শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় ডাম্পট্রাক চলাচল নিয়ে দুপক্ষের বিরোধে সড়ক অবরোধ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জিয়া সেতুতে ডাম্পট্রাক চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গতকাল ১৬ নভেম্বর শনিবার বেলা দেড়টার দিকে এ অবরোধ করা হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ও এলাকাবাসীরা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বেলা ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় খানসামা জিয়া সেতু পূর্ব পাড়ে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক ড্রাইভারদের নিরুৎসাহিত করে ব্যানার টাঙিয়ে দেন স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুতে যেন এসব যান চলাচল না করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে খানসামা থেকে বীরগঞ্জগামী আঞ্চলিক মহাসড়কে বাঁশ দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বীরগঞ্জের কাশিপুর বালুঘাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। ঘণ্টাখানেক অবরোধে সড়কের দুই পাশে এক কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যানের চালকেরা দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের আশ্বাসে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জামাল উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোগী নিয়ে দিনাজপুর যাব, অপারেশন হবে, কিন্তু এখানে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। এটা কোনো কথা। কিছু হলেই রাস্তা অবরোধ