মো. রফিকুল ইসলাম: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অবকাঠামো ও খেলার মাঠসহ সবই আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের নেই কোনো রাস্তা। এ বিদ্যালয়টির নাম ৬৪নং ফরিদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামে অবস্থিত। এ বিদ্যালয়ের চারিদিকে ফসলি জমি আর ক্ষেত। জমির আইল ও বাড়ির উঠান দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। চলাচলের রাস্তা না থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৯৮৮ সালে ৬৪নং ফরিদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয়। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ৬জন শিক্ষক কর্মরত এবং শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী বীরগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন মূল সড়ক থেকে অনন্ত ৫০০ মিটার দূরে আঁকাবাঁকা পথ এবং আবাদি জমি পেরিয়ে ৬৪নং ফরিদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ের চারিদিকে আবাদি জমি। এসব জমিতে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনে যেতে হলে অতিক্রম করতে হবে বাড়ির উঠান ও জমির আইল। বিদ্যালয়ে রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য। তাই পায়ে হেঁটে সংশ্লিষ্টদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এলাকার সোলেমান আলী, হরিপদ অধিকারী ও রবি সেনের দেয়া জমি দিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। হরিপদ অধিকারী দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের দিকে সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়া ও জমির সীমানা জটিলতার জেরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের নির্ধারিত রাস্তাটি কেটে আবাদি জমিতে রুপান্তরিত করেন হরিপদ অধিকারী। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবারো জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ভুট্টাক্ষেতের আইল ও বাঁশঝাড়ের ভিতর দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছেন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোখলেছুর রহমান বলেন, ক্ষেতের মধ্যদিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অত্যন্ত অসুবিধা হয়। বর্ষা মৌসুমে আরো কষ্ট বেড়ে যায়। কাদা-পানি পার হয়ে আমাদেরকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। একই শ্রেণির ছাত্রী জ্যোতি সরকার বলেন, ভুট্টাক্ষেত ও বাঁশঝাড় দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে ভয় করে। শিক্ষকেরা দাঁড়িয়ে থেকে আমাদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে সহায়তা করেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একটি রাস্তা হলে ভালো হতো।
স্থানীয় নুর ইসলাম, শামসুল আলম ও মোহন সেনসহ কয়েকজন জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলাচল করার জন্য রাস্তা ছিল। সেই রাস্তাটি কেন কেটে ফেলা হয়েছে? এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
এসব বিষয় অস্বীকার করে হরিপদ অধিকারী মুঠোফোনে বলেন, এটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এ জমি আমি ছেড়ে দেব না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনছার আলী জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সকলকেই কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তারপরেও আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত ও শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখতে কাজ করছি। তবে সকলের স্বদিচ্ছায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে শিক্ষার মান আরো ভালো হবে।
এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ইতিপূর্বে একাধিকবার ওই বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জমি মালিকের অনিচ্ছার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয় ও দুর্ভোগ লাঘবে শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 
























