রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন রূপে খানসামা শিশুপার্ক

মো. রফিকুল ইসলাম: শিশুদের চিত্তবিনোদন ও মেধার বিকাশে নতুন রুপে সজ্জিত হয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত শিশু পার্কটি। যা গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মনের খোরাক মিটাচ্ছে। বর্তমান এ আধুনিক যুগে শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়েই বড় হচ্ছে। সেই অবস্থায় শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন কেন্দ্রে হিসেবে গড়ে উঠেছে খানসামা শিশু পার্ক। এখন শিশুদের অবসর সময় কাটাচ্ছে এ শিশু পার্কে।

বিগত ২০২০ সালের শেষের দিকে খানসামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৪ একর জমিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষিবিদ আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের পরিকল্পনায় বাস্তবায়িত হয় এ নান্দনিক শিশু পার্ক। এতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল, খেলাধুলার রাইড এবং ১ হাজার ৭০০ ফিট দৈর্ঘ্যের টাইলসের ওয়াকওয়ে। পার্কে শিশু ও দর্শনার্থীদের নিয়মিত পদচারণা ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতে সম্প্রসারিত অংশের কাজ শুরু করেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন। এতে নতুন প্রায় ৫০০ ফুট ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে পার্কটি। সেই সাথে সংযোজন করা হয়েছে ৫ টি নতুন রাইড, পেঙ্গুইন আকৃতির ৫টি ডাস্টবিন এবং দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াশব্লক। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে সম্প্রসারিত অংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ শিশু পার্ককে ঘিরে আগ্রহী হয়ে উঠছেন শিশু-কিশোর ও অভিভাবকেরা। প্রতিদিন বিকাল হলেই শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে পার্কটি। পার্কের সামনে বসেছে ফুচকা-চটপটি ও ঝালমুড়ির দোকান।

সরজমিন শিশু পার্কে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পার্কে ক্রেস্ট স্টাইলে নির্মিত নতুন ডিজাইনের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের সময় শিল্পী ও ক্যামেরা ম্যানের ম্যুরাল আগতদের ছবি তুলছে আর স্বাগত জানাচ্ছে। পার্কের মাঝে দুইটি হরিণ দাঁড়িয়ে আছে আর তাদের একটি বাচ্চা ঘাস খাচ্ছে। তার পূর্বে পাঁচটি বক দিয়ে নির্মিত বক চত্বরের পানির মধ্যেই ভাসমান আছে কুমিড়ের ম্যুরাল। এর পাশেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। মুখ হা করে হরিণের দিকে তাকিয়ে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

এছাড়াও পার্কে পুরো জায়গা জুড়ে সুসজ্জিতভাবে শোভা পাচ্ছে হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, প্রজাপতি, সিংহ, ড্রাগন, ডাইনোসর, মোরগ, জাতীয় পাখি দোয়েল ও ছোট হাতির বাচ্ছা, জেব্রা, ঈগল পাখি, কুনোব্যাঙ, কচ্ছপ, উটপাখি, ময়না, শালিক, ডাহুক পাখি এবং নৃত্য অবস্থায় দুটি ডলফিনের ম্যুরাল। এছাড়াও সাদা-লালচে কালারের চারটি সারোস, ডালের নিচে বসা চারটি টিয়া পাখি, পাখা মেলে বসে আছে দুইটি ময়ূর, বাদ্যযন্ত্র বাঁজানোর তালে তালে নৃত্য অবস্থায় দুইটি হাঁসের কার্টুন। মাঝখানে মোটু-পাতলু তার পাশে ক্যাঙ্গারু ও কাঁঠবিড়ালি। তাদের সামনে কলা খাওয়া অবস্থায় বানর এবং স্যালুট অবস্থানে গরিলা। ছবি তোলার জন্য রাস্তার দু’পাশে দুটি পেঙ্গুইন।

শিশুদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য যোগ হয়েছে নতুনভাবে স্থাপিত অত্যাধুনিক ফিস রাইড, হেলিকপ্টার রাইড, দোলনা ও ঘোড়া রাইড। পেঙ্গুইন আকৃতির ডাস্টবিন স্থাপন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় আগত দর্শনার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

নান্দনিক এই শিশু পার্কে পশু-পাখির সমারোহ ছাড়াও শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দোলনা ও রাউন্ড দোলনা, স্লিপার। ডায়বেটিস ও ডায়েট কন্ট্রোল চেষ্টায় হাটহাটির জন্য টাইলসের ওয়াকওয়ে। বসার জন্য রয়েছে টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ। এতে শিশুরা যেমন বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে তেমনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষরাও প্রশান্তি অনুভব করছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

রাহাত, স্নিগ্ধা ও সিহাজসহ কয়েকজন শিশু জানায়, শিশু পার্কে আসতে অনেক ভালো লাগে। এখানে অনেক প্রকার খেলনা আছে। এজন্য প্রতিদিন বিকালে এখানে আসি।

শিক্ষার্থী রিপন ইসলাম আনন্দের সুরে বলেন, শিশু পার্কটি অনেক পরিপাটি ও সৌন্দর্য্যময়। যে কারণে অবসর সময় পার্কে ঘুরতে আসি। পার্কের আকার ও খেলনা বৃদ্ধি হওয়ায় এটির সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিভাবক মজনু আলম বলেন, বর্তমান সময়ে সুস্থ বিনোদন ও শিশুদের অবসর সময় কাটানোর জন্য পর্যটন কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সেই জায়গায় খানসামা শিশু পার্ক আমাদের জন্য স্বস্তির। তাই সুযোগ পেলেই বাচ্চা নিয়ে এখানে আসি। এজন্য পার্ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।

গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান মো: সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, উপজেলা প্রশাসন শিশু পার্কটিকে যেভাবে বর্তমান যুগের সাথে মিল রেখে সাজিয়েছেন তা সত্যিই দেখার মত। এতে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা সুস্থ ও নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে এমন শিশু পার্ক নির্মাণ করা গেলে সেটি প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য অনেক ইতিবাচক ও কার্যকরী হবে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই উপজেলার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আমার পূর্বের স্যারেরা এটিকে নতুন রুপ দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে পরিধি সম্প্রসারিত, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, রাইড ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে পার্ককে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

নতুন রূপে খানসামা শিশুপার্ক

প্রকাশের সময়: ০২:৪২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মো. রফিকুল ইসলাম: শিশুদের চিত্তবিনোদন ও মেধার বিকাশে নতুন রুপে সজ্জিত হয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত শিশু পার্কটি। যা গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মনের খোরাক মিটাচ্ছে। বর্তমান এ আধুনিক যুগে শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়েই বড় হচ্ছে। সেই অবস্থায় শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন কেন্দ্রে হিসেবে গড়ে উঠেছে খানসামা শিশু পার্ক। এখন শিশুদের অবসর সময় কাটাচ্ছে এ শিশু পার্কে।

বিগত ২০২০ সালের শেষের দিকে খানসামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৪ একর জমিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষিবিদ আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের পরিকল্পনায় বাস্তবায়িত হয় এ নান্দনিক শিশু পার্ক। এতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির ম্যুরাল, খেলাধুলার রাইড এবং ১ হাজার ৭০০ ফিট দৈর্ঘ্যের টাইলসের ওয়াকওয়ে। পার্কে শিশু ও দর্শনার্থীদের নিয়মিত পদচারণা ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতে সম্প্রসারিত অংশের কাজ শুরু করেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন। এতে নতুন প্রায় ৫০০ ফুট ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে পার্কটি। সেই সাথে সংযোজন করা হয়েছে ৫ টি নতুন রাইড, পেঙ্গুইন আকৃতির ৫টি ডাস্টবিন এবং দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াশব্লক। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে সম্প্রসারিত অংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ শিশু পার্ককে ঘিরে আগ্রহী হয়ে উঠছেন শিশু-কিশোর ও অভিভাবকেরা। প্রতিদিন বিকাল হলেই শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে পার্কটি। পার্কের সামনে বসেছে ফুচকা-চটপটি ও ঝালমুড়ির দোকান।

