গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিজের ছেলে ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ভাগিনাকে নিয়োগ দিতে মাদরাসা সুপারেরর কিরুদ্ধে সিমাহীন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের নিমিত্তে প্রিজাইডিং অফিসার মনোনয়ন চেয়ে বজরা কঞ্চিবাড়ী বজরা মজিদিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার শহিদুর রহমান গত বছরের ১৮ আগস্ট আবেদন করেন। এরপর তৎকালীন ইউএনও রাজ কুমার বিশ্বাস ওই তারিখে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হোসেনকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে প্রিজাইডিং অফিসার বেলাল হোসেন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। এরপরে সুপার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন ও জমা দেন। কমিটি গঠনে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি সুপার। সে কারণে কমিটি করা সম্ভব হয়নি। অথচ ওই সুপার ম্যানেজিং কমিটি গঠন দেখিয়ে পত্রিকায় ৫ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ৫ পদের গত ২০ মার্চ দুই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সুপারের ছেলেকে দেওয়া হয় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ও সভাপতির ভাগিনাকে দেওয়া হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে। বাকি ৩ পদ ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী ও অফিস সহায়ক পদেও নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারাও চলছে।
এদিকে সুপার হয়ে নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতে আইনী জটিলতা থাকায় মাদরাসার সহকারী সুপার গোলজার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দিয়ে এ নিয়োগ দুটি পার করা হয়। নিয়োগ কমিটির ৫ সদস্যের মধ্যে ডিজির প্রতিনিধি ছাড়া বাকি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়গুলো জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দূর্নীতিবাজ সুপার এবং সভাপতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান।
এ বিষয়ে কথা হয় নিয়োগ কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি সুমন্ত চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমিও শুনেছি নিয়োগ কমিটির সদস্য করা হয়েছে আমাকে। এর বেশি কিছু জানি না।
আরেক নিয়োগ কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমানের বলেন, বিধি মোতাবেক যে সিস্টেমে কমিটি গঠন হওয়ার কথা সে সিস্টেমে করা হয়নি। বলেছি এ কমিটি আমরা মানি না এবং মানবোও না।
মাদরাসার সহকারী সুপার মাওলানা গোলজার হোসেন বলেন, আমার জানামতে এ প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়নি। তাছাড়াও বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হোসেন স্যারের মাধ্যমে। তিনিও বলেছেন কমিটি গঠন করা হয়নি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ কমিটিতে আমাকে নাকি ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখানো হয়েছে। সুপার হুজুর তার নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতেই নাকি এ জাল জালিয়াতি করেছেন। কারণ সুপার হয়ে তিনি নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতে আইনী জটিলতা রয়েছে।
অভিযুক্ত সুপার শহিদুর রহমান বলেন, কমিটি হয়েছে। তবে নিয়োগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভুয়া কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম আলী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার পদে নিয়োগ পেয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেই। পরে সুপার মনোনয়নপত্র জমা দেনমাত্র। ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বাকি ধাপগুলো সুপার আর করেননি। সে কারণে ওই মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ঈদের আগে দিন ডিজির প্রতিনিধি এ বিষয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকায় আসতে পারিনি। কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে নিয়োগ দিতে বলেছি। এখন শুনতেছি ওই মাদরাসায় কমিটিও নাকি হয়নি। এটা প্রমাণিত হলে নিয়োগও টিকবে না।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















