শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নয় বছরেও বিচার হয়নি গাইবান্ধার ৩ সাঁওতাল হত্যার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার নয় বছরেও হয়নি। বাস্তবায়িত হয়নি কোনো আশার বাণী। নির্যাতনের শিকার আদিবাসী সাঁওতালরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন অভিযোগে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবসে’ বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জনউদ্যোগ গাইবান্ধা যৌথভাবে এসব কর্মসূচি পালন করে।

বক্তারা আরও বলেন, শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ ৩৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু বিচার হওয়া তো দূরের কথা মামলার আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বুলবুল আকন্দসহ অন্যান্য মূল আসামীদের কেউই গ্রেফতার হয়নি। এছাড়া সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামারের সাঁওতালদেও বসবাসকৃত ১ হাজার ৮৪২ একর পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে নানান আয়োজনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ পালিত হয়। সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে সাঁওতালরা জাতীয় ও কালো পতাকা, তীর-ধনুক, বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুনসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গাইবান্ধা শহরে আসে। পরে স্থানীয় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (গানাসাস) সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে সমাবেশে মিলিত হয়।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, অ্যাড, রফিক আহমেদ সিরাজী, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদেও আহবায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, বাসদ নওগাঁ’র জয়নাল আবেদীন মুকুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদেও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিচিত্রা তির্কি, আদিবাসী নেতা বিমল খালকো, মানবাধিকার কর্মী গোলাম রব্বানী মুসাসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্ত্তী। শেষে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতালী প্রবাসী শিল্পী সাজ্জাদ জহির নাজিমের একটি সংগীত বাজিয়ে শোনানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মহিমাগঞ্জ সুগার মিল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিন সাঁওতাল মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামলহেমব্রম মারা যান। অগ্নিসংযোগে পুড়ে যায় সাঁওতালদের ঘরবাড়ি।

 

জনপ্রিয়

নয় বছরেও বিচার হয়নি গাইবান্ধার ৩ সাঁওতাল হত্যার

প্রকাশের সময়: ০৫:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার নয় বছরেও হয়নি। বাস্তবায়িত হয়নি কোনো আশার বাণী। নির্যাতনের শিকার আদিবাসী সাঁওতালরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন অভিযোগে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবসে’ বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জনউদ্যোগ গাইবান্ধা যৌথভাবে এসব কর্মসূচি পালন করে।

বক্তারা আরও বলেন, শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ ৩৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু বিচার হওয়া তো দূরের কথা মামলার আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বুলবুল আকন্দসহ অন্যান্য মূল আসামীদের কেউই গ্রেফতার হয়নি। এছাড়া সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামারের সাঁওতালদেও বসবাসকৃত ১ হাজার ৮৪২ একর পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে নানান আয়োজনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ পালিত হয়। সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে সাঁওতালরা জাতীয় ও কালো পতাকা, তীর-ধনুক, বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুনসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গাইবান্ধা শহরে আসে। পরে স্থানীয় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (গানাসাস) সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে সমাবেশে মিলিত হয়।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, অ্যাড, রফিক আহমেদ সিরাজী, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদেও আহবায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, বাসদ নওগাঁ’র জয়নাল আবেদীন মুকুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদেও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিচিত্রা তির্কি, আদিবাসী নেতা বিমল খালকো, মানবাধিকার কর্মী গোলাম রব্বানী মুসাসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্ত্তী। শেষে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতালী প্রবাসী শিল্পী সাজ্জাদ জহির নাজিমের একটি সংগীত বাজিয়ে শোনানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মহিমাগঞ্জ সুগার মিল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিন সাঁওতাল মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামলহেমব্রম মারা যান। অগ্নিসংযোগে পুড়ে যায় সাঁওতালদের ঘরবাড়ি।