সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পথঘাটে গান গেয়ে জীবন চলে আমিরুলের

অতিদরিদ্র পরিবারের ছেল আমিরুল ইসলাম। বয়স সবেমাত্র ২০। কিশোর বয়স থেকে সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। নিজস্ব যন্ত্রপাতি না থাকায় হাড়ি-পাতিল দিয়েই পথঘাট ও হাটে-বাজারে গাইতে থাকেন নানা প্রকার গান। এ থেকে দর্শকরা খুশি করে যান দেন, তা দিয়ে জীবিকা চলে আমিরুলের।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরের চৌমাথা মোড়ে দেখা হয় এই শিল্পী আমিরুলের। সেখানে গানের আসর বসিয়ে মধুর কন্ঠে গাইছিলেন গান। ‘এই দুনিয়াটা পুতুল খেলা’-এ গানটি পরিবেশন করছিলেন। তবে ছিলনা কোন বাদ্যযন্ত্র। ছিল একটি পাতিল। এটির মাধ্যমে চলছিল তার গানের আসরটি। মুহূর্তে মাতিয়ে তোলেন গানপ্রিয় মানুষদের।

জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের খানকাহ বাড়ি এলাকার দরিদ্র মফছেল আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম। ইচ্ছে থাকা শর্তেও দরিদ্রতার কষাঘাতে লেখাপড়া করতে পারেনি ।আমিরুলের বয়স যখন ১৫, তখন মারা যায় পিতা মফছেল আলী। এরপর সংসারের হালধরতে হয় তাকে। কর্ম অভাবে তার মাকে নিয়ে থমকে যায় জীবনযাত্রা। এরপর শুরু করে বাদাম বিক্রি। এ দিয়ে কোনমতে চলতে থাকে জীবন-জীবিকা। এতে সংসারের চাহিদা অপ্রতুল হওয়ায়  ওই ব্যবসার সঙ্গে যোগ করা হয় গান গাওয়া। তবে নেই কোনো বাদ্যযন্ত্র। বাদাম বিক্রির ফাঁকে বিভিন্ন হাট-বাজারে যন্ত্র হিসেবে পাতিল বাজিয়ে গানের আসর বাসায় তিনি। এমন কোনো গান নেই, সেটা জানা নেই তার । সব ধরণের গানই গাইতে পারেন মুধুর কন্ঠে। এই  শিল্পী আমিরুলের গানের সুরে ছুটে আসেন মানুষেরা। এসময় ৫-১০ টাকা দেন অনেক দর্শক শ্রোতা।

গান উপভোগ করতে আসা হাসান আলী নামের এক দর্শক বলেন, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া পাতিল দিয়ে বাজানো গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি। তার জন্য শুভ কামনা করছি।

কণ্ঠ শিল্পী আমিরুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, এখনো বিয়ে করেননি তিনি। মাকে নিয়ে টানা পোড়েন সংসার। বাঁচার তাগিতে বেঁছে নেওয়া হয় বাদাম বিক্রি ও গান গাওয়া। এ থেকে দৈনন্দিন আয় হয় ৪০০-৫০০ টাকা। এ দিয়েই সংসার চলছে তার।

তিনি আরও বলেন, আমার নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র নেই। টাকার অভাবে কিনতে পারছি না। আমাকে কেউ যদি বাদ্যযন্ত্র কিনে দিয়ে সহযোগি করতেন, তাহলে গান গেয়েই ফিরে পেতাম সোনালী দিন।

 

জনপ্রিয়

পথঘাটে গান গেয়ে জীবন চলে আমিরুলের

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

অতিদরিদ্র পরিবারের ছেল আমিরুল ইসলাম। বয়স সবেমাত্র ২০। কিশোর বয়স থেকে সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। নিজস্ব যন্ত্রপাতি না থাকায় হাড়ি-পাতিল দিয়েই পথঘাট ও হাটে-বাজারে গাইতে থাকেন নানা প্রকার গান। এ থেকে দর্শকরা খুশি করে যান দেন, তা দিয়ে জীবিকা চলে আমিরুলের।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরের চৌমাথা মোড়ে দেখা হয় এই শিল্পী আমিরুলের। সেখানে গানের আসর বসিয়ে মধুর কন্ঠে গাইছিলেন গান। ‘এই দুনিয়াটা পুতুল খেলা’-এ গানটি পরিবেশন করছিলেন। তবে ছিলনা কোন বাদ্যযন্ত্র। ছিল একটি পাতিল। এটির মাধ্যমে চলছিল তার গানের আসরটি। মুহূর্তে মাতিয়ে তোলেন গানপ্রিয় মানুষদের।

জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের খানকাহ বাড়ি এলাকার দরিদ্র মফছেল আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম। ইচ্ছে থাকা শর্তেও দরিদ্রতার কষাঘাতে লেখাপড়া করতে পারেনি ।আমিরুলের বয়স যখন ১৫, তখন মারা যায় পিতা মফছেল আলী। এরপর সংসারের হালধরতে হয় তাকে। কর্ম অভাবে তার মাকে নিয়ে থমকে যায় জীবনযাত্রা। এরপর শুরু করে বাদাম বিক্রি। এ দিয়ে কোনমতে চলতে থাকে জীবন-জীবিকা। এতে সংসারের চাহিদা অপ্রতুল হওয়ায়  ওই ব্যবসার সঙ্গে যোগ করা হয় গান গাওয়া। তবে নেই কোনো বাদ্যযন্ত্র। বাদাম বিক্রির ফাঁকে বিভিন্ন হাট-বাজারে যন্ত্র হিসেবে পাতিল বাজিয়ে গানের আসর বাসায় তিনি। এমন কোনো গান নেই, সেটা জানা নেই তার । সব ধরণের গানই গাইতে পারেন মুধুর কন্ঠে। এই  শিল্পী আমিরুলের গানের সুরে ছুটে আসেন মানুষেরা। এসময় ৫-১০ টাকা দেন অনেক দর্শক শ্রোতা।

গান উপভোগ করতে আসা হাসান আলী নামের এক দর্শক বলেন, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া পাতিল দিয়ে বাজানো গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি। তার জন্য শুভ কামনা করছি।

কণ্ঠ শিল্পী আমিরুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, এখনো বিয়ে করেননি তিনি। মাকে নিয়ে টানা পোড়েন সংসার। বাঁচার তাগিতে বেঁছে নেওয়া হয় বাদাম বিক্রি ও গান গাওয়া। এ থেকে দৈনন্দিন আয় হয় ৪০০-৫০০ টাকা। এ দিয়েই সংসার চলছে তার।

তিনি আরও বলেন, আমার নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র নেই। টাকার অভাবে কিনতে পারছি না। আমাকে কেউ যদি বাদ্যযন্ত্র কিনে দিয়ে সহযোগি করতেন, তাহলে গান গেয়েই ফিরে পেতাম সোনালী দিন।