সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালভার্টের ওপর সাঁকো এখন মরণফাঁদ

গাইবন্ধার সাঘাটা উপজেলায় গেল বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়েছে একটি কালভার্ট। স্থানীয়দের উদ্যোগে ভাঙা এই কালভার্টের ওপর নির্মাণ করা হয় কাঠের সাঁকো। ইতোমধ্যে সেটিও এখন নড়বড়ে অবস্থায়। তবুও জীবনের ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে ৮ গ্রামের মানুষ। এ যেনো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সম্প্রতি এই ভাঙা কালভার্ট-সাঁকোর দৃশ্য দেখা গেছে-গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া-জুমারবাড়ী রাস্তার ওপরে। একইসঙ্গে পথচারীদের দুর্ভোগও লক্ষ্যণীয়।

স্থানীয়রা জানা যায়, এ সড়কটি উপজেলার হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ৮ গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র পথ। গত ১৯৯৮ সালে এ সড়কটির পূর্বআমীদরপাড়া এলাকায় খালের ওপর এলজিইডি আওতায় ১৯ মিটার দৈর্ঘ্য এ কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় নির্মাণ কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজ করায় ব্রিজটি আল্প সময়ের মধ্যে নড়বড়ে হয়ে পড়ে প্রায় ৫ বছর আগে। সংস্কার না করায় চলতিবছর বন্যার সময় পানির চাপে কালভার্টটি দেবে ভেঙে পড়ে। এ রুটে প্রতিদিন হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্দি, গোবিন্দপুর, বেড়া, গারামারা,  উত্তর দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ী ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বআমদিরপাড়াসহ অন্তত ৮টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।

আরও জানা যায়, গেল বন্যার পানির চাপে কালভার্টটির পূর্ব প্রান্তের নিচ থেকে মাটি সরে গভীর হওয়ায় কালভার্টটির পূর্ব  মাথা দেবে ভেঙে পড়ে। ফলে এ পথে জনসাধারণের চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ভাঙা কালভার্টে ওপর একটি কাঠেসাঁকো নির্মাণ করে অস্থায়ীভাবে চলাচল শুরু করেন।

স্থানীয় ইজিবাইক চালক নজরুল ইসলাম বলেন, যাত্রী বা মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে কাঠের সাঁকো পার হওয়া যায় না। যাত্রী নেমে পারাপার হতে হয়। মাল বোঝাই ভ্যান লোকজন দিয়ে ঠেলা-ঠেলি করে ভয় নিয়ে পার হতে হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান বলেন, আট থেকে নয়টি গ্রামের শত শত জনসাধারণ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে। এলাকার ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা নেওয়া ছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শস্য বাজারে বিক্রির জন্য গ্রামীণ যানবাহনে করে নিয়ে যায়। জনগুলুত্বপুর্ণ এ রাস্তায় ভেঙে পড়া কালভার্টের ওপর যে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে তা গ্রামীণ যানবাহন চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, কালভার্ট ভেঙে পড়ার বিয়টি ইউএনও এবং প্রকৌশলীকে অবগতা করেছি। পাশাপশি  জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাঙা কালভার্টের ওপর অস্থায়ী কাঠের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি। কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় আমার ইউনিয়নের অন্তত ৭ গ্রামের জনসাধাণ দুর্ভোগে পড়েছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, এই মুহূর্তে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করার মতো বাজেট আমাদের নেই। সেখানে নতুন করে নির্মাণের জন্য কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

কালভার্টের ওপর সাঁকো এখন মরণফাঁদ

প্রকাশের সময়: ০১:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

গাইবন্ধার সাঘাটা উপজেলায় গেল বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়েছে একটি কালভার্ট। স্থানীয়দের উদ্যোগে ভাঙা এই কালভার্টের ওপর নির্মাণ করা হয় কাঠের সাঁকো। ইতোমধ্যে সেটিও এখন নড়বড়ে অবস্থায়। তবুও জীবনের ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে ৮ গ্রামের মানুষ। এ যেনো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সম্প্রতি এই ভাঙা কালভার্ট-সাঁকোর দৃশ্য দেখা গেছে-গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া-জুমারবাড়ী রাস্তার ওপরে। একইসঙ্গে পথচারীদের দুর্ভোগও লক্ষ্যণীয়।

স্থানীয়রা জানা যায়, এ সড়কটি উপজেলার হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ৮ গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র পথ। গত ১৯৯৮ সালে এ সড়কটির পূর্বআমীদরপাড়া এলাকায় খালের ওপর এলজিইডি আওতায় ১৯ মিটার দৈর্ঘ্য এ কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় নির্মাণ কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজ করায় ব্রিজটি আল্প সময়ের মধ্যে নড়বড়ে হয়ে পড়ে প্রায় ৫ বছর আগে। সংস্কার না করায় চলতিবছর বন্যার সময় পানির চাপে কালভার্টটি দেবে ভেঙে পড়ে। এ রুটে প্রতিদিন হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্দি, গোবিন্দপুর, বেড়া, গারামারা,  উত্তর দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ী ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বআমদিরপাড়াসহ অন্তত ৮টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।

আরও জানা যায়, গেল বন্যার পানির চাপে কালভার্টটির পূর্ব প্রান্তের নিচ থেকে মাটি সরে গভীর হওয়ায় কালভার্টটির পূর্ব  মাথা দেবে ভেঙে পড়ে। ফলে এ পথে জনসাধারণের চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ভাঙা কালভার্টে ওপর একটি কাঠেসাঁকো নির্মাণ করে অস্থায়ীভাবে চলাচল শুরু করেন।

স্থানীয় ইজিবাইক চালক নজরুল ইসলাম বলেন, যাত্রী বা মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে কাঠের সাঁকো পার হওয়া যায় না। যাত্রী নেমে পারাপার হতে হয়। মাল বোঝাই ভ্যান লোকজন দিয়ে ঠেলা-ঠেলি করে ভয় নিয়ে পার হতে হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান বলেন, আট থেকে নয়টি গ্রামের শত শত জনসাধারণ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে। এলাকার ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা নেওয়া ছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শস্য বাজারে বিক্রির জন্য গ্রামীণ যানবাহনে করে নিয়ে যায়। জনগুলুত্বপুর্ণ এ রাস্তায় ভেঙে পড়া কালভার্টের ওপর যে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে তা গ্রামীণ যানবাহন চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, কালভার্ট ভেঙে পড়ার বিয়টি ইউএনও এবং প্রকৌশলীকে অবগতা করেছি। পাশাপশি  জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাঙা কালভার্টের ওপর অস্থায়ী কাঠের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি। কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় আমার ইউনিয়নের অন্তত ৭ গ্রামের জনসাধাণ দুর্ভোগে পড়েছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, এই মুহূর্তে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করার মতো বাজেট আমাদের নেই। সেখানে নতুন করে নির্মাণের জন্য কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।