সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী পলাতক

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কনিকা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে স্বামী লেলিন বাবু পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারে পর বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামত বাগচী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বিবরণে জানায়, ওই গ্রামের আজিজুর রহমান বাচ্চুর ছেলে লেলিন বাবু তার স্ত্রী কনিকা বেগমকে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করার জন্য কয়েকদিন থেকে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু কনিকা বেগম এই ঋণ উত্তোলনে অনিহা প্রকাশ করেন। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে স্বামী ও পরিবারের লোকজন দুই সন্তানের জননী কনিকা বেগমকে খাবার না দিয়ে ৩ দিন অনাহারে রাখেন। এই অবস্থায় বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কনিকা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায় লেলিন বাবুর বাড়িতেই।

এ তথ্য নিশ্চিত করে নিহতের বড় ভাই মাখন মিয়া জানান, কনিকা বেগমকে নির্যাতনের কাহিনী সে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে বাবার বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছে। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ির পশ্চিম দুয়ারী একটি ঘরে ধর্ণার সঙ্গে ওড়না ঝুলানো মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন কনিকা বেগম আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচারের চেষ্টা চলায়। কিন্তু এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা সবাই আত্মগোপন করেন।

সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার রাতে কনিকার মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাখন মিয়া বাদী হয়ে স্বামী লেলিন বাবুসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

 

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী পলাতক

প্রকাশের সময়: ০৫:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কনিকা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে স্বামী লেলিন বাবু পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারে পর বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামত বাগচী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বিবরণে জানায়, ওই গ্রামের আজিজুর রহমান বাচ্চুর ছেলে লেলিন বাবু তার স্ত্রী কনিকা বেগমকে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করার জন্য কয়েকদিন থেকে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু কনিকা বেগম এই ঋণ উত্তোলনে অনিহা প্রকাশ করেন। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে স্বামী ও পরিবারের লোকজন দুই সন্তানের জননী কনিকা বেগমকে খাবার না দিয়ে ৩ দিন অনাহারে রাখেন। এই অবস্থায় বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কনিকা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায় লেলিন বাবুর বাড়িতেই।

এ তথ্য নিশ্চিত করে নিহতের বড় ভাই মাখন মিয়া জানান, কনিকা বেগমকে নির্যাতনের কাহিনী সে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে বাবার বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছে। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ির পশ্চিম দুয়ারী একটি ঘরে ধর্ণার সঙ্গে ওড়না ঝুলানো মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন কনিকা বেগম আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচারের চেষ্টা চলায়। কিন্তু এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা সবাই আত্মগোপন করেন।

সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার রাতে কনিকার মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাখন মিয়া বাদী হয়ে স্বামী লেলিন বাবুসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।