রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় আমন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ মেট্রিকটন

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে ১ লখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবার করা হয়েছে। নানা প্রতিকুল পেরিয়ে এখন দুলছে এই ধানের সবুজ খেত। এ থেকে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে গাইবান্ধার কৃষকরা আবহাওয়ার প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে। চারা রোপণের বেশীরভাগ সময়ে খরার কবলে পড়ছিলেন। এমন প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়। এরপর পানির অভাবে চরম ব্যাহত হয়েছে এই চাষাবাদ। এরই মধ্যে পোকা-ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তারপরও নানা ধকল সামলিয়ে আশানুরূপ ফলন ঘরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে কৃষকদের।

স্থানীয়রা জানায়, জীবন-জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে এ বছর বাড়তি খরচ মাথায় নিয়ে আমন আবাদে নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

কৃষক আমজাদ হোসেন জাগো২৪.নেটকে জানান, এ বছর দেড় একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে খরা আর বুষ্টির পানি কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। কৃত্রিম সেচ দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছি। এছাড়া পোকার আক্রমণসহ খোল পঁচা রোগ দেখা দিয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া বলেন, চারা রোপণে খরার প্রভাবে আমরা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে সেচ ইউনিট চালু করে আমন চারা রোপনের পরামর্শ ও বাস্তবায়ন করেছি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেটকে জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে করে ভালো ফলন ঘরে তোলা সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় আমন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ মেট্রিকটন

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে ১ লখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবার করা হয়েছে। নানা প্রতিকুল পেরিয়ে এখন দুলছে এই ধানের সবুজ খেত। এ থেকে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে গাইবান্ধার কৃষকরা আবহাওয়ার প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে। চারা রোপণের বেশীরভাগ সময়ে খরার কবলে পড়ছিলেন। এমন প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়। এরপর পানির অভাবে চরম ব্যাহত হয়েছে এই চাষাবাদ। এরই মধ্যে পোকা-ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তারপরও নানা ধকল সামলিয়ে আশানুরূপ ফলন ঘরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে কৃষকদের।

স্থানীয়রা জানায়, জীবন-জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে এ বছর বাড়তি খরচ মাথায় নিয়ে আমন আবাদে নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

কৃষক আমজাদ হোসেন জাগো২৪.নেটকে জানান, এ বছর দেড় একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে খরা আর বুষ্টির পানি কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। কৃত্রিম সেচ দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছি। এছাড়া পোকার আক্রমণসহ খোল পঁচা রোগ দেখা দিয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া বলেন, চারা রোপণে খরার প্রভাবে আমরা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে সেচ ইউনিট চালু করে আমন চারা রোপনের পরামর্শ ও বাস্তবায়ন করেছি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেটকে জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে করে ভালো ফলন ঘরে তোলা সম্ভাবনা রয়েছে।