রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

ভালো ফলনেও হাসি নেই রসুন চাষীদের

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এবছর সাদা সোনা খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না থাকায় চাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে রসুনের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি রসুনের দাম। কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন রসুন চাষীরা। এ উপজেলায় রসুনের উৎপাদন অনেক বেশি হয়। এখানকার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আগ্রা, গুলিয়ারা ও গোয়ালডিহিসহ প্রায় সব গ্রামেই রসুনচাষ করা হয়েছে। কৃষকরা বর্তমানে রসুন তোলা, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ রসুনের হাট কাচিনীয়া, পাকেরহাট ও ভুল্লারহাটে রসুন বিক্রি করতে এসে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে চাষীরা। ভালো দাম না থাকায় চাষীদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রসুনচাষ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর। গত মৌসুমেও রসুনের ভালো দাম না থাকায় এ বছর কমেছে রসুনের আবাদ।

জানা যায়, প্রতিবিঘা জমিতে রসুন চাষে বীজ, সার, সেচ, হাল ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় অন্তত ৩০-৪০ হাজার টাকা। আর প্রতিবিঘায় ফলন হয় ৪৫-৬০ মণ। প্রতি মণের বর্তমান বাজার মূল্য ৪০০-১ হাজার টাকা। সে হিসেবে লাভের আশায় থাকা রসুন চাষীরা এখন লোকসানের মধ্যে রয়েছেন ।

গোয়ালডিহি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জাগো২৪,নেট-কে বলেন, গত ২ বছর ধরে রসুনের দাম আর আগের মতো নেই। আগে আমরা রসুন পাইকারি বাজারে ২-৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতাম। এখন মাত্র ৮০০ টাকা মণ বিক্রি করছি। এতে খরচের টাকা তোলা নিয়েই সন্দেহ।

রসুনচাষি তুহিন ইসলাম বলেন, রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার নেই। রসুনের বাজার না থাকায় আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের কৃষকদের কৃষিকাজ করেই সংসার চলে। এরকম প্রতিবছর লোকসান হলে সংসার চলবে কিভাবে?

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় জাগো২৪,নেট-কে বলেন, এই অঞ্চল রসুন উৎপাদনের জন্য উপযোগী। কৃষি বিভাগ সর্বদা কৃষকদের পাশে মাঠে রয়েছে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার অন্তত এক হাজার হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ কম হয়েছে । তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। আশা রাখি সময়ের সাথে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ছবি আছে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন