শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুলিয়ারচরে প্রবাসীর ক্রয় করা জমিতে মাদ্রসা নির্মাণে বাধা

Exif_JPEG_420

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মসজিদ-মাদ্রাসা করার জন্য সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল এর সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করা জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দেয়াসহ হুমকি-ধামকির অভিযোগ উঠেছে

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টম্বর) সকালে সরেজমিনে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নলবাইদ মধ্যপাড়া গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব প্রাবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল একই গ্রামের মৃত কাছম আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া ওরুফে ফেরু’র কাছ থেকে ৮ গণ্ডা জমি সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করে ঐ জমিতে একটি মক্তব তৈরি করে তিনি সৌদি আরবে চলে যায়। পরে সৌদি আরব থেকে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ জমিতে একটি মসজিদ ও একটি মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। পূর্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি তার সাভারের বাড়ি থেকে নিজ গ্রাম নলবাইদ মধ্যপাড়া এসে গত ২২ আগস্ট রোববার সকালে ঐ জমিতে একটি মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণ করার জন্য কাজের লোক সহ কিছু সিমেন্টের তৈরি পিলার নিয়ে যায়। এই সংবাদ পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ও তার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন তাদের দল-বল নিয়ে জমিতে গিয়ে বিল্লালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দেয় এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিল্লাল তখন এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে প্রবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল টেলিফোনে এবং ইমু বার্তার মাধ্যমে জানায়, নলবাইদ মধ্যপাড়া গ্রামে শতশত শিশু-কিশোর রয়েছে। অথচ ঐ গ্রামের মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে ঐ গ্রামের শিশু-শিশুকিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমি ঐ গ্রামের মৃত কাছম আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া ওরুফে ফেরু’র কাছ থেকে ৮ গণ্ডা জমি সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করি একটি মসজিদ ও একটি মহিলা মাদ্রাসা করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট রোববার সকালে ঐ জমিতে মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য কাজের লোকজন সহ সিমেন্টের তৈরি পিলার নিয়ে যায়। এই সংবাদ পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ও তার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন তাদের দল-বল নিয়ে জমিতে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থা থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় আমি প্রাণে রক্ষা পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রথমে নরসিংদী, পরে সাভার ও এর ২/৩ দিন পর সৌদি আরবে চলে আসি।

তিনি আরো জানান, তারা ভূমি সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু এবং এলাকার মানুষের সাথে তারা সবসময় ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকে।

এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা প্রদান ও হুমকি ধামকির কথা অস্বীকার করে বলেন, বিল্লাল আমাদের ভাতিজা। সে মাদ্রাসা করলে এলাকার জন্য ভালো এবং আমাদের সুনাম। এ ছাড়াও ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার কাজে আমরা তাকে বাধা দেব কেন? তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সে যেহেতু মাদ্রাসা করবে সেহেতু বাড়ির সকলকে ডেকে নিয়ে বসে এটার উদ্বোধন করা উচিৎ ছিল।

তিনি আরো বলেন, জমিটা আমার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন এবং বিল্লাল দুইজনে মিলেই ক্রয় করেছে। কিন্তু কে কোন দিক থেকে নেবে এই সিদ্ধান্ত না করে, এমনকি বাড়ির মুরুব্বিদের সাথে পরামর্শ ছাড়া হুট করেই মাদ্রাসা নির্মাণ করবে এই কাজটি সে ঠিক করেনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, জমিটা বিল্লাল আর আমি দুইজনে মিলেই ক্রয় করেছি। ঐ জমিতে বর্তমানে একটি মক্তবও রয়েছে। মক্তবটি করতে গিয়ে যে পরিমান জায়গা লেগেছে তা আমি আর বিল্লাল দুইজনে মিলেই সমান সমান হারে দিয়েছি। সেই হিসেবে এখন মাদ্রাসা করতে হলে দুজনে পরামর্শ করে এবং  জায়গাটা কে কোন দিক দিয়ে নেব তা সিদ্ধান্ত করার পর মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ শুরু করা উচিৎ ছিল। কিন্তু সে তা না করে, তার একক সিদ্ধান্তে মাদ্রাসা করতে আসায় আমরা তাকে নিষেধ করেছি। তবে তাকে কোনরকম হুমকি ধামকি, গালিগালাজ করা হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালাম বিল্লাল মাদ্রাসা নির্মাণ করতে এসেছিল কথা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে এখানে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিল্লাল মাদ্রাসা করার জন্য কয়েকটা সিমেন্টের পিলার নিয়ে জমিতে আসার পর সাবেক চেয়ারম্যান ও জসিমের সাথে একটু কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমি তখন আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সাথে সাথে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। পরে বিল্লাল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

তবে স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, তাদের আশেপাশে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় তাদের শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে মসজিদ মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হলে এই গ্রামের শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। এলাকার অনেকের দাবী, এখানে একটি মহিলা মাদ্রাসা হলে ঐ গ্রামের মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, তাদের মধ্যে আগে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল তা আমি জানতাম কিন্তু মাদ্রাসা করতে বাধা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

