ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। গণভোটসহ এখন চলছে গণনা কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে শুরু যা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও দুপুর ২ টার পর থেকে বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। তবে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
আজ সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ভোটারের দীর্ঘ লাইনে উপচেপড়া ভির লক্ষ্য করা গেছে। এসব ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের উপস্থিত বেশি ছিলো। ভোটগ্রহণ সময় পর্যন্ত ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৭২ হাজার, ৪৬৮ জন ভোটার রয়েছে। এখানে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের ও স্বতন্ত্র মোট ৪০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন
এখানে ৮ জন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল মোহাম্মদ আলী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাজেদুর রহমান, লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকের রমজান আলী, কাঁচি প্রতীকের পরমানন্দ দাস, প্রজাপতী প্রতীকের কওছর আজম হান্নু, কলস প্রতীকের ছালমা আক্তার ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী মোস্তফা মহসিন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন
এখানে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে- ধানীর শীষ প্রতীক প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল করিম, লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশীদ সরকার, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ, কলম প্রতীকের শাহেদুর জাহান, কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ ও কাঁচি প্রতীক প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসন
এখানে ১০ জন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, লাঙল প্রতীকের মইনুর রাব্বী চৌধুরী, ট্রাক প্রতীকের সুরুজ মিয়া, হাতপাখা প্রতীকের এটিএম আওলাদ হোসাইন, কাস্তে প্রতীকের আব্দুল্লাহ আদিল, আপেল প্রতীকের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, কলম প্রতীকের মনজুরুল হক, ঘোড়া প্রতীকের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন
এখানে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুর রহিম সরকার, লাঙল প্রতীকের কাজী মো. মশিউর রহমান, হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন, কোদাল প্রতীকের আতোয়ারুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন
এখানে ৯ জন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী ফারুক আলম সরকার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল ওয়ারেছ, লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকের আজিজুল ইসলাম, কাঁচি প্রতীকের রাহেলা খাতুন, কাস্তে প্রতীকের শ্রী নিরমল, হাঁস প্রতীকের নাহিদুজ্জামান নিশাদ, ঘোড়া প্রতীকের মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু।
সরেজমিনে দেখা গেছে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো। এখানকার শৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্গম চরাঞ্চলে রয়েছে হেলিকপ্টারে কাজ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। চরাঞ্চলের বিদ্যুৎবিহীন ১১টি কেন্দ্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোটা জেলার নিরাপত্তার ব্যবস্থায় ৪০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১ হাজার ১৫০ জন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা-সদস্য, ১৫ প্লাটুন বিজিপি, ২ হাজারের বেশি পুলিশ, রাবের ১৫ টি টিম, ৮ হাজার ৭৭৫ জন আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং অসংখ্য নৌ-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















