গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদের দাবিদার আবদুর রশিদ মিয়া ও আবু রায়হান মিয়ার দ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠেছে। এরই জেরে লাঞ্ছিত হয়ে আহত হয়েছেন তারা দুজনই।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই শিক্ষকরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
সর্বশেষ বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্কুল চলাকালীন সময়ে কতিপয় শিক্ষার্থীর হাতে লাঞ্চিত হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রশিদ মিয়া। এরআগে গত মঙ্গলবার একইভাবে লাঞ্চিত হন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদের দাবিদার আবু রায়হান মিয়া।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদের দাবিদার আবু রায়হান মিয়া বলেন, আবদুর রশিদ মিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত কারার ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই। কোনো শিক্ষার্থী এটি বলতে পারবে না। বরং আমাকেই শিক্ষার্থীদের দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন আবদুর রশিদ মিয়া।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রশিদ মিয়া বলেন, বিধি মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। চেয়ারে বসতে গেলেই আবু রায়হান মিয়ার লোকজন ও তার লেলিয়ে দেয়া শিক্ষার্থী বাঁধা দেন আমাকে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে যাই এবং শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার চেষ্টা করি। এতে বাধা দেন আবু রায়হান মিয়ার লোকজন ও কিছু সংখ্যাক শিক্ষার্থী। তাদের নিষেধ উপেক্ষা করে স্বাক্ষর করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে স্থানীয় ও স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান আমাকে। আবু রায়হান মিয়াকে মারধর করতে কোনো শিক্ষার্থীকে ইন্ধন দেইনি আমি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, সবাই নয়। কিছু উশৃংখল শিক্ষার্থী স্যারদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। আমরা তাদের শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)নাজির হোসেন বলেন, দুইদিন আগে আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি জানা নেই আমার। তবে মারামারির বিষয়টি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের দিয়ে মারামারি করানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
ইউএনও আরও জানান, হেড মাস্টারের দাবিদার ২ শিক্ষককে তাদের কাগজপত্রসহ ২৬ সেপ্টেম্বর দেখা করতে বলেছি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো বিধি অনুযায়ী।
উল্লেখ্য, বাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আলতাফ হোসেন তার শেষ কর্মদিবসে বিধিভেঙ্গে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদকে দায়িত্ব না দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবু রায়হান মিয়াকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এর আগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করেন প্রধান শিক্ষক। পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ উচ্চ আদালত ও শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করেন। উচ্চ আদালত ও শিক্ষাবোর্ড তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বপদে বহাল করেন। শেষে আবদুর রশিদ আদেশের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করলে গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন ইউএনও। এ নিয়েই দ্বন্দ্ব উভয় শিক্ষকের মধ্যে।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
