কুলিয়ারচরে প্রবাসীর ক্রয় করা জমিতে মাদ্রসা নির্মাণে বাধা

প্রকাশের সময়: ০১:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মসজিদ-মাদ্রাসা করার জন্য সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল এর সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করা জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দেয়াসহ হুমকি-ধামকির অভিযোগ উঠেছে

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টম্বর) সকালে সরেজমিনে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নলবাইদ মধ্যপাড়া গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব প্রাবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল একই গ্রামের মৃত কাছম আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া ওরুফে ফেরু’র কাছ থেকে ৮ গণ্ডা জমি সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করে ঐ জমিতে একটি মক্তব তৈরি করে তিনি সৌদি আরবে চলে যায়। পরে সৌদি আরব থেকে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ জমিতে একটি মসজিদ ও একটি মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। পূর্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি তার সাভারের বাড়ি থেকে নিজ গ্রাম নলবাইদ মধ্যপাড়া এসে গত ২২ আগস্ট রোববার সকালে ঐ জমিতে একটি মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণ করার জন্য কাজের লোক সহ কিছু সিমেন্টের তৈরি পিলার নিয়ে যায়। এই সংবাদ পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ও তার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন তাদের দল-বল নিয়ে জমিতে গিয়ে বিল্লালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দেয় এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিল্লাল তখন এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে প্রবাসী মোহাম্মদ বিল্লাল টেলিফোনে এবং ইমু বার্তার মাধ্যমে জানায়, নলবাইদ মধ্যপাড়া গ্রামে শতশত শিশু-কিশোর রয়েছে। অথচ ঐ গ্রামের মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে ঐ গ্রামের শিশু-শিশুকিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমি ঐ গ্রামের মৃত কাছম আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া ওরুফে ফেরু’র কাছ থেকে ৮ গণ্ডা জমি সাফ কাউলা মূলে ক্রয় করি একটি মসজিদ ও একটি মহিলা মাদ্রাসা করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট রোববার সকালে ঐ জমিতে মহিলা মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য কাজের লোকজন সহ সিমেন্টের তৈরি পিলার নিয়ে যায়। এই সংবাদ পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ও তার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন তাদের দল-বল নিয়ে জমিতে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থা থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় আমি প্রাণে রক্ষা পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রথমে নরসিংদী, পরে সাভার ও এর ২/৩ দিন পর সৌদি আরবে চলে আসি।

তিনি আরো জানান, তারা ভূমি সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু এবং এলাকার মানুষের সাথে তারা সবসময় ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকে।

এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা প্রদান ও হুমকি ধামকির কথা অস্বীকার করে বলেন, বিল্লাল আমাদের ভাতিজা। সে মাদ্রাসা করলে এলাকার জন্য ভালো এবং আমাদের সুনাম। এ ছাড়াও ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার কাজে আমরা তাকে বাধা দেব কেন? তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সে যেহেতু মাদ্রাসা করবে সেহেতু বাড়ির সকলকে ডেকে নিয়ে বসে এটার উদ্বোধন করা উচিৎ ছিল।

তিনি আরো বলেন, জমিটা আমার ছোট ভাই জসিম উদ্দিন এবং বিল্লাল দুইজনে মিলেই ক্রয় করেছে। কিন্তু কে কোন দিক থেকে নেবে এই সিদ্ধান্ত না করে, এমনকি বাড়ির মুরুব্বিদের সাথে পরামর্শ ছাড়া হুট করেই মাদ্রাসা নির্মাণ করবে এই কাজটি সে ঠিক করেনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, জমিটা বিল্লাল আর আমি দুইজনে মিলেই ক্রয় করেছি। ঐ জমিতে বর্তমানে একটি মক্তবও রয়েছে। মক্তবটি করতে গিয়ে যে পরিমান জায়গা লেগেছে তা আমি আর বিল্লাল দুইজনে মিলেই সমান সমান হারে দিয়েছি। সেই হিসেবে এখন মাদ্রাসা করতে হলে দুজনে পরামর্শ করে এবং  জায়গাটা কে কোন দিক দিয়ে নেব তা সিদ্ধান্ত করার পর মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ শুরু করা উচিৎ ছিল। কিন্তু সে তা না করে, তার একক সিদ্ধান্তে মাদ্রাসা করতে আসায় আমরা তাকে নিষেধ করেছি। তবে তাকে কোনরকম হুমকি ধামকি, গালিগালাজ করা হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালাম বিল্লাল মাদ্রাসা নির্মাণ করতে এসেছিল কথা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে এখানে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিল্লাল মাদ্রাসা করার জন্য কয়েকটা সিমেন্টের পিলার নিয়ে জমিতে আসার পর সাবেক চেয়ারম্যান ও জসিমের সাথে একটু কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমি তখন আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সাথে সাথে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। পরে বিল্লাল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

তবে স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, তাদের আশেপাশে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় তাদের শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে মসজিদ মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হলে এই গ্রামের শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। এলাকার অনেকের দাবী, এখানে একটি মহিলা মাদ্রাসা হলে ঐ গ্রামের মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, তাদের মধ্যে আগে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল তা আমি জানতাম কিন্তু মাদ্রাসা করতে বাধা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।