শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

ভাসমান শাক-সবজি ফলাচ্ছেন কৃষণীরা

তোফায়েল হোসেন জাকির
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

আদিকাল থেকে মাটিতে নানা ধরনের ফসল ফলিয়ে আসছে মানুষ। চিরাচরিত সেই নিয়ম ভেঙে মাটির অপরিহার্যতা ছাড়াই গাইবান্ধার ৩ উপজেলায় খাল-বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে শাক-সবজি ফলাচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা।

তারা কলাগাছের উপর কচুরিপানা পঁচিয়ে বেড তৈরি করে তার উপর বীজ ছিটিয়ে নানা শাক-সবজির ফলাচ্ছেন তারা। তাদের এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে আসছে মেলোনাইস সেন্ট্রাল কমিটি বাংলাদেশের (এমসিসিবি) আওতাধীন উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট। গাইবান্ধা সদর উপজেলাসহ নদ-নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

সাঘাটা উপজেলার ঝাড়াবর্ষা বিল রাস্তার পাশে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা হয়েছে। পরপর ভাসমান ৮টি বেড। তাতে চাষ করা হচ্ছে কলমি, লাল, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন রকমের সবজি। শুরুতে ভাসমান বেডে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করা হলেও সফলতা মেলায় এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন চাষিরা। তুলনামূলক চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

এবিষয়ে চাষি আতিয়ার রহমান, আরিফা বেগম, তাহমিনা বেগম জানান, বর্তমানে তারা ভাসমান বেডে লাল, পুঁই ও কলমি ও ডাটা শাক চাষ করেছেন। উৎপাদিত শাক পরিবারসহ খেয়ে প্রত্যেকে সপ্তহে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি করেছেন। এরপর তারা শীতকালীন সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন। তাদের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এ পদ্ধতিতে শাক-সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার ফিল্ড অর্গানাইজার মমতা খাতুন জানান, বর্তমানে সাঘাটা উপজেলার ঝাড়াবর্ষা বিল, বিষ পুকুর বিল ও গলাকাটা বিলে পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান সবজি চাষ চালু করা হয়েছে। এখান থেকে একটি পরিবার নিজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সপ্তাহে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

তিনি বলেন, একটি বেডে তিন থেকে চারবার যেকোনো শাক চাষ করা যায়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ্য হতে পারে ২৫ থেকে ৩০ ফুট । প্রস্থ ৪ থেকে ৫ ফুট। বেডটি দুইটি স্তরে তৈরি করা হয়। এরমধ্যে নিচের স্তরে কলাগাছ দিয়ে একটি বেড তৈরি করা হয়। ওপরের স্তরের কচুরিপানা দেওয়া হয়। কচুরিপানা পচে গেলে উপরে বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সাঘাটার এসব বিল এলাকার লোকজনকে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আগ্রহী চাষিদের প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে বেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন জানান, উন্নয়ন সংস্থা ভাসমান বেডে সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি সাঘাটা উপজেলার তিনটি স্থানে প্রাথমিকভাবে সবজি চাষ করে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ভাসমান সবজি চাষে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

 

 

 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন