বৃহত্তর রংপুর বিভাগে প্রচুর পরিমানে আলু উৎপাদন করেন কৃষকরা। এসব আলু থেকে অধিক লাভের আশায় বিভাগের প্রায় ১৫০ টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছে কৃষক ও ব্যবসায়িরা। গত মৌসুমের সংরক্ষিত আলুর দামের ধস নেমেছে। ফলে কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা।
জানা যায়, গাইবান্ধার ধাপেরহাটের আরভি কোল্ড স্টোরেজ ও রংপুরের বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে প্রচুর পরিমানে আলু সংরক্ষণ করে রেখেছে কৃষক ও ব্যবসায়িরা। সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার কারণে মজুদকৃত আলুগুলো রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। ফলে ক্রেতা নেই হিমাগারে। এ কারণে আলুর বস্তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই কৃষক-ব্যবসায়িদের।
গত বছরে করোনাকালীন সময়ে আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খেয়েছিল সরকার। এ কারণে ব্যাপক লাভবান হয়েছিল কৃষক ও ব্যবসায়িরা। তাই অধিক লাভের আশায় গত বছর রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলার ন্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাপক আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছিলেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছিল বাম্পার। যার ফলে অল্প দিনেই হিমাগারগুলি আলুতে পরিপূর্ণ হয়। সেই সময়ে অনেক চাষি হিমাগারে আলু না রাখতে পেরে বাড়িতেই সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমানে ওইসব আলু মজুদ রয়েছে হিমাগারগুলোতে। কিন্তু নেই ক্রেতা। ফলে ধস নেমেছে আলুর বাজারে।
সরেজমিনে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একমাত্র হিমাগার ধাপেরহাট আরভি কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছর এ ষ্টোরে ৬০ কেজি ওজনের ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু মজুদ করেছে ব্যবসায়ি ও কৃষকরা। ব্যবসায়িরা সংরক্ষণের জন্য ১২ টাকা কেজি দামে আলু কিনেছেন। ৬০ কেজি ওজনের একটি বস্তায় ৭২০ টাকার আলু, স্টোর ভাড়া ২২০ টাকা, খালি বস্তার মূল্য ৮০ টাকাসহ এক বস্তা আলু রাখতে খরচ হয়েছে সর্বমোট এক হাজার ২০ টাকা। আর বর্তমান বাজারে এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দামে। যা খরচের অর্ধেক প্রায়।
আলু চাষি ও ব্যবসায়ি সাদেকুল, আনারুল, হুমায়ুন, ময়নুল, নন্দনসাহা সহ আরও অনেকে জাগো২৪.নেট-কে জানায়, এ বছর আলুর বাজার ধস নামায় কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে ক্রেতা কম। তাই আলুর ট্রাক পাঠাতে পারছেন না। অবিক্রিত অবস্থায় হাজার হাজার বস্তা আলু নিয়ে মহা বিপাকে পরছে তারা। বড় ধরণের লোকসান পুষিয়ে দিতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষী ও ব্যবসায়িরা।
গাইবান্ধার ধাপেরহাট আরভি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, গত বছর এসময়ে স্টোর থেকে প্রায় মজুদের অর্ধেক আলু ডেলিভারি দিয়েছি। কিন্তু এ বছর আমরা মোট মজুদের ৪ ভাগের এক ভাগ আলুও ডেলিভারি দিতে পারিনি। বাজারে মূল্য কম থাকায় ব্যবসায়ি ও কৃষকরা তাদের মজুদ রাখা আলুর বস্তা বের করছেন না। অনেক ব্যবসায়ি বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা করে লোন গ্রহন করেছেন। যা সুদে-আসলে ৩১৭ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে স্টোর থেকে আলু বের করতে হবে। কিন্ত, বিধিবাম বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে ব্যবসায়িদের আলুর মূল্যই আসছে না। তার উপর ঋণের বোঝা।
তিনি আরও বলেন, গত বছর এ সময় আলুর বাজার চড়া হওয়ায় আলু মনিটরিং কমিটি গঠন করে সরকার। নির্ধারিত মুল্য ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবারে ১০ টাকা কেজিও বিক্রি হচ্ছে না।
আমিনুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















