সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে মানসিকচাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা

আত্মহত্যা বর্তমানে একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। ছোটখাটো বা সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমান সমাজে আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়েই চলছে। বর্তমানে ১৮-৪০ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ বেশিরভাগ এর শিকার।  এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশেষত পারিবারিক কলহ, মনমালিন্যর মতো সাধারণ ঘটনা থেকেইে ব্রেইনে আত্মহত্যার মতো জঘন্য চিন্তা আসে।

গত সোমবার (১৯ আগস্ট) গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক তাজপুর গ্রামের মোটরসাইকেল মেকানিক শ্রী আকাশ সরকারের স্ত্রী সুমি সরকার আনুমানিক দুপুর ২ টার সময় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বিষয়টি জানাজানি হবার পর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাদুল্লাপুর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. আতাউর রহমান ও আমার ঠিকানা বাংলাদেশ সংস্থার সভাপতি মাসুম পারভেজ সরেজমিনে যান।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, আকাশ সরকার একজন মোটরসাইকের মেকানিক এবং সহজ সরল স্বভাবের। সোমবার সকাল ১১ টায় নিহতের স্বামী আকাশ সরকার খাবার খেয়ে কর্মের উদ্দেশ্য দোকানে যায়। এরই মধ্যে আকাশের স্ত্রী সুমি সরকার তার নবজাতক শিশু ৬ মাস বয়স (মেয়ে) এর অক্টোবর মাসে আকীকা ও নাম করণ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে ফোন করে স্বর্নের চেইন উপহার দেয়ার কথা বলে। কিন্তু বাবার বাড়িতে আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা উপহার দিতে পারবেনা বলে জানায়। বাবার বাড়ি কথা বলার পর উপহার না দেয়ার বিষয়টি মানসিকভাবে মেনে নিতে না পেরে সবার আড়ালে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে সিল্কের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। কিছুক্ষণ পর আকাশ সরকারের ছোট ভাই ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে এবং ডাকাডাকি করার পর দরজা না খুললে আকাশ সরকারকে মোবাইল করলে নিহতের স্বামী আকাশ দোকান থেকে বাড়ি এসে ঘরের জানালার ফাক দিয়ে দেখতে পায় তার স্ত্রী ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে দুই তিনজন মিলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে সুমি সরকার কে উদ্ধার  করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকৎিসক সুমি সরকারকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয়রা আরো জানায়,  সুমি সরকার আগে থেকেই অনেক রগচটা, খিটখিটে মেজাজের ও  ছিলো। কথায় কথায় আত্মহত্যার ভয় দেখাইতো। এ নিয়ে নিহতের স্বামী এবং বাবার পরিবারে শোকের মাতম চলছে সবার একটাই চিন্তা কি হবে এই ৬ মাস বয়সী শিশুর।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু কামাল বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মেয়ের পরিবার সাদুল্লাপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে মানসিকচাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা

প্রকাশের সময়: ০৮:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

আত্মহত্যা বর্তমানে একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। ছোটখাটো বা সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমান সমাজে আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়েই চলছে। বর্তমানে ১৮-৪০ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ বেশিরভাগ এর শিকার।  এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশেষত পারিবারিক কলহ, মনমালিন্যর মতো সাধারণ ঘটনা থেকেইে ব্রেইনে আত্মহত্যার মতো জঘন্য চিন্তা আসে।

গত সোমবার (১৯ আগস্ট) গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক তাজপুর গ্রামের মোটরসাইকেল মেকানিক শ্রী আকাশ সরকারের স্ত্রী সুমি সরকার আনুমানিক দুপুর ২ টার সময় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বিষয়টি জানাজানি হবার পর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাদুল্লাপুর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. আতাউর রহমান ও আমার ঠিকানা বাংলাদেশ সংস্থার সভাপতি মাসুম পারভেজ সরেজমিনে যান।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, আকাশ সরকার একজন মোটরসাইকের মেকানিক এবং সহজ সরল স্বভাবের। সোমবার সকাল ১১ টায় নিহতের স্বামী আকাশ সরকার খাবার খেয়ে কর্মের উদ্দেশ্য দোকানে যায়। এরই মধ্যে আকাশের স্ত্রী সুমি সরকার তার নবজাতক শিশু ৬ মাস বয়স (মেয়ে) এর অক্টোবর মাসে আকীকা ও নাম করণ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে ফোন করে স্বর্নের চেইন উপহার দেয়ার কথা বলে। কিন্তু বাবার বাড়িতে আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা উপহার দিতে পারবেনা বলে জানায়। বাবার বাড়ি কথা বলার পর উপহার না দেয়ার বিষয়টি মানসিকভাবে মেনে নিতে না পেরে সবার আড়ালে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে সিল্কের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। কিছুক্ষণ পর আকাশ সরকারের ছোট ভাই ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে এবং ডাকাডাকি করার পর দরজা না খুললে আকাশ সরকারকে মোবাইল করলে নিহতের স্বামী আকাশ দোকান থেকে বাড়ি এসে ঘরের জানালার ফাক দিয়ে দেখতে পায় তার স্ত্রী ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে দুই তিনজন মিলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে সুমি সরকার কে উদ্ধার  করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকৎিসক সুমি সরকারকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয়রা আরো জানায়,  সুমি সরকার আগে থেকেই অনেক রগচটা, খিটখিটে মেজাজের ও  ছিলো। কথায় কথায় আত্মহত্যার ভয় দেখাইতো। এ নিয়ে নিহতের স্বামী এবং বাবার পরিবারে শোকের মাতম চলছে সবার একটাই চিন্তা কি হবে এই ৬ মাস বয়সী শিশুর।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু কামাল বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মেয়ের পরিবার সাদুল্লাপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।