গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে লাফিয়ে বাড়ছে শাক-সবজির দাম। গত একসপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচে ১২০ টাকা বেড়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ দরে। একইসঙ্গে শাক-সবজিও ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বর্তমানে কাঁচা তরকারি বাজারে এসে অস্থির হয়ে ওঠছেন সাধারণ ভোক্তারা। ফলে শ্রমজীবি খেটে খাওয়া মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। সংসার চালাতে গিয়ে তাদের মাঝে শুরু হয়েছে হাঁসফাঁস।
রোববার ( ৬ অক্টোবর) দুপুরে সাদুল্লাপুর ও ধাপেরহাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে- প্রতি কেজি পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, মুখীকচু ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, সিম ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, তরই ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা, কদোয়া ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধনেপাতা শাক ১০০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা ও লাউ ৩০-৪৫ টাকা পিস (প্রকার ভেদে) বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত এক সপ্তাহ আগে ওইসব পণ্যের দাম অনেকটা কম ছিল। তবে আলু-পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এরই মধ্যে গো-খাদ্যের সংকটসহ বেড়েই চলছে সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম। সেই সাথে কাঁচা মরিচ যেন সোনার হরিণ। প্রতিটি সবজির দাম দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে সবজি এখন সাধারণ মানুষের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে হুহু করে বেড়ে চলেছে ভোগ্যপণ্য কিংবা নিত্যপণ্য ও বিভিন্ন জিনিসিপত্রের দাম। এমন দামের কারনে একেবারই বেসামাল সাধারণ মানুষেরা। দিনদিন তাদের ব্যয় বাড়লেও, বাড়ছে না আয়-রোজগার। ফলে সংসার চলাতে হাঁসফাঁস উঠেছে তাদের।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে প্রচণ্ড আঘাত হানতে শুরু করেছে। অধিক দামে পণ্যসামগ্রী কেনা ভুক্তভোগিদের বোবা কান্না যেনো দেখার কেউ নেই। অস্থির এই বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সঠিক তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষ আরও বেকায়দায় পড়তে পারে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
সবজি কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম নামের এক অটোরিকশা চালক জানান, যেভাবে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, সেতুলনায় আয় বাড়েনি তার। এতে করে পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ছে ঋণের বোঝা।
সাদুল্লাপুর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকের মাঠে শাক-সবজি উৎপাদন কম হচ্ছে। এতে আমদানির চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম বসুনিয়া বলেন, সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে সবজির খেতে উৎপাদন কমেছে। এ কারণে কিছুটা দাম বেড়েছে। আবহাওয়া অনকূলে আসলে শাক-সবজির দাম কমতে পারে।
শামীম সরদার, জাগো২৪.নেট 


















