সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষকের স্বপ্নের ক্ষেত এখন সবুজের সমাহার

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধা জেলার দিগন্তজুড়ে নজর কাড়ছে রোপা আমন ক্ষেত। কৃষকের স্বপ্নের এ ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজে পরিণত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।

রোববার(৮ সেপ্টেম্বর) জেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে- রোপা আমন ধানের মাঠ এখন সবুজের সমাহার। কৃষকরা ইতোমধ্যে আগাছা পরিচর্যা ও সার-কিটনাশক প্রয়োগ করছেন এই ক্ষেতে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জীবন জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করেন। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। এরই ধারাবাহিকতায় বন্যাসহ নানা প্রতিকুল পেরিয়ে এবার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন এই ধানচারা। এবার অধিক ফলনের আশায় ইতিমেধ্য পরিচর্যা ও সার-কিটনাশক প্রয়োগ শুরু করছেন। এরই মধ্যে ধানের ক্ষেতগুলো সবুজ রঙ ধারণ করায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বেশ কিছু মাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণসহ পাতা ব্লাস্ট বা খোল পঁচা রোগেও দেখা দিয়েছে।

ফুলছড়ির কৃষক আজাদ ব্যাপারী বলেন, এবার কয়েক দাফায় বন্যা হয়েছে। এতে বীজতলা নষ্ট হয়। এ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে উঁচু এলাকা থেকে অধিক দামে ধানচারা ক্রয় করে তা রোপণ করা হয়। এরপর খড়ার কবলে পড়ে সেচ দিতে হয়েছে।

সম্প্রতি ধানক্ষেতে কিছু পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। এসব পোকা দমনে কিটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কোন কর্মকর্তাকে তেমন মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না। তারা যদি কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতেন তাহলে অধিক ফলন উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সাদুল্লাপুরের কৃষক লিটন মন্ডল।

সদরের কৃষক আলমগীর মিয়া জানান, গেল বন্যায় ক্ষতি পূষিয়ে নিতে চলতি রোপা আমন মৌসুমে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে এই ধানের আবাদ করেছেন। অগ্নিমূল্যে চারা-শ্রমিক-সার-কিটনাশক কিনে এখন ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষাবাদে কৃষকরা যাতে করে ভালো ফলন ঘরে উঠাতে পারে সে ব্যাপারে সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু কৃষককে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে।

কৃষকের স্বপ্নের ক্ষেত এখন সবুজের সমাহার

প্রকাশের সময়: ০৪:২২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধা জেলার দিগন্তজুড়ে নজর কাড়ছে রোপা আমন ক্ষেত। কৃষকের স্বপ্নের এ ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজে পরিণত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।

রোববার(৮ সেপ্টেম্বর) জেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে- রোপা আমন ধানের মাঠ এখন সবুজের সমাহার। কৃষকরা ইতোমধ্যে আগাছা পরিচর্যা ও সার-কিটনাশক প্রয়োগ করছেন এই ক্ষেতে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জীবন জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করেন। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। এরই ধারাবাহিকতায় বন্যাসহ নানা প্রতিকুল পেরিয়ে এবার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন এই ধানচারা। এবার অধিক ফলনের আশায় ইতিমেধ্য পরিচর্যা ও সার-কিটনাশক প্রয়োগ শুরু করছেন। এরই মধ্যে ধানের ক্ষেতগুলো সবুজ রঙ ধারণ করায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বেশ কিছু মাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণসহ পাতা ব্লাস্ট বা খোল পঁচা রোগেও দেখা দিয়েছে।

ফুলছড়ির কৃষক আজাদ ব্যাপারী বলেন, এবার কয়েক দাফায় বন্যা হয়েছে। এতে বীজতলা নষ্ট হয়। এ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে উঁচু এলাকা থেকে অধিক দামে ধানচারা ক্রয় করে তা রোপণ করা হয়। এরপর খড়ার কবলে পড়ে সেচ দিতে হয়েছে।

সম্প্রতি ধানক্ষেতে কিছু পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। এসব পোকা দমনে কিটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কোন কর্মকর্তাকে তেমন মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না। তারা যদি কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতেন তাহলে অধিক ফলন উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সাদুল্লাপুরের কৃষক লিটন মন্ডল।

সদরের কৃষক আলমগীর মিয়া জানান, গেল বন্যায় ক্ষতি পূষিয়ে নিতে চলতি রোপা আমন মৌসুমে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে এই ধানের আবাদ করেছেন। অগ্নিমূল্যে চারা-শ্রমিক-সার-কিটনাশক কিনে এখন ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষাবাদে কৃষকরা যাতে করে ভালো ফলন ঘরে উঠাতে পারে সে ব্যাপারে সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু কৃষককে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে।