রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে ডিবি পুলিশ সেজে অপহরণ ঘটনায় আটক ২

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ডলার, কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ বিভিন্ন অবৈধ জিনিস বেচাকেনার অভিযোগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুইজন নারী ও ৩ জন পুরুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জনকে আটক করেছে জনতা। পরে তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভুয়া ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছিল। এ ঘটনাটি গত ৬ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের বেকীপুলবাজারে ঘটেছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৫) ও একই উপজেলার উত্তমপাড়ার যোতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে নিতাই রায় (৩০)।

যাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে তারা হলেন- ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে লিটন মুন্সি (৫০), মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার উত্তর রঞ্জনপুর গ্রামের স্বপনের ছেলে হৃদয় হোসেন (২০), ঢাকার দোহার থানার বিক্রমপুর গ্রামের সোহেলের মেয়ে মোছা. ময়না (২০), চাঁদপুর জেলার মতলবপুর থানার একলাছপরা গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী মোছা. সিমা (৪০) এবং অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ভিকটিম সূত্রে জানা গেছে, ডলার ও কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস বিক্রির প্রলোভনে গত ২-৩ দিন আগে ঢাকা, মাদারীপুর ও চাঁদপুর এলাকা থেকে দুইজন নারী ও ৩ জন পুরুষ খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া এলাকার শামীম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আসেন। বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে ৬ জন ব্যক্তি ওই বাড়িতে এসে নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এ সময় ডলার ও কষ্টি পাথরের মুর্তি বেচাকেনাসহ অবৈধ কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে ওই ৫ জনকে নিজেদের মোটরসাইকেলে তুলে নেয় এবং তাদের কাছে থাকা এক লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুললেও চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের বেকীপুলবাজার নামক এলাকায় তাদের মধ্যে ৪ জন মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়েন এবং বাকি ২ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভিকটিমরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধরে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ওই দুইজনকে খানসামা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে থানায় অবহিত করে। পরে থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে খানসামা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, মূলত এটি প্রতারণার উদ্দেশ্যেই হয়েছে। ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এসেছিলেন ডলার, মূর্তি কিংবা ওই জাতীয় কিছু ক্রয় করার জন্য। এসে তারা এখানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যদিও তারা বলছেন যে, তারা গরু ক্রয় করার জন্য এখানে এসেছেন। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ঘটনায় ওই ২ জনসহ আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয়

চিরিরবন্দরে ডিবি পুলিশ সেজে অপহরণ ঘটনায় আটক ২

প্রকাশের সময়: ০৬:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর ২০২১

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ডলার, কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ বিভিন্ন অবৈধ জিনিস বেচাকেনার অভিযোগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুইজন নারী ও ৩ জন পুরুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জনকে আটক করেছে জনতা। পরে তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভুয়া ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছিল। এ ঘটনাটি গত ৬ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের বেকীপুলবাজারে ঘটেছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৫) ও একই উপজেলার উত্তমপাড়ার যোতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে নিতাই রায় (৩০)।

যাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে তারা হলেন- ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে লিটন মুন্সি (৫০), মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার উত্তর রঞ্জনপুর গ্রামের স্বপনের ছেলে হৃদয় হোসেন (২০), ঢাকার দোহার থানার বিক্রমপুর গ্রামের সোহেলের মেয়ে মোছা. ময়না (২০), চাঁদপুর জেলার মতলবপুর থানার একলাছপরা গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী মোছা. সিমা (৪০) এবং অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ভিকটিম সূত্রে জানা গেছে, ডলার ও কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস বিক্রির প্রলোভনে গত ২-৩ দিন আগে ঢাকা, মাদারীপুর ও চাঁদপুর এলাকা থেকে দুইজন নারী ও ৩ জন পুরুষ খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া এলাকার শামীম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আসেন। বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে ৬ জন ব্যক্তি ওই বাড়িতে এসে নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এ সময় ডলার ও কষ্টি পাথরের মুর্তি বেচাকেনাসহ অবৈধ কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে ওই ৫ জনকে নিজেদের মোটরসাইকেলে তুলে নেয় এবং তাদের কাছে থাকা এক লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুললেও চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের বেকীপুলবাজার নামক এলাকায় তাদের মধ্যে ৪ জন মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়েন এবং বাকি ২ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভিকটিমরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধরে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ওই দুইজনকে খানসামা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে থানায় অবহিত করে। পরে থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে খানসামা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, মূলত এটি প্রতারণার উদ্দেশ্যেই হয়েছে। ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এসেছিলেন ডলার, মূর্তি কিংবা ওই জাতীয় কিছু ক্রয় করার জন্য। এসে তারা এখানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যদিও তারা বলছেন যে, তারা গরু ক্রয় করার জন্য এখানে এসেছেন। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ঘটনায় ওই ২ জনসহ আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।