শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশে উড়ল ক্ষুদে বিজ্ঞানীর তৈরি বিমান ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’

দারিদ্রতার মাঝেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে ছোট আকারের খেলনা বিমান তৈরি করেছেন অনুকূল রায় নামে এক কিশোর। এ বিমানের নাম দিয়েছেন ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’। এ বিমানটি যখন আকাশে উড়ছে তখন সবার চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। বিমানের উড্ডয়ন দেখে উপস্থিত লোকজনের অনেকেই প্রাপ্তির ঢেকুর তুলে বলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরের তৈরি করা বিমান আকাশে উড্ডয়নের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুকূল রায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের রনজিৎ রায়ের ছেলে। সে উপজেলার আঙ্গারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি সে তার নিজ হাতে তৈরিকৃত বিমান ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’ আকাশে উড়িয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্বে টানা ১০-১৫ মিনিট উড়তে সক্ষম বিমানটি। বিমানটির উড্ডয়ন দেখতে শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোরসহ শতাধিক মানুষ ভিড় করেন।

অনুকূলের পিতা রনজিৎ রায় পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। অনুকূল সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে পিতার সাহায্য-সহযোগিতায় এ বিমানটি তৈরি করেন।

বিমানের মূল কাঠামো কর্কশিট দিয়ে তৈরি। এছাড়াও বিমানটিতে রয়েছে রেডিও কন্ট্রোলার, লিপো ব্যাটারি, প্রপেলার, স্পিড কন্ট্রোলার, বিএলডিসি মোটর, কার্বো মোটর, ছোট ফ্যান ও চাকা। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানটি উড্ডয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে অন্তত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অনুকূল রায় জানান, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার কৌতূহল কাজ করে। প্রায় দুই বছর গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সঠিক সাহায্য-সহযোগিতা পেলে আরও বড় কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব।

অনুকূলের পিতা রনজিৎ রায় বলেন, আমার সামর্থ্য সীমিত হলেও ছেলের স্বপ্নপূরণে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সম্প্রতি বিমান তৈরি করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা নজর দিলে ছেলের স্বপ্ন আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়িত হবে।

স্থানীয় শিক্ষক পরাণ চন্দ্র রায় বলেন, এমন উদ্ভাবনে এলাকাবাসি গর্বিত। তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই সহায়ক।

স্থানীয়দের মতে, অনুকূলের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং পুরো উপজেলার তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক সাড়া পেলে তার স্বপ্ন আরও বৃহৎ স্থানে পৌঁছাবে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, অনুকূলের এই উদ্ভাবনী সাফল্য প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।

জনপ্রিয়

আকাশে উড়ল ক্ষুদে বিজ্ঞানীর তৈরি বিমান ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’

প্রকাশের সময়: ০৮:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দারিদ্রতার মাঝেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে ছোট আকারের খেলনা বিমান তৈরি করেছেন অনুকূল রায় নামে এক কিশোর। এ বিমানের নাম দিয়েছেন ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’। এ বিমানটি যখন আকাশে উড়ছে তখন সবার চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। বিমানের উড্ডয়ন দেখে উপস্থিত লোকজনের অনেকেই প্রাপ্তির ঢেকুর তুলে বলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরের তৈরি করা বিমান আকাশে উড্ডয়নের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুকূল রায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের রনজিৎ রায়ের ছেলে। সে উপজেলার আঙ্গারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি সে তার নিজ হাতে তৈরিকৃত বিমান ‘দ্য রয়েল স্কাই-১১০’ আকাশে উড়িয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্বে টানা ১০-১৫ মিনিট উড়তে সক্ষম বিমানটি। বিমানটির উড্ডয়ন দেখতে শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোরসহ শতাধিক মানুষ ভিড় করেন।

অনুকূলের পিতা রনজিৎ রায় পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। অনুকূল সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে পিতার সাহায্য-সহযোগিতায় এ বিমানটি তৈরি করেন।

বিমানের মূল কাঠামো কর্কশিট দিয়ে তৈরি। এছাড়াও বিমানটিতে রয়েছে রেডিও কন্ট্রোলার, লিপো ব্যাটারি, প্রপেলার, স্পিড কন্ট্রোলার, বিএলডিসি মোটর, কার্বো মোটর, ছোট ফ্যান ও চাকা। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানটি উড্ডয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে অন্তত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অনুকূল রায় জানান, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার কৌতূহল কাজ করে। প্রায় দুই বছর গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সঠিক সাহায্য-সহযোগিতা পেলে আরও বড় কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব।

অনুকূলের পিতা রনজিৎ রায় বলেন, আমার সামর্থ্য সীমিত হলেও ছেলের স্বপ্নপূরণে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সম্প্রতি বিমান তৈরি করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা নজর দিলে ছেলের স্বপ্ন আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়িত হবে।

স্থানীয় শিক্ষক পরাণ চন্দ্র রায় বলেন, এমন উদ্ভাবনে এলাকাবাসি গর্বিত। তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই সহায়ক।

স্থানীয়দের মতে, অনুকূলের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং পুরো উপজেলার তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক সাড়া পেলে তার স্বপ্ন আরও বৃহৎ স্থানে পৌঁছাবে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, অনুকূলের এই উদ্ভাবনী সাফল্য প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।