লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বাঘের হামলায় তিনজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘটিকে উদ্ধারে ড্রোন ও থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করেও সফল হতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বন বিভাগ। অবশেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল বাঘটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় বাঘের হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন শরীফা বেগম, নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে সীমান্তবর্তী এলাকায় যান শরীফা বেগম। এ সময় হঠাৎ একটি বাঘ তাঁর ওপর আক্রমণ করে। তাঁর চিৎকার শুনে উদ্ধারে এগিয়ে যান নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী। একপর্যায়ে তাঁরাও বাঘটির হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবি সূত্র জানায়, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধীন বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১-এস-এর কাছাকাছি উত্তর আমঝোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে বাঘটি ঘটনাস্থল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।
বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে রাতেই প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান শুরু করে বিজিবি। সীমান্তবর্তী জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় ড্রোন এবং থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে অবস্থান শনাক্ত হলেও রাতের অভিযানে সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বাঘটি যাতে পুনরায় লোকালয়ে প্রবেশ করে মানুষের ওপর আক্রমণ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লালমনিরহাট বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
তবে ড্রোন ও থার্মাল ক্যামেরার সাহায্যে বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও সেটিকে নিরাপদে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে সোমবার ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে চলা এ অভিযানে বাঘটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বাঘটি উদ্ধার না হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত বাঘটি উদ্ধার করে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















