বিএনপি-শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ

প্রকাশের সময়: ০৬:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিসহ সহযোগী সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্ত্বরে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ গাফ্ফার মোল্লা, এম, মাহফুজার লেলিন, সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপণ, যুগ্ম-আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম আযম, সদস্য সচিব মো. মতিয়ার রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব মো. আলম জামান মিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মণ্ডল রিয়াল প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে গুম খুন করেছে খুনি হাসিনা। এমনকি ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসব হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি জানাই।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন করে ষড়যন্ত্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। ১৫ আগস্টকে ঘিরে কোন অপশক্তি যেন মানুষের জান-মালের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

এদিকে, পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শত শিক্ষার্থী-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার মাধ্যমে এ বিচারের দাবি জানান তাঁরা।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে পৌরশহরের বাহিরগোলা মসজিদ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম সাদী, সমন্বয়ক নুর ইসলাম নুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম মিলন ও শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যারা হামলার ও প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের এই বাংলায় জায়গা নাই। সেই ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে। ছাত্রসমাজ কোটার এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই এখন আমাদের আবার রুখে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমাদের ভাই আবু সাঈদসহ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শত শিক্ষার্থী-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনি হাসিনা। তার আদেশে গুলি করতে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ-র আগে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

‘বিচার চাই বিচার চাই, খুনি হাসিনার বিচার চাই; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছ; আবু সাঈকে দেখা যায়, লাল-সবুজ পতাকায়; জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; আবু সাঈদ-এর রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’- সহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।