শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীমাহীন দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠান অচল  

পাবনার সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। অনৈতিক উপায়ে ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেইে তিনি একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

প্রতিবছর তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। তদন্ত হয়,কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বোর্ড ও অধিদপ্তরে পত্র পাঠায়।কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপই নেয়া হয় না।এটি একটি জাতীয়করণকৃত স্কুল হলেও প্রবেশদ্বারে বিদ্যালয়ের একটা সাইনবোর্ড(নামফলক) পর্যন্ত নেই।বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে ফেলার পর আর তা মেরামত করা হয়নি। এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়টির সম্মুখদিকে তাকালে এখন মনে হয় এ যেন কোন ময়লার ভাগাড়।অন্যান্যবারে মতো এবারও তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নবম শে্িরণর ভোকেশনাল শাখার ব্যবহারিক পরীক্ষার মার্কস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়াও অষ্টম শ্রেণির প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে অনলাইনে ফরম পূরণের কথা বলে কোনো প্রকার রশিদ ছাড়া অবৈধভাবে ৫০ টাকা করে আদায় করারও অভিযোগ উঠেছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেওে ভর্তিবাবদ অতিরিক্তি অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২শ’ ৮০ টাকা করে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, কোন কারণ ছাড়াই সাঁথিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অন লাইনের কথা বলে ৫০টাকা করে আদায় করেছেন। অপরদিকে উপবৃত্তির কথা বলে দুই শ’ আশি টাকা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দিন ২২/১২/২১ থেকে ২৮/১২/২১ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সচিব বিজয় কুমার দেবনাথ এসবের নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে একদিনে হাজিরা সীটে চারটি স্বাক্ষর নিয়ে স্ব স্ব বিষয় ট্রেডের শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার সমন্বয় বা তাদের পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ওইসব শিক্ষকদের সম্মানীর সমুদয় অর্থ তিনি একাই হাতিয়ে নেন। এসব কর্মকান্ড তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। কোন শিক্ষক এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অশালীন মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার এক শিক্ষক জানান, তাদের স্ব স্ব ট্রেডে তাদের মাধ্যমে কোনরুপ আলোচনা না করেই প্রধান শিক্ষক নিজেই শিক্ষার্থীদের নিকট স্বাক্ষর রেখে একদিনে আধাঘন্টায় কাজ শেষ করেন। তিনি অবশ্য বিধি বহির্ভূতভাবে দু’একজন শিক্ষককে নিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেন কিন্তু তাদের বোর্ড কর্তৃক দেও সম্মানী আত্মসাত করেন। নিয়ম রয়েছে, একজন স্ব-স্ব ট্রেডের শিক্ষক রেখে পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও তা তিনি রাখেননি। বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কাঁচামালামাল ক্রয় করার কথা থাকলেও তা তিনি ক্রয় না করে টাকা আত্মসাত করেন। ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, হেড স্যার উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আমাদের নিকট থেকে ২৮০ টাকা করে নিয়েছেন। এখন বলছেন উপবৃত্তির টাকা নাই তোমাদের। কিন্তু আমরা জেনেছি উপবৃত্তির ফরম পূরণে কোন টাকা লাগে না। তবু কেন আমাদের নিকট থেকে টাকা নিলেন? দাড়ামুডা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ব্যবহারিক পরিক্ষার জন্য একজন ইন্সট্রাক্টর এর সম্মানী (২৫০+১০০) ৩৫০/- টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেন না। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর তো ১০০/ ৮০ টাকা করে দিতেন কিন্তু এবার অনেক কিছু বলার পরও ২০০ টাকা করে দিয়েছেন। বাকী ১৫০ টাকা তিনি দেন নাই।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক বিজয় দেবনাথকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সকল অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ৮ম শে্িরণর শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে অনলাইনে তথ্য প্রেরণ ,শিক্ষা বোর্ডে যাতায়াত বাবদ। এটা নিয়ম বহির্ভূত কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,হ্যাঁ এটা নিয়মের বাইরে, তবে আমরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার  এর সাথে আলোচনা করে এ টাকা আদায় করেছি। উপবৃত্তির টাকার বিষয়েও তিনি অস্বীকার করেন।

শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অপরদিকে শিক্ষকদের ও কাচামালের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষক অভিযোগ করেনি। যদি কোন শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি দেখবো।

জনপ্রিয়

সীমাহীন দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠান অচল  

প্রকাশের সময়: ০৬:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২২

পাবনার সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। অনৈতিক উপায়ে ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেইে তিনি একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

প্রতিবছর তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। তদন্ত হয়,কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বোর্ড ও অধিদপ্তরে পত্র পাঠায়।কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপই নেয়া হয় না।এটি একটি জাতীয়করণকৃত স্কুল হলেও প্রবেশদ্বারে বিদ্যালয়ের একটা সাইনবোর্ড(নামফলক) পর্যন্ত নেই।বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে ফেলার পর আর তা মেরামত করা হয়নি। এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়টির সম্মুখদিকে তাকালে এখন মনে হয় এ যেন কোন ময়লার ভাগাড়।অন্যান্যবারে মতো এবারও তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নবম শে্িরণর ভোকেশনাল শাখার ব্যবহারিক পরীক্ষার মার্কস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়াও অষ্টম শ্রেণির প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে অনলাইনে ফরম পূরণের কথা বলে কোনো প্রকার রশিদ ছাড়া অবৈধভাবে ৫০ টাকা করে আদায় করারও অভিযোগ উঠেছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেওে ভর্তিবাবদ অতিরিক্তি অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২শ’ ৮০ টাকা করে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, কোন কারণ ছাড়াই সাঁথিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অন লাইনের কথা বলে ৫০টাকা করে আদায় করেছেন। অপরদিকে উপবৃত্তির কথা বলে দুই শ’ আশি টাকা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দিন ২২/১২/২১ থেকে ২৮/১২/২১ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সচিব বিজয় কুমার দেবনাথ এসবের নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে একদিনে হাজিরা সীটে চারটি স্বাক্ষর নিয়ে স্ব স্ব বিষয় ট্রেডের শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার সমন্বয় বা তাদের পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ওইসব শিক্ষকদের সম্মানীর সমুদয় অর্থ তিনি একাই হাতিয়ে নেন। এসব কর্মকান্ড তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। কোন শিক্ষক এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অশালীন মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার এক শিক্ষক জানান, তাদের স্ব স্ব ট্রেডে তাদের মাধ্যমে কোনরুপ আলোচনা না করেই প্রধান শিক্ষক নিজেই শিক্ষার্থীদের নিকট স্বাক্ষর রেখে একদিনে আধাঘন্টায় কাজ শেষ করেন। তিনি অবশ্য বিধি বহির্ভূতভাবে দু’একজন শিক্ষককে নিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেন কিন্তু তাদের বোর্ড কর্তৃক দেও সম্মানী আত্মসাত করেন। নিয়ম রয়েছে, একজন স্ব-স্ব ট্রেডের শিক্ষক রেখে পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও তা তিনি রাখেননি। বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কাঁচামালামাল ক্রয় করার কথা থাকলেও তা তিনি ক্রয় না করে টাকা আত্মসাত করেন। ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, হেড স্যার উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আমাদের নিকট থেকে ২৮০ টাকা করে নিয়েছেন। এখন বলছেন উপবৃত্তির টাকা নাই তোমাদের। কিন্তু আমরা জেনেছি উপবৃত্তির ফরম পূরণে কোন টাকা লাগে না। তবু কেন আমাদের নিকট থেকে টাকা নিলেন? দাড়ামুডা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ব্যবহারিক পরিক্ষার জন্য একজন ইন্সট্রাক্টর এর সম্মানী (২৫০+১০০) ৩৫০/- টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেন না। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর তো ১০০/ ৮০ টাকা করে দিতেন কিন্তু এবার অনেক কিছু বলার পরও ২০০ টাকা করে দিয়েছেন। বাকী ১৫০ টাকা তিনি দেন নাই।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক বিজয় দেবনাথকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সকল অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ৮ম শে্িরণর শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে অনলাইনে তথ্য প্রেরণ ,শিক্ষা বোর্ডে যাতায়াত বাবদ। এটা নিয়ম বহির্ভূত কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,হ্যাঁ এটা নিয়মের বাইরে, তবে আমরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার  এর সাথে আলোচনা করে এ টাকা আদায় করেছি। উপবৃত্তির টাকার বিষয়েও তিনি অস্বীকার করেন।

শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অপরদিকে শিক্ষকদের ও কাচামালের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষক অভিযোগ করেনি। যদি কোন শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি দেখবো।