মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে তামাক চাষ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

নিভৃত গ্রামাঞ্চলে বিস্তীর্ণ কৃষি মাঠ। এখানে অধিক ফসল উৎপাদন উপযোগী আবাদী জমি। সেখানে নানা ফসল ছেড়ে লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে চাষির পরিবার ও আশপাশের লোকজনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা ফরিদপুর ইউনিয়নের সাবেক জামালপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- তামাক আবাদের দৃশ্য। এ খেতেই স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে পরিচর্যাসহ তামাক পাতা সংগ্রহ করেছেন এখানকার কৃষকরা।

এই এলাকার কৃষক অতুল চন্দ্র, নিমাই সরকার, রমনী কান্ত দীপক চন্দ্র ও মিলন সরকারসহ আরও বহু কৃষক প্রায় ১৭ একর জমিতে তামাক আবাত করেছেন। তারা  বহুজাতিক কোম্পানির অর্থায়নে এবং প্রলোভনে প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে তামাক চাষে যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন টোবাকো কোম্পানির মাধ্যমে এই আবাদ করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- বিভিন্ন টোব্যাকোসহ বিভিন্ন বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা তৈরির প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু কোম্পানি নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে সাদুল্লাপুরের কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। এই কোম্পানিগুলো থেকে কৃষকদের  বীজ, সার, কীটনাশকসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। আবার কোম্পানিগুলোই তামাক পাতা কিনে নেয়। যা থেকে লাভবান হন কৃষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যানসার, পেটের পীড়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, চর্ম, বুক ও ঘাড়ে ব্যথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। তামাক চাষিদেরও জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে

স্থানীয় সবজু মিয়া ও শুভ মন্ডল বলেন, এই এলাকায় হঠাৎ করে তামাক আবাদ বৃদ্ধির কারনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি জমি হারাচ্ছে উর্রা শক্তি। আর হ্রাস পাচ্ছে অন্যান্য খাদ্য উৎপাদন ফসল।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্রাচার্য বলেন- তামাক কোন ভালো ফসল না। এটি পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকারক। আমরা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তামাক চাষের জন্য নিরুৎসাহিত করছি।

বাড়ছে তামাক চাষ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের সময়: ০৬:২৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নিভৃত গ্রামাঞ্চলে বিস্তীর্ণ কৃষি মাঠ। এখানে অধিক ফসল উৎপাদন উপযোগী আবাদী জমি। সেখানে নানা ফসল ছেড়ে লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে চাষির পরিবার ও আশপাশের লোকজনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা ফরিদপুর ইউনিয়নের সাবেক জামালপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- তামাক আবাদের দৃশ্য। এ খেতেই স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে পরিচর্যাসহ তামাক পাতা সংগ্রহ করেছেন এখানকার কৃষকরা।

এই এলাকার কৃষক অতুল চন্দ্র, নিমাই সরকার, রমনী কান্ত দীপক চন্দ্র ও মিলন সরকারসহ আরও বহু কৃষক প্রায় ১৭ একর জমিতে তামাক আবাত করেছেন। তারা  বহুজাতিক কোম্পানির অর্থায়নে এবং প্রলোভনে প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে তামাক চাষে যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন টোবাকো কোম্পানির মাধ্যমে এই আবাদ করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- বিভিন্ন টোব্যাকোসহ বিভিন্ন বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা তৈরির প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু কোম্পানি নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে সাদুল্লাপুরের কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। এই কোম্পানিগুলো থেকে কৃষকদের  বীজ, সার, কীটনাশকসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। আবার কোম্পানিগুলোই তামাক পাতা কিনে নেয়। যা থেকে লাভবান হন কৃষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যানসার, পেটের পীড়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, চর্ম, বুক ও ঘাড়ে ব্যথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। তামাক চাষিদেরও জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে

স্থানীয় সবজু মিয়া ও শুভ মন্ডল বলেন, এই এলাকায় হঠাৎ করে তামাক আবাদ বৃদ্ধির কারনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি জমি হারাচ্ছে উর্রা শক্তি। আর হ্রাস পাচ্ছে অন্যান্য খাদ্য উৎপাদন ফসল।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্রাচার্য বলেন- তামাক কোন ভালো ফসল না। এটি পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকারক। আমরা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তামাক চাষের জন্য নিরুৎসাহিত করছি।