শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদরাসা যাওয়া বন্ধ ছাত্রীর, আতঙ্কে পরিবার

ছবি: প্রতিকী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী আল আমিন মিয়ার উত্ত্যক্তের কারণে প্রায় ১৭ দিন ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে এক ছাত্রীর। একইসঙ্গে আল আমিনের অব্যাহত হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না অভিভাবক ও মেয়েটিকে। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে একাধিক অভিযোগও দিয়েছিলেন মেয়েটি। কোনো সুরাহা না পেয়ে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেন সঠিক বিচার পাবার আশায়।

সম্প্রতি সময়ে তাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় (ফেসবুক) নানা কথা ছড়িয়ে পড়ায় মেয়েটি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে আবেদন করেও নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না তার পরিবারের লোকজন।

ভুক্তভোগি মেয়েটির মামা আমজাদ হোসেন বলেন, ভাগ্নি আমাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। বর্তমান সে ওই মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ছে। ঘটনার দিন ভাগ্নীর মোবাইল ফোনটি আমাদের কাছে ছিলো। ঠিক সেই মুহুর্তে অফিস সহকারী মো. আল আমিন মিয়ার মোবাইল নম্বর থেকে একটি এসএমএস আসে তার ফোনে। এসএমএসটি ছিলো, “ও জান কথা বলো না কেনো গো”। পরে বিষয়টি নিয়ে ভাগ্নীর সাথে কথা বলি। নিজ মাদরাসার অফিস সহকারী তাকে উত্যক্ত করে আসছে বলে বিষয়টি তখন স্বীকার করে সে।

লম্পট অফিস সহকারীর শাস্তি দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে অশান্তি আরও বেড়েছে। আপোষ-মিমাংসা করার জন্য এলাকার এবং সুন্দরগঞ্জের অনেক মাতবর চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা গরীব মানুষ। ন্যায় বিচার পাবো কি না সন্দেহ হচ্ছে।

মেয়ের বাবা বলেন, মেয়ের ফোনে ম্যাসেজ দিয়েছে আল আমিন। বিচারের আশায় গত ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযোগ দিয়েছে আমার মেয়ে। এখনও বিচার পাইনি। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হুমকি-ধামকিসহ খুবই চাপ দিচ্ছে আমাদের। ঘটনার দিন থেকে লজ্জায় মাদরাসা যাচ্ছে না মেয়েটি।  আমরাও বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, ওই মাদারাসাটি আল আমিনদের নিয়ন্ত্রণে চলে। অন্য কারো কোনো পাত্তা নেই ওখানে। কারণ হলো ওর আপন সহোদর বড় ভাই ওখানকার সুপার। আরেক আপন সহোদর বড় ভাই সহকারী সুপার। এছাড়াও আরও একাধিক পদে আছেন তাদের আপনজন। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না কেউ। এ ধরণের ঘটনা আল আমিনের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও ঘটিয়েছেন আল আমিন মিয়া।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আল আমিন মিয়ার বলেন, আমার মোবাইল ফোন থেকে মেয়েটির ফোনে এসএমএসটি গিয়েছে এটা ঠিক। তবে আমি পাঠাইনি। আমার মাদরাসার নাইটগার্ড আমার মোবাইল ফোন থেকে এসএমএসটি পাঠিয়েছেন।

দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

মাদরাসা যাওয়া বন্ধ ছাত্রীর, আতঙ্কে পরিবার

প্রকাশের সময়: ০৭:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী আল আমিন মিয়ার উত্ত্যক্তের কারণে প্রায় ১৭ দিন ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে এক ছাত্রীর। একইসঙ্গে আল আমিনের অব্যাহত হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না অভিভাবক ও মেয়েটিকে। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে একাধিক অভিযোগও দিয়েছিলেন মেয়েটি। কোনো সুরাহা না পেয়ে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেন সঠিক বিচার পাবার আশায়।

সম্প্রতি সময়ে তাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় (ফেসবুক) নানা কথা ছড়িয়ে পড়ায় মেয়েটি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে আবেদন করেও নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না তার পরিবারের লোকজন।

ভুক্তভোগি মেয়েটির মামা আমজাদ হোসেন বলেন, ভাগ্নি আমাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। বর্তমান সে ওই মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ছে। ঘটনার দিন ভাগ্নীর মোবাইল ফোনটি আমাদের কাছে ছিলো। ঠিক সেই মুহুর্তে অফিস সহকারী মো. আল আমিন মিয়ার মোবাইল নম্বর থেকে একটি এসএমএস আসে তার ফোনে। এসএমএসটি ছিলো, “ও জান কথা বলো না কেনো গো”। পরে বিষয়টি নিয়ে ভাগ্নীর সাথে কথা বলি। নিজ মাদরাসার অফিস সহকারী তাকে উত্যক্ত করে আসছে বলে বিষয়টি তখন স্বীকার করে সে।

লম্পট অফিস সহকারীর শাস্তি দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে অশান্তি আরও বেড়েছে। আপোষ-মিমাংসা করার জন্য এলাকার এবং সুন্দরগঞ্জের অনেক মাতবর চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা গরীব মানুষ। ন্যায় বিচার পাবো কি না সন্দেহ হচ্ছে।

মেয়ের বাবা বলেন, মেয়ের ফোনে ম্যাসেজ দিয়েছে আল আমিন। বিচারের আশায় গত ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযোগ দিয়েছে আমার মেয়ে। এখনও বিচার পাইনি। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হুমকি-ধামকিসহ খুবই চাপ দিচ্ছে আমাদের। ঘটনার দিন থেকে লজ্জায় মাদরাসা যাচ্ছে না মেয়েটি।  আমরাও বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, ওই মাদারাসাটি আল আমিনদের নিয়ন্ত্রণে চলে। অন্য কারো কোনো পাত্তা নেই ওখানে। কারণ হলো ওর আপন সহোদর বড় ভাই ওখানকার সুপার। আরেক আপন সহোদর বড় ভাই সহকারী সুপার। এছাড়াও আরও একাধিক পদে আছেন তাদের আপনজন। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না কেউ। এ ধরণের ঘটনা আল আমিনের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও ঘটিয়েছেন আল আমিন মিয়া।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আল আমিন মিয়ার বলেন, আমার মোবাইল ফোন থেকে মেয়েটির ফোনে এসএমএসটি গিয়েছে এটা ঠিক। তবে আমি পাঠাইনি। আমার মাদরাসার নাইটগার্ড আমার মোবাইল ফোন থেকে এসএমএসটি পাঠিয়েছেন।

দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।