শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালের রাজস্বাক্ষী ‘৬৯’ হিজরি’র “হারানো মসজিদ”

মোঃ শাহজাহান সাজু, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস মৌজায় হিজরি ‘৬৯’ সালে অবস্থিত এশিয়ার প্রথম মসজিদ ঐতিহাসিক ‘হারানো মসজিদ’। মসজিদটিকে বলা হয় ইসলাম প্রচারের প্রাচীনতম নিদর্শন।  মসজিদটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘জামেয়-আস সাহাবা’। রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান যা কালের রাজস্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালমনিরহাটে।
জানা গেছে, বহু বছর ওই এলাকার একটি জঙ্গলে গাছ-লতাপাতায় ঢাকা ছিল মসজিদটি। ‘৬৯’ হিজরি সালে নির্মিত মসজিদটির কেবল ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট আছে। অন্য কোনো নিদর্শন না থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি ‘হারানো মসজিদ’ নামেই পরিচিত।
মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া একটি ইটে স্পষ্ট আরবি হরফে লেখা কালেমা তাইয়্যেবা ও ‘৬৯’ হিজরি সাল। স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা- মসজিদটি ‘৬৯’ হিজরী ইংরেজি ৬৮৯-৬৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় মসজিদটি, জংলি গাছ-লতাপাতায় ঢাকা পড়ে যায় ধ্বংসাবশেষ।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৭ সালে রামদাস গ্রামে মসতের আড়া নামক একটি মাটির ঢিবি কেটে সমতল করা হয়। ওই সময় প্রাচীন এ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান জমির মালিক। পরে সেখান থেকে ইট ওঠানো বাদ দিয়ে মাটি সরাতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ২১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট, চারটি মিনার ও এক গুম্বুজ সম্বলিত মসজিদের ভিত্তি দৃশ্যমান হয়। যার দেয়ালের পুরুত্ব ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। এছাড়া সেখানে হারিয়ে যাওয়া মসজিদের ধ্বংসস্তুপ থেকে কারুকার্যমণ্ডিত ইট ও গম্বুজের চূড়া পাওয়া গেছে।
তারা আরো জানান, ১৯৮৭ সালে মসজিদটি পুনরুদ্ধারের পর থেকেই সেখানে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। প্রাচীন এ মসজিদ দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। বর্তমানে প্রাচীন এ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে একটি সাদৃশ্য মসজিদের নির্মাণের কাজ চলমান।
স্থানীয়রা বলেন, কিছুদিন আগেও এখানে জঙ্গলের বিরাট স্তুপ ছিল। জঙ্গল কেটে এই ‘হারানো মসজিদ’ আবিষ্কারের কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ মসজিদটি দেখতে আসে। অনেকে এখানে মিলাদ-মাহফিলের আয়েজনও করে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাপ ফারুক বসুনিয়া বলেন, কবে এ মসজিদ নির্মাণ হয়েছিল তা আমার জানা নেই। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই মসজিদটি আবিষ্কারের পর হারিয়ে যাওয়া মসজিদের সাদৃশ্য মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে পাশাপাশি এখানে মাদরাসা ও লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ   উল্যাহ বলেন, লোকমুখে শুনেছি হিজরি  ‘৬৯’ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। শুক্রবার জুম’আর নামাজ পড়তে  অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লীরা আসেন যার ফলে মসজিদের ভেতরে জায়গার সংকুলান হয় না। তাই  মসজিদটির পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে। আগামীতে এ মসজিদের আরো উন্নয়ন মূলক কাজ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
জনপ্রিয়

কালের রাজস্বাক্ষী ‘৬৯’ হিজরি’র “হারানো মসজিদ”

প্রকাশের সময়: ০৮:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩
মোঃ শাহজাহান সাজু, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস মৌজায় হিজরি ‘৬৯’ সালে অবস্থিত এশিয়ার প্রথম মসজিদ ঐতিহাসিক ‘হারানো মসজিদ’। মসজিদটিকে বলা হয় ইসলাম প্রচারের প্রাচীনতম নিদর্শন।  মসজিদটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘জামেয়-আস সাহাবা’। রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান যা কালের রাজস্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালমনিরহাটে।
জানা গেছে, বহু বছর ওই এলাকার একটি জঙ্গলে গাছ-লতাপাতায় ঢাকা ছিল মসজিদটি। ‘৬৯’ হিজরি সালে নির্মিত মসজিদটির কেবল ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট আছে। অন্য কোনো নিদর্শন না থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি ‘হারানো মসজিদ’ নামেই পরিচিত।
মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া একটি ইটে স্পষ্ট আরবি হরফে লেখা কালেমা তাইয়্যেবা ও ‘৬৯’ হিজরি সাল। স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা- মসজিদটি ‘৬৯’ হিজরী ইংরেজি ৬৮৯-৬৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় মসজিদটি, জংলি গাছ-লতাপাতায় ঢাকা পড়ে যায় ধ্বংসাবশেষ।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৭ সালে রামদাস গ্রামে মসতের আড়া নামক একটি মাটির ঢিবি কেটে সমতল করা হয়। ওই সময় প্রাচীন এ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান জমির মালিক। পরে সেখান থেকে ইট ওঠানো বাদ দিয়ে মাটি সরাতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ২১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট, চারটি মিনার ও এক গুম্বুজ সম্বলিত মসজিদের ভিত্তি দৃশ্যমান হয়। যার দেয়ালের পুরুত্ব ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। এছাড়া সেখানে হারিয়ে যাওয়া মসজিদের ধ্বংসস্তুপ থেকে কারুকার্যমণ্ডিত ইট ও গম্বুজের চূড়া পাওয়া গেছে।
তারা আরো জানান, ১৯৮৭ সালে মসজিদটি পুনরুদ্ধারের পর থেকেই সেখানে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। প্রাচীন এ মসজিদ দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। বর্তমানে প্রাচীন এ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে একটি সাদৃশ্য মসজিদের নির্মাণের কাজ চলমান।
স্থানীয়রা বলেন, কিছুদিন আগেও এখানে জঙ্গলের বিরাট স্তুপ ছিল। জঙ্গল কেটে এই ‘হারানো মসজিদ’ আবিষ্কারের কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ মসজিদটি দেখতে আসে। অনেকে এখানে মিলাদ-মাহফিলের আয়েজনও করে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাপ ফারুক বসুনিয়া বলেন, কবে এ মসজিদ নির্মাণ হয়েছিল তা আমার জানা নেই। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই মসজিদটি আবিষ্কারের পর হারিয়ে যাওয়া মসজিদের সাদৃশ্য মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে পাশাপাশি এখানে মাদরাসা ও লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ   উল্যাহ বলেন, লোকমুখে শুনেছি হিজরি  ‘৬৯’ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। শুক্রবার জুম’আর নামাজ পড়তে  অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লীরা আসেন যার ফলে মসজিদের ভেতরে জায়গার সংকুলান হয় না। তাই  মসজিদটির পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে। আগামীতে এ মসজিদের আরো উন্নয়ন মূলক কাজ করা হবে ইনশাআল্লাহ।