তোফায়েল হোসেন জাকির: স্থায়ী শীতে ভালো নেই গাইবান্ধার সেলুনের নরসুন্দররা। কনকনে ঠান্ডায় কমেছে তাদের গ্রাহক। ফলে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলয় পড়ছেন ঋণের ফাঁদে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা শহরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নরসুন্দররা সেলুনে অলস সময় পার করছেন। তীব্র শীতে গ্রাহকের আনাগোনা কম থাকায় মাথায় হাতবুলিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, গেল কয়েক বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এ বছরের তাপমাত্রা। এরই মধ্যে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এতে শীতের কাবু জনজীবন। এ কারণে অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। আর এর প্রভাব পড়েছে সেলুনের নরসুন্দরদের ওপরে। এ জেলার প্রায় ৪ হাজারের বেশী সেলুনের মালিক-কর্মচারি যৌথভাবে এ পেশার সাথে জড়িত। পরোক্ষভাবে এ পেশার ওপর নির্ভশীল। তীব্র শীতে কমেছে তাদের গ্রাহক। অধিকাংশ মানুষ বিলম্বে চুল কাটা ও শেভ করে নিচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়িতে নিজেরা শেভের কাজ সারছেন। তাই বিপাকে পড়ছেন নরসুন্দররা। এতে করে পরিবার-পরিজনের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।
মোসলেন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানান, শীতের দাপটে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। এ কারণে খুব দেরিতে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সপ্তাহে দুইদিন শেভ করে নিলেও শীতের কারণে নিচ্ছেন একদিন। তাও কখনো নিজেই বাড়িতে সারছেন।
তীব্র শীতে অকেটা কাজ কমেছে বলে জানিয়েছেন নরসুন্দর এনামুল হক ভুট্রু। তিনি বলেন, আগে দৈনন্দিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা রোজগার করছিলাম। এবার টানা শীতের কারণে সেই রোজগার নেমেছে অর্ধেকে। এতে করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছি।
নাগবাড়ী বাজারের ভাই ভাই হেয়ার কাটিং হাউজের কর্মচারী রেজাউল কমির বলেন, কনকনে ঠান্ডায় যবুযথু অবস্থায় মানুষেরা। তাদের চুল-দাড়ি বড় হলেও সেলুনমখো হচ্ছে না। অনেকে শেভের কাজ বাড়িতে সারছেন। কেউ বা দেরিতে চুল-শেভ করে নিচ্ছেন। ফলে কমেছে রোজগার। আর অর্থ সংকটে ধারদেনা করে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
গাইবান্ধা শহরস্থ সেলুনের নজরুল ইসলাম নামের এক নরসুন্দর জাগো২৪.নেট-কে জানান, আগে সেলুনে কাজ করে সংসারের খরচ বাদে কিছু সঞ্চয়ও করতেন। কিন্তু টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় দুইটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন কিন্তু কিস্তি দিতে পারছেন না। এমতাবস্থায় শীত দুর্যোগের কবলে খুব ক্ষতির মধ্যে রয়েছি। এ ব্যাপারে সরকারি সহায়তা পেলে উপকৃত হতাম।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























