তোফায়েল হোসেন জাকিরঃ নদী বিধৌত জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রসহ অসংখ্যা নদ-নদী। এতে জেগে উঠেছে শতাধিক বালুচর। এই চরগুলোতে বসাবাস করছেন লক্ষাধিক পরিবার। এখানকার অধিকাংশ পরিবারেই দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস। তারা এই দরিদ্রতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নানা ফসল ফলানোসহ শুরু করেছে গরু লালন-পালন। ইতোমধ্যে এসব গরু পুষে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনযাপন। তাই গৃহপালিত পশু যেনো তাদের আশির্বাদ স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়ে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার কুন্দেরপাড়া, কড়াইবাড়ী, খাটিয়ামারী, তারাপুর, ও কালুরপাড়াসহ আরও বেশ কিছু চরে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িগুলোর উঠানে গরু-বাছুরের ঝাঁক। গৃহবধূরা ব্যস্ত সময় পার করছে পশুগুলো লালন-পালনে।
জানা যায়, নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে মরিচ, ভুট্টা, মিষ্টিআল, বাদাম ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা জাতের ফসল ফলানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গরু-বাছুর পালনেও ঝুঁকে পড়েছে তারা। বাড়ি বাড়ি পুষছেন দেশী জাতের গরু। এছাড়া চরাঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য কাঁশবনসহ পরিত্যক্ত ভূমি। এই ভূমিগুলোতে গরুকে ঘাস-লতা-পাতাও খাওয়াতে পারেন তারা। এতে অল্প খরচে প্রতি বছর গরু বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করছেন এখানকার মানুষেরা। এমতাবস্থায় চরাঞ্চলের প্রত্যেকটি বাড়িতে দৃশ্যমান ৭ থেকে ১২টি গরু-বাছুর।
খাটিয়ামারী চরের বাসিন্দা কবির উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে জানান, দীর্ঘ একযুগ ধরে দেশী জাতের গরু পালন কর আসছেন। বর্তমান তার বাড়িতে বাছুরসহ ১১ টি গরু। এর মধ্যে রয়েছে ৫ টি গাভী। এসব গাভীর প্রজনন থেকে বাড়তে থাকে তার গরুর সংখ্যা।
তিনি আরও বলেন, দুধ বিক্রি ও গরু বিক্রি করে বছরে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ হয় তার। এটি তার প্রধান আয়ের উৎস।
রসুলপুর চরের জমিলা বেগম, নেহাজ উদ্দিন ও কচিমন বেওয়া জানান, সম্প্রতি গৃহপালিত গরু-বাছুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এরই মধ্যে নৌ ডাকাতেরা বেশ কিছু বাড়ির গরু নিয়ে গেছে। এ নিয়ে গোয়াল ঘরে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণীসম্পদ কমকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, চরাঞ্চলের মানুষরা গৃহপালিত গবাদীপশু লালন-পালন করে অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের আরও লাভবান করতে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