সরজমিন শিশু পার্কে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পার্কে ক্রেস্ট স্টাইলে নির্মিত নতুন ডিজাইনের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের সময় শিল্পী ও ক্যামেরা ম্যানের ম্যুরাল আগতদের ছবি তুলছে আর স্বাগত জানাচ্ছে। পার্কের মাঝে দুইটি হরিণ দাঁড়িয়ে আছে আর তাদের একটি বাচ্চা ঘাস খাচ্ছে। তার পূর্বে পাঁচটি বক দিয়ে নির্মিত বক চত্বরের পানির মধ্যেই ভাসমান আছে কুমিড়ের ম্যুরাল। এর পাশেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। মুখ হা করে হরিণের দিকে তাকিয়ে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

এছাড়াও পার্কে পুরো জায়গা জুড়ে সুসজ্জিতভাবে শোভা পাচ্ছে হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, প্রজাপতি, সিংহ, ড্রাগন, ডাইনোসর, মোরগ, জাতীয় পাখি দোয়েল ও ছোট হাতির বাচ্ছা, জেব্রা, ঈগল পাখি, কুনোব্যাঙ, কচ্ছপ, উটপাখি, ময়না, শালিক, ডাহুক পাখি এবং নৃত্য অবস্থায় দুটি ডলফিনের ম্যুরাল। এছাড়াও সাদা-লালচে কালারের চারটি সারোস, ডালের নিচে বসা চারটি টিয়া পাখি, পাখা মেলে বসে আছে দুইটি ময়ূর, বাদ্যযন্ত্র বাঁজানোর তালে তালে নৃত্য অবস্থায় দুইটি হাঁসের কার্টুন। মাঝখানে মোটু-পাতলু তার পাশে ক্যাঙ্গারু ও কাঁঠবিড়ালি। তাদের সামনে কলা খাওয়া অবস্থায় বানর এবং স্যালুট অবস্থানে গরিলা। ছবি তোলার জন্য রাস্তার দু’পাশে দুটি পেঙ্গুইন।

শিশুদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য যোগ হয়েছে নতুনভাবে স্থাপিত অত্যাধুনিক ফিস রাইড, হেলিকপ্টার রাইড, দোলনা ও ঘোড়া রাইড। পেঙ্গুইন আকৃতির ডাস্টবিন স্থাপন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় আগত দর্শনার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

নান্দনিক এই শিশু পার্কে পশু-পাখির সমারোহ ছাড়াও শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দোলনা ও রাউন্ড দোলনা, স্লিপার। ডায়বেটিস ও ডায়েট কন্ট্রোল চেষ্টায় হাটহাটির জন্য টাইলসের ওয়াকওয়ে। বসার জন্য রয়েছে টাইলস দিয়ে নির্মিত বেঞ্চ। এতে শিশুরা যেমন বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে তেমনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষরাও প্রশান্তি অনুভব করছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

রাহাত, স্নিগ্ধা ও সিহাজসহ কয়েকজন শিশু জানায়, শিশু পার্কে আসতে অনেক ভালো লাগে। এখানে অনেক প্রকার খেলনা আছে। এজন্য প্রতিদিন বিকালে এখানে আসি।

শিক্ষার্থী রিপন ইসলাম আনন্দের সুরে বলেন, শিশু পার্কটি অনেক পরিপাটি ও সৌন্দর্য্যময়। যে কারণে অবসর সময় পার্কে ঘুরতে আসি। পার্কের আকার ও খেলনা বৃদ্ধি হওয়ায় এটির সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিভাবক মজনু আলম বলেন, বর্তমান সময়ে সুস্থ বিনোদন ও শিশুদের অবসর সময় কাটানোর জন্য পর্যটন কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সেই জায়গায় খানসামা শিশু পার্ক আমাদের জন্য স্বস্তির। তাই সুযোগ পেলেই বাচ্চা নিয়ে এখানে আসি। এজন্য পার্ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।

গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান মো: সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, উপজেলা প্রশাসন শিশু পার্কটিকে যেভাবে বর্তমান যুগের সাথে মিল রেখে সাজিয়েছেন তা সত্যিই দেখার মত। এতে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা সুস্থ ও নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে এমন শিশু পার্ক নির্মাণ করা গেলে সেটি প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য অনেক ইতিবাচক ও কার্যকরী হবে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই উপজেলার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আমার পূর্বের স্যারেরা এটিকে নতুন রুপ দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে পরিধি সম্প্রসারিত, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, রাইড ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে পার্ককে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।