রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিরামপুরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু

Exif_JPEG_420

শস্য ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুর জেলার খাদ্য উদ্বৃত্ত বিরামপুর উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মুক্ত ভাবে এবার আগাম জাতের আমনের আশাতীত ফলন হয়েছে। আগাম ধান কাটায় খাদ্য চাহিদা পূরণ, বাজারে অধিক মূল্য ও কাঁচা খড় বিক্রিতে অধিক দামের মাধ্যমে কৃষকরা সবদিক থেকে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি একই জমিতে শীতকালীন শবজি রোপনের প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুর উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়। এর মধ্যে অনেক জমিতে আগাম জাতের হিরা-২ ও ধানী গোল্ডসহ অন্যান্য ধান রয়েছে।

অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। আমনের অন্যান্য ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুটি সর্না, সর্না-৫, ব্রি-৩৪, ৫১, ৭১, ৭৫, হাইব্রিড ও বিনা-১৭.২০ জাত।

উপজেলার বাদমৌকা গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদ জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে হিরা-২ আগাম জাতের আমন রোপন করেন। তিনি বিঘা প্রতি ১৮-২০ মন হারে ফলন পেয়েছেন। আড়াপাড়া গ্রামের বুলবুল হোসেন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে ধানী গোল্ড জাতের আমন রোপন করেছেন। তিনি বিঘা প্রতি ২২-২৪ মন হারে ফলন পেয়েছেন। কৃষকরা বলেন, আগাম জাতের ধান ঘরে তুলতে পেরে খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে ৮-৯শ’ টাকা মন দরে কাঁচা ধান বিক্রি করতে পারছেন। ধানের কাঁচা খড় গো-খাদ্য হিসাবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বিঘার খড় ৪-৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া একই জমিতে আবার আলু, কপিসহ শীতকালীন বিভিন্ন প্রকার শবজি/ফসল রোপনের প্রস্তুতিও চলছে।

মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, আমি দিনভর মাঠে মাঠে ঘুরে কৃষকদের হাতের কাছে রয়েছি। আগাম আমন ধানসহ লাভজনক ফসল আবাদে কৃষকদের সহায়তা এবং রোগ-বালাই ও দূর্যোগ প্রতিরোধে দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

জনপ্রিয়

বিরামপুরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু

প্রকাশের সময়: ১১:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১

শস্য ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুর জেলার খাদ্য উদ্বৃত্ত বিরামপুর উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মুক্ত ভাবে এবার আগাম জাতের আমনের আশাতীত ফলন হয়েছে। আগাম ধান কাটায় খাদ্য চাহিদা পূরণ, বাজারে অধিক মূল্য ও কাঁচা খড় বিক্রিতে অধিক দামের মাধ্যমে কৃষকরা সবদিক থেকে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি একই জমিতে শীতকালীন শবজি রোপনের প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুর উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়। এর মধ্যে অনেক জমিতে আগাম জাতের হিরা-২ ও ধানী গোল্ডসহ অন্যান্য ধান রয়েছে।

অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। আমনের অন্যান্য ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুটি সর্না, সর্না-৫, ব্রি-৩৪, ৫১, ৭১, ৭৫, হাইব্রিড ও বিনা-১৭.২০ জাত।

উপজেলার বাদমৌকা গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদ জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে হিরা-২ আগাম জাতের আমন রোপন করেন। তিনি বিঘা প্রতি ১৮-২০ মন হারে ফলন পেয়েছেন। আড়াপাড়া গ্রামের বুলবুল হোসেন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে ধানী গোল্ড জাতের আমন রোপন করেছেন। তিনি বিঘা প্রতি ২২-২৪ মন হারে ফলন পেয়েছেন। কৃষকরা বলেন, আগাম জাতের ধান ঘরে তুলতে পেরে খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে ৮-৯শ’ টাকা মন দরে কাঁচা ধান বিক্রি করতে পারছেন। ধানের কাঁচা খড় গো-খাদ্য হিসাবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বিঘার খড় ৪-৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া একই জমিতে আবার আলু, কপিসহ শীতকালীন বিভিন্ন প্রকার শবজি/ফসল রোপনের প্রস্তুতিও চলছে।

মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, আমি দিনভর মাঠে মাঠে ঘুরে কৃষকদের হাতের কাছে রয়েছি। আগাম আমন ধানসহ লাভজনক ফসল আবাদে কৃষকদের সহায়তা এবং রোগ-বালাই ও দূর্যোগ প্রতিরোধে দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।