দিনাজপুরের হিলি এলাকার মেধা মনির চিকিৎসা নিয়ে জাগো২৪.নেট-এ সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর সংবাদটি নজরে পড়ে দিনাজপুরের হিলির বৈগ্রাম ফাউন্ডেশন নামের একটি সেচ্ছাসেবক সংগঠনের। এই ফাউন্ডেশনে সদস্য প্রায় ৪০ জন সদস্যরাই প্রবাসী ও চাকুরীজীবি। অবশেষে সংগঠনটি দায়িত্ব নিলেন মেধা মনির চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য।
বৈগ্রাম ফাউন্ডেশনের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘জাগো২৪.নেট’ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই সংবাদটি দেখতে পাই। তখন আমি আমাদের বৈগ্রাম ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের সামনে এই অসহায় গরীব শিশু মেধা মনির কথা তুলে ধরি। প্রবাসী সহ সকল চাকরী জীবি সদস্যরা তার চিকিৎসা নেওয়ার নির্দেশ আমাকে দেয়। পর ২৮ সেপ্টেম্বর আমি নিজ দায়িত্বে শিশু মেধা ও তার মা এবং বড় বোন সাবিনাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায় এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আঃ মোঃ আবুল কালাম আযাদ মহোদয়ের নিকট দেখায়।
পরে তার নির্দেশক্রমে বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর নিকট পাঠান। তিনি মেধা মনিকে প্রায় এক ঘন্টা ধরে দেখেন এবং মেধা মনির প্রেসক্রিপশন করেন দেন। ড. আমাকে বলেন মেধার বয়স এখন ১০ বছর, তার বুকের একপাশ ভাল আছে। যেহেতু মেয়ে মানুষ, এখন প্লাস্টিক সার্জারি করলে সমস্যা হতে পারে।
ড. আরও বলেন আর ৬ মাস পর আমরা মেধা মনির প্লাস্টিক সার্জারি করবো। এই সময়ের মধ্যে শিশুটির যত্ন এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুটির অনেক পুষ্টির অভাব আছে। যে সব অনলাইন পত্রিকায় এধরনের মানবিক সংবাদ প্রচারের জন্য ফাউন্ডেশনের সদস্য আশরাফুল ইসলাম তাদের ধন্যবাদ জানান।
মেধা মনির বড় বোন সাবিনা ইয়াসমিন ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আমার বাবা একজন দিনমজুর, অনেক কষ্ট করে আমাকে বগুড়া নার্সিংয়ে পড়াচ্ছেন। আবার চোট বোনের চিকিৎসা। অনলাইন পত্রিকায় আমার অসহায় ক্ষত বোনটাকে নিয়ে নিউজ করেছিলো। তাই সমাজের এই বৈগ্রাম ফাউন্ডেশন আমার অসহায় বোনের পাশে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, মেধা মনি দিনাজপুরের হিলির বৈগ্রাম গ্রামের হতদরিদ্র ইলিয়াস আলীর মেয়ে। ৪ বছর বয়সে গরম দুধ পড়ে তার শরীরের ডান পাশের কান থেকে কোমড় পর্যন্ত ঝলসে যায়। তাকে সুস্থ্য করতে সংসারের যা ছিলো তা সব ফুরিয়ে যায়। বর্তমান মেধার বয়স ১০ বছর। মেয়ে বড় হচ্ছে আর চিন্তা ভাবনা ততই বাড়ছে মেধার মা-বাবার। শিশুটির পোড়া ক্ষতস্থানে যতদিন যাচ্ছে জ্বালা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেধার বড় বোন আবার পড়ছেন বগুড়া নার্সিংয়ে। সব মিলে আজ হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা ইলিয়াস আলী অসহায়।
মোসলেম উদ্দিন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, দিনাজপুর 


















