শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে ইলিশের স্বাদ নিতে ব্যর্থ দিনমজুররা

কয়েক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ইলিশ মাছ তেমনটি চোখে না পড়েলেও সম্প্রতি তা আসতে শুরু করছে। সুস্বাদু এই মাছ কেনার জন্য অনেকে বাজারে ভিড় জমালেও কিন্তু ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন না দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা। আকাশ চুম্বি দামের কারণে একেবারেই তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

সরেজিমেন বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে পলাশবাড়ীর মাছ বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খাঁচার উপরে শোভাবর্ধন করে সাজিয়ে রাখা ইলিশের দৃশ্য। এখানে মানভেদে প্রতিকেজি ইলিশ ৬০০ থেকে এক হাজার দামের বিক্রি করছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এসময় উচ্চবিত্ত পরিবারের মানুষেরা ইলিশ কিনতে ভিড় জমছিল অনেকটাই। জাতীয় এই মাছের ঘ্রাণ নিতে ২ থেকে ৪ কেজি করে ইলিশ কিনছিলেন তারা। তবে ওই বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষদের আনাগোনা দেখা গেলেও, অতিরিক্ত দামের কারণে খালি হাতে ফিরছিলেন বাড়িতে। মন চাইলেও অধিক দামের ফলে ইলিশের স্বাদ নিতে ব্যর্থ তারা।

বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, জাতীয় মাছ ইলিশ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে আনার জন্য সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৮৪ ভাগ। নদ-নদীতে প্রচুর সংখ্যক ইলিশ ধরাও পড়ছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে ইলিশ মাছগুলো।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইলিশের উৎপাদন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীন নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে অচেনা এসব ইলিশ। আড়তে এবং আড়ত থেকে পাইকারি বাজারে যাওয়ার সাথে সাথেই মাছের দাম বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। অসাধু ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে আরো অধিক দামে। যার ফলে খেটে খাওয়া, দিনমজুর মানুষেরা আর ইলিশ মাছ কিনে খেতে পারছেন না।

মাছ বাজারে আসা রিকশা চালক খলিল মিয়া বলেন, অনেক দিন যাবত ইলিশ মাছ খাওয়া হয় না। স্ত্রী-সন্তানের আবদার মেটাতে বাজারে ইলিশ কিনতে আসা হলেও তা অতিরিক্ত দামের কারণে কেনা সম্ভব হলো না।

ক্ষুদ্র ইলিশ ব্যবসায় নবীর হোসেন জানান, আড়ৎ থেকে অধিক দামে কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।বড়ো বড়ো আড়তে দাম কমলেও স্থানীয় বাজারেও কমে বিক্রি করা যাবে।

নজরুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষক জানান, সরকার যেভাবে ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়িয়েছে, সেভাবে ইলিশ মাছের বাজার মনিটরিং করা হলে দিনমজুর মানুষেরাও ইলিশ মাছ খেয়ে তাদের রসনা তৃপ্ত করার সুযোগ পেতো।

 

পলাশবাড়ীতে ইলিশের স্বাদ নিতে ব্যর্থ দিনমজুররা

প্রকাশের সময়: ০৯:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

কয়েক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ইলিশ মাছ তেমনটি চোখে না পড়েলেও সম্প্রতি তা আসতে শুরু করছে। সুস্বাদু এই মাছ কেনার জন্য অনেকে বাজারে ভিড় জমালেও কিন্তু ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন না দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা। আকাশ চুম্বি দামের কারণে একেবারেই তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

সরেজিমেন বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে পলাশবাড়ীর মাছ বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খাঁচার উপরে শোভাবর্ধন করে সাজিয়ে রাখা ইলিশের দৃশ্য। এখানে মানভেদে প্রতিকেজি ইলিশ ৬০০ থেকে এক হাজার দামের বিক্রি করছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এসময় উচ্চবিত্ত পরিবারের মানুষেরা ইলিশ কিনতে ভিড় জমছিল অনেকটাই। জাতীয় এই মাছের ঘ্রাণ নিতে ২ থেকে ৪ কেজি করে ইলিশ কিনছিলেন তারা। তবে ওই বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষদের আনাগোনা দেখা গেলেও, অতিরিক্ত দামের কারণে খালি হাতে ফিরছিলেন বাড়িতে। মন চাইলেও অধিক দামের ফলে ইলিশের স্বাদ নিতে ব্যর্থ তারা।

বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, জাতীয় মাছ ইলিশ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে আনার জন্য সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৮৪ ভাগ। নদ-নদীতে প্রচুর সংখ্যক ইলিশ ধরাও পড়ছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে ইলিশ মাছগুলো।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইলিশের উৎপাদন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীন নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে অচেনা এসব ইলিশ। আড়তে এবং আড়ত থেকে পাইকারি বাজারে যাওয়ার সাথে সাথেই মাছের দাম বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। অসাধু ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে আরো অধিক দামে। যার ফলে খেটে খাওয়া, দিনমজুর মানুষেরা আর ইলিশ মাছ কিনে খেতে পারছেন না।

মাছ বাজারে আসা রিকশা চালক খলিল মিয়া বলেন, অনেক দিন যাবত ইলিশ মাছ খাওয়া হয় না। স্ত্রী-সন্তানের আবদার মেটাতে বাজারে ইলিশ কিনতে আসা হলেও তা অতিরিক্ত দামের কারণে কেনা সম্ভব হলো না।

ক্ষুদ্র ইলিশ ব্যবসায় নবীর হোসেন জানান, আড়ৎ থেকে অধিক দামে কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।বড়ো বড়ো আড়তে দাম কমলেও স্থানীয় বাজারেও কমে বিক্রি করা যাবে।

নজরুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষক জানান, সরকার যেভাবে ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়িয়েছে, সেভাবে ইলিশ মাছের বাজার মনিটরিং করা হলে দিনমজুর মানুষেরাও ইলিশ মাছ খেয়ে তাদের রসনা তৃপ্ত করার সুযোগ পেতো।