শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লগি-বৈঠা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা শেখ হাসিনা: মাজেদুর 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাবেক সদস্য, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমান সরকার বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম একটি দিন। বর্বরতম ঘটনার নির্মম দলিল। সেদিন এমন ন্যক্কারজনক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন আলোচিত হবে ততদিন ২৮ অক্টোবরও আলোচনা হবে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার হত্যাকাণ্ডের ‘মূলহোতা’ হলেন শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট হাসিনাই সেদিন ডাক দিয়েছিলেন সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসতে। সেদিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেশজুড়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লগি-বৈঠা তাণ্ডবে নিহতদের স্মরণ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, একদলীয় শাসনের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সেদিন রাজপথে তাণ্ডব চালায় আওয়ামী লীগ। রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার পর সেই লাশের ওপর নৃত্যের ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম নৃশংস ঘটনা। এই তাণ্ডব হঠাৎ করে ঘটেনি। লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে এসে প্রতিপক্ষকে দমনের ঘোষণা ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। সেদিনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। সে কারণেই আওয়ামী লীগ সেদিন দিনব্যাপী তাণ্ডব চালাতে পেরেছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু।

জামায়াতের আমীর বলেন, ২৮ অক্টোবর শহীদ মুজাহিদ, শহীদ শিপন, শহীদ হাবিবের মতো তাজা প্রাণগুলো শাহাদাতের অন্তিম স্বাদ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে তাদের এই আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়-যুগ যুগ ধরে সজীব থাকবে আমাদের মননে ও লাননে।

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাবেক সদস্য ও রংপুর মহানগরীর সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আতাউর রহমান ও পৌর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ একরামুল হকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল আমিন, উপজেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি এসএস সাজ্জাদ হোসাইন আমুস, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শাহজাহান আলী, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইব্রাহিম আলী সরকার, সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম নয়ন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা এইচআরডি সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা শেষে ভয়াল আটাশ অক্টোবরের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবলীলার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে জামায়াত, শিবির, যুব জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লগি–বৈঠার আঘাতে ঢাকাসহ সারাদেশে ২৬ জন জামাত শিবিরের নেতাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদ, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

জনপ্রিয়

লগি-বৈঠা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা শেখ হাসিনা: মাজেদুর 

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাবেক সদস্য, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমান সরকার বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম একটি দিন। বর্বরতম ঘটনার নির্মম দলিল। সেদিন এমন ন্যক্কারজনক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন আলোচিত হবে ততদিন ২৮ অক্টোবরও আলোচনা হবে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার হত্যাকাণ্ডের ‘মূলহোতা’ হলেন শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট হাসিনাই সেদিন ডাক দিয়েছিলেন সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসতে। সেদিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেশজুড়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লগি-বৈঠা তাণ্ডবে নিহতদের স্মরণ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, একদলীয় শাসনের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সেদিন রাজপথে তাণ্ডব চালায় আওয়ামী লীগ। রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার পর সেই লাশের ওপর নৃত্যের ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম নৃশংস ঘটনা। এই তাণ্ডব হঠাৎ করে ঘটেনি। লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে এসে প্রতিপক্ষকে দমনের ঘোষণা ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। সেদিনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। সে কারণেই আওয়ামী লীগ সেদিন দিনব্যাপী তাণ্ডব চালাতে পেরেছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু।

জামায়াতের আমীর বলেন, ২৮ অক্টোবর শহীদ মুজাহিদ, শহীদ শিপন, শহীদ হাবিবের মতো তাজা প্রাণগুলো শাহাদাতের অন্তিম স্বাদ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে তাদের এই আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়-যুগ যুগ ধরে সজীব থাকবে আমাদের মননে ও লাননে।

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাবেক সদস্য ও রংপুর মহানগরীর সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আতাউর রহমান ও পৌর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ একরামুল হকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল আমিন, উপজেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি এসএস সাজ্জাদ হোসাইন আমুস, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শাহজাহান আলী, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইব্রাহিম আলী সরকার, সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম নয়ন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা এইচআরডি সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা শেষে ভয়াল আটাশ অক্টোবরের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবলীলার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে জামায়াত, শিবির, যুব জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লগি–বৈঠার আঘাতে ঢাকাসহ সারাদেশে ২৬ জন জামাত শিবিরের নেতাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদ, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।