সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্ধশত বছর পরে এসে জমির মালিকানা 

পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক আমরা। ১৯৭৫ সালে জমি ৪৭ শতাংশ ক্রয় করেন আমার বাবা। সেই থেকে ভোগদখলে আমাদের। বার্ধক্যজনিত কারণে বাবা অসুস্থ। ৩ ভাইয়ের ২ ভাই থাকেন ঢাকায়। আমি নিজেও এক্সিডেন্ট করার পর থেকে চলাচল করতে পারছি না। আর সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া ভূমিদস্যুদের সহায়তায় আমাদের জমি দখল করে নিয়েছেন দিনদুপুরে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন মো. জাহাঙ্গীর কবীর রতন (৩৮)। তিনি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মো. আবদুল জলিল সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর কবীর রতন।

তবে অভিযুক্ত মো. আশরাফুল মিয়া (৩২) বলেন, ‘জমিটা আমাদের এটা আগে জানতাম না আমরা। বছর পাঁচেক আগে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তখন থেকে জমি উদ্ধারে তৎপর হই। সর্বশেষ গত সোমবার আমাদের জমি আমরা দখলে নেই।’ মো. আশরাফুল মিয়া একই গ্রামের মৃত হারেছ আলীর ছেলে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমির পূর্ব পার্শ্বে একখানা টিনের ঘর, কিছু কলাগাছ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও জমির কিছু অংশে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এটি যে জবরদখল করে করা হয়েছে সেটি দেখেই বোঝা গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, কঞ্চিবাড়ী গ্রামের জাহাঙ্গীর কবির রতনের পিতা আব্দুল জলিল প্রায় ৫০ বছর আগে ৪৭ শতক জমি ক্রয় করেন৷ পরে ১৫ শতক জমি স্থানীয় মসজিদের নামে দান করেন। আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় স্থানীয় মৃত হারেছ আলীর ছেলে আশরাফুল মিয়া ওই নিজেদের জমি দাবি করে গত ২ সেপ্টেম্বর দিন-দুপুরে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে ঘর তোলেন। এছাড়া গাছের চারা ও ধানের চারা রোপণ করেন।

এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, ওই জমি জাহাঙ্গীর কবির রতনদের দখলে দেখে আসছি বহুদিন ধরে। জানামতে জমির কাগজ পত্রও তাদের নামে। কাজেই এভাবে জমি দখল করাটা ঠিক হয়নি আশরাফুলদের। তবে বিষয়টি মিমাংসার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বলেন, অভিযোগ টি পেয়েছি। দু’পক্ষকেই ডেকে কোর্টে যেতে বলেছি। কোর্ট যেভাবে নির্দেশনা দিবে সে মোতাবেক কাজ হবে।

জনপ্রিয়

অর্ধশত বছর পরে এসে জমির মালিকানা 

প্রকাশের সময়: ১০:১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক আমরা। ১৯৭৫ সালে জমি ৪৭ শতাংশ ক্রয় করেন আমার বাবা। সেই থেকে ভোগদখলে আমাদের। বার্ধক্যজনিত কারণে বাবা অসুস্থ। ৩ ভাইয়ের ২ ভাই থাকেন ঢাকায়। আমি নিজেও এক্সিডেন্ট করার পর থেকে চলাচল করতে পারছি না। আর সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া ভূমিদস্যুদের সহায়তায় আমাদের জমি দখল করে নিয়েছেন দিনদুপুরে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন মো. জাহাঙ্গীর কবীর রতন (৩৮)। তিনি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মো. আবদুল জলিল সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর কবীর রতন।

তবে অভিযুক্ত মো. আশরাফুল মিয়া (৩২) বলেন, ‘জমিটা আমাদের এটা আগে জানতাম না আমরা। বছর পাঁচেক আগে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তখন থেকে জমি উদ্ধারে তৎপর হই। সর্বশেষ গত সোমবার আমাদের জমি আমরা দখলে নেই।’ মো. আশরাফুল মিয়া একই গ্রামের মৃত হারেছ আলীর ছেলে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমির পূর্ব পার্শ্বে একখানা টিনের ঘর, কিছু কলাগাছ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও জমির কিছু অংশে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এটি যে জবরদখল করে করা হয়েছে সেটি দেখেই বোঝা গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, কঞ্চিবাড়ী গ্রামের জাহাঙ্গীর কবির রতনের পিতা আব্দুল জলিল প্রায় ৫০ বছর আগে ৪৭ শতক জমি ক্রয় করেন৷ পরে ১৫ শতক জমি স্থানীয় মসজিদের নামে দান করেন। আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় স্থানীয় মৃত হারেছ আলীর ছেলে আশরাফুল মিয়া ওই নিজেদের জমি দাবি করে গত ২ সেপ্টেম্বর দিন-দুপুরে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে ঘর তোলেন। এছাড়া গাছের চারা ও ধানের চারা রোপণ করেন।

এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, ওই জমি জাহাঙ্গীর কবির রতনদের দখলে দেখে আসছি বহুদিন ধরে। জানামতে জমির কাগজ পত্রও তাদের নামে। কাজেই এভাবে জমি দখল করাটা ঠিক হয়নি আশরাফুলদের। তবে বিষয়টি মিমাংসার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বলেন, অভিযোগ টি পেয়েছি। দু’পক্ষকেই ডেকে কোর্টে যেতে বলেছি। কোর্ট যেভাবে নির্দেশনা দিবে সে মোতাবেক কাজ হবে।