বেদে সম্প্রদায়ের এক নারী। বিষাক্ত সাপ গলায় পেচিয়ে ঘুরছেন এদিক-সেদিক। এই সাপের ভয় দেখিয়ে মানুষদের নিকট আদায় করছে টাকা। এছাড়া অসামাজিক কিছু অঙ্গিভঙ্গি প্রদর্শন করে নাছোড়বান্দার মত টাকা আদায় করতে । সাপ দেখলে ছোট বড় সকলের গা এমনিতে শিংরিয়ে ওঠে তার ওপর এদের গলায় ঝুলানো এসব বিষধর বড় সড় সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় বেদে সম্প্রদায়ের ওই নারী সাপ নিয়ে টাকা তোলার এমন ভয়ানক দৃশ্য। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে টাকা চাইছেন। এর ফলে ছোট-বড় সব বয়সি মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন।
সাপের ভয়ে অনেকে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এ সাপুরে নারী টার্গেট করছেন মূলত সাপ ভিতু মানুষদের। সাপ গলায় জড়িয়ে রেখে আবার কাঠের ছোট বাক্সের মধ্য থেকে সাপের মাথা বের করছেন। এ সময় সাপ তার জিহ্বা নাড়ানোর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে মানুষ। চমকে উঠছেন পথচারী ও দোকান মালিকরা। এরপর ভদ্রলোকদের পথ আগলে দাবি করা হচ্ছে টাকা।
নজরুল ইসলামের নামের এক ভুক্তভোগি অভিযোগ করে বলেন, বেদে ওই নারীর চাহিদা মতো টাকা না দিলে ছেলেদের শার্ট আর মেয়েদের ওড়না টেনে ধরা হচ্ছে। সাপ নিয়ে এসব নতুন নয়, কিন্তু বর্তমানে তা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে এ পৌর নগরীতে। অনেক পথচারী সাপের ভয় থেকে বাঁচতে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বেদে সম্প্রদায়ের ওই নারীর নাম ও বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করা হয়। কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ সে। তবে তিনি জানান, তার স্বামী নেই। ছেলেমেয়ে আছে দুইজন। বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ তিনি। আয়-উপার্জনের ভিন্ন কোনো পথ তার জানা নেই। তাই তিনি সাপ দেখিয়ে টাকা নেন। প্রতিদিন তার আয় হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এ টাকা দিয়েই কোনোভাবে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান তিনি।
মোঃ শাহরিয়ার কবির আকন্দ, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















