রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে তাঁতী লীগ নেত্রীর ধর্ষণের অভিযোগ, মিথ্যা দাবি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছে উপজেলা তাঁতী লীগের এক নেত্রী। এটি মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত রফিকুল তার ফেসবুক ওয়ালে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার ( ৬ অক্টোবর) ওই নেত্রীর দাখিলকৃত এজাহারের বিবরণে জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলামের সঙ্গে গোপীনাথ গ্রামের মেয়ে ও উপজেলা তাঁতী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দলীয়  কর্মকাণ্ডের কারণে পরিচয় হয়। দাম্পত্য জীবনে ওই নেত্রী এক সন্তানের জননী হওয়ার পর গত ২০০৭ সালে তালাক প্রাপ্ত হন। এরপর জীবিকার তাগিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এরই মধ্যে রফিকুল ইসলাম প্রায়ই তাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ওই নেত্রীকে ঢাকার ক্যাপিটেল হোটেলে নিয়ে বিবাহে প্রলোভন দিয়ে দৈহিক মেলা মেশা করে। এরপর থেকে রফিকুল ইসলাম একাধিকবার শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হয়। এরই একপর্যায়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নেত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে রফিকুল। এমনি অবস্থায় রফিকুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে তা এড়িয়ে যান তিনি।

এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে ভুক্তভোগি ওই নেত্রী বলেন, রফিকুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। এরপর বিয়ে করার জন্য বলা হলে সে একদম যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে রফিকুলকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ওই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগে প্রকাশ হলে, এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। কেউ বলেছেন ঘটনাটি সত্য আবার অনেকে বলেছে ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

অপরদিকে, আসামি রফিকুল ইসলাম এ ঘটনাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র দাবি করে তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট দিয়েছেন। সেটি হুবাহ তুলে ধরা হলো-

প্রিয় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীবাসী, (বিশেষ করে ৪নং ইউনিয়ন বাসী)

আসসালামু ওয়ালাইকুম।

আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে তাঁতিলীগের একজন মহিলা নেত্রী আমার বিরুদ্ধে ধর্ষনের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। (মামলার এজাহার কপি সংযুক্ত করলাম)। লক্ষ্য করবেন এজাহারে সে বলেছে তাকে আমি কুপ্রস্তাব দিয়েছিলাম তা সে প্রত্যাখ্যান করে।তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছি। হোটেলে জোরপূর্বক ধর্ষন করেছি। আমি তাকে তার পশ্চিম গোফিনাথপুর গ্রামের বাড়ি গিয়ে তাকে ধর্ষন করেছি। বিষয়টির বিবেক বিবেচনা করে বিচারের ভার আমি আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

প্রিয় এলাকাবাসী আপনারা জানেন যে আমি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের একজন সম্ভব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। দীর্ঘদিন যাবত এ লক্ষ্যে জনগণের পাশে থেকে জনগনের মাঝে কাজ করে আসছি।

ইউপি নির্বাচনে তফসীল ঘোষণার পূব মুহুর্তে এ ধরনের মিথ্যা মামলা রুজু করে। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি মহলের নোংরা ষড়যন্ত্রের অংশ। বিষয়টি আপনাদের উপর বিবেচনার ভার দিলাম।

মোঃ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিক

উপজেলা আওয়ামিলীগের সদস্য, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যশী

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৪নং বরিশাল ইউনিয়ন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জাগো২৪.নেট-কে জানান, উপজেলা তাঁতী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বাদি হয়ে একটি ধর্ষণের এজাহার দাখিল করেছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তুতি চলেছে। একই সঙ্গে আসামি রফিকুল ইসলামকেও গ্রেফতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয়

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে তাঁতী লীগ নেত্রীর ধর্ষণের অভিযোগ, মিথ্যা দাবি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস

প্রকাশের সময়: ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর ২০২১

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছে উপজেলা তাঁতী লীগের এক নেত্রী। এটি মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত রফিকুল তার ফেসবুক ওয়ালে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার ( ৬ অক্টোবর) ওই নেত্রীর দাখিলকৃত এজাহারের বিবরণে জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলামের সঙ্গে গোপীনাথ গ্রামের মেয়ে ও উপজেলা তাঁতী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দলীয়  কর্মকাণ্ডের কারণে পরিচয় হয়। দাম্পত্য জীবনে ওই নেত্রী এক সন্তানের জননী হওয়ার পর গত ২০০৭ সালে তালাক প্রাপ্ত হন। এরপর জীবিকার তাগিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এরই মধ্যে রফিকুল ইসলাম প্রায়ই তাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ওই নেত্রীকে ঢাকার ক্যাপিটেল হোটেলে নিয়ে বিবাহে প্রলোভন দিয়ে দৈহিক মেলা মেশা করে। এরপর থেকে রফিকুল ইসলাম একাধিকবার শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হয়। এরই একপর্যায়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নেত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে রফিকুল। এমনি অবস্থায় রফিকুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে তা এড়িয়ে যান তিনি।

এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে ভুক্তভোগি ওই নেত্রী বলেন, রফিকুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। এরপর বিয়ে করার জন্য বলা হলে সে একদম যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে রফিকুলকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ওই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগে প্রকাশ হলে, এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। কেউ বলেছেন ঘটনাটি সত্য আবার অনেকে বলেছে ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

অপরদিকে, আসামি রফিকুল ইসলাম এ ঘটনাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র দাবি করে তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট দিয়েছেন। সেটি হুবাহ তুলে ধরা হলো-

প্রিয় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীবাসী, (বিশেষ করে ৪নং ইউনিয়ন বাসী)

আসসালামু ওয়ালাইকুম।

আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে তাঁতিলীগের একজন মহিলা নেত্রী আমার বিরুদ্ধে ধর্ষনের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। (মামলার এজাহার কপি সংযুক্ত করলাম)। লক্ষ্য করবেন এজাহারে সে বলেছে তাকে আমি কুপ্রস্তাব দিয়েছিলাম তা সে প্রত্যাখ্যান করে।তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছি। হোটেলে জোরপূর্বক ধর্ষন করেছি। আমি তাকে তার পশ্চিম গোফিনাথপুর গ্রামের বাড়ি গিয়ে তাকে ধর্ষন করেছি। বিষয়টির বিবেক বিবেচনা করে বিচারের ভার আমি আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

প্রিয় এলাকাবাসী আপনারা জানেন যে আমি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের একজন সম্ভব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। দীর্ঘদিন যাবত এ লক্ষ্যে জনগণের পাশে থেকে জনগনের মাঝে কাজ করে আসছি।

ইউপি নির্বাচনে তফসীল ঘোষণার পূব মুহুর্তে এ ধরনের মিথ্যা মামলা রুজু করে। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি মহলের নোংরা ষড়যন্ত্রের অংশ। বিষয়টি আপনাদের উপর বিবেচনার ভার দিলাম।

মোঃ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিক

উপজেলা আওয়ামিলীগের সদস্য, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যশী

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৪নং বরিশাল ইউনিয়ন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জাগো২৪.নেট-কে জানান, উপজেলা তাঁতী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বাদি হয়ে একটি ধর্ষণের এজাহার দাখিল করেছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তুতি চলেছে। একই সঙ্গে আসামি রফিকুল ইসলামকেও গ্রেফতার চেষ্টা করা হচ্ছে।