নদীভাঙনে ঘর হারানো, বন্যায় ফসলহানি কিংবা অভাবের সংসারে নিত্যদিনের টানাপোড়েন—গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষের কাছে এসব যেন জীবনেরই অংশ। প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এসব পরিবারের কাছে একটু স্বস্তির স্বপ্নও অনেক সময় অধরা থেকে যায়। এবার সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে ৬০ হাজার টাকার শর্তহীন আর্থিক সহায়তা। এককালীন এই অনুদান পেতে যাচ্ছেন জেলার চরাঞ্চলের ৮ হাজার ৫০০ পরিবার।
এই অর্থ দিয়ে কেউ ভাঙা ঘর মেরামত করবেন, কেউ কিনবেন গবাদিপশু, কেউ আবার শুরু করবেন ছোটখাটো ব্যবসা। সন্তানের পড়াশোনা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগও তৈরি হবে। অর্থাৎ, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, সেই সিদ্ধান্ত থাকবে পরিবারগুলোর নিজেদের হাতেই।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধার জিইউকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন জিইউকের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম।
তিনি জানান, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মোট ৮ হাজার ৫০০ পরিবার এ সহায়তার আওতায় আসবে। প্রতিটি পরিবারকে দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে ৬০ হাজার টাকা। প্রথম কিস্তিতে চলতি নভেম্বর মাসে ৯ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আগামী ডিসেম্বরে বাকি ৫১ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
দরিদ্র চরাঞ্চলীয় পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় টেকসই পরিবর্তন আনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘চয়েস, হোপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (চর) বাংলাদেশ প্রকল্প’। আন্তর্জাতিক সংস্থা গিভডিরেক্টলির সহযোগিতায় স্থানীয় সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের বিশেষ দিক হলো, অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের ওপর কোনো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করতে পারবে। ফলে প্রচলিত সহায়তা কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নিজেদের জীবন ও জীবিকার সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
এম. আবদুস্ সালাম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবারগুলো যাতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জিইউকের পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুন নূর রিশাত, গিভডিরেক্টলির অ্যাসোসিয়েট ফিল্ড ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী জয়া প্রসাদ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















