গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে নেতৃত্বের হিসাব-নিকাশ। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইবনে সিনের নাম উঠে এসেছে। তাঁর সমর্থকেরা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যোগ্যতার পক্ষে তুলে ধরছেন। এখন নতুন কমিটিকে ঘিরে নেতৃত্বের লড়াইয়ে ইবনে সিন এগিয়ে আছেন বলে সমর্থকদের দাবি।
ইতোমধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রদলের তৃণমূলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য পদপ্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন কমিটির পদগুলোতে কারা দায়িত্ব পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইবনে সিন সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি উপজেলার ৪ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের ছোট দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁদের ভাষ্য, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার মূল্যায়ন করা হলে ইবনে সিন বিবেচনায় আসতে পারেন।
সমর্থকরা জানায়, ২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ শিরোনামের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও ইবনে সিনের নাম রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন রাখু এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইবনে সিনকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছিল।
ইবনে সিনের সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা মো. টেলিজার রহমান বাচ্চু সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও গাইবান্ধা জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য বলে জানানো হয়েছে।
সমর্থকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশ ইবনে সিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় ভূমিকা রেখেছে। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাই নতুন কমিটিতে তাঁর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইবনে সিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাদুল্লাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত।
সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এখন কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা—এসব বিষয় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইবনে সিনের সমর্থকেরা তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। শেষ পর্যন্ত সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করবে সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার ওপর।
এ বিষয়ে মো. ইবনে সিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করাকে অগ্রাধিকার দেব।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















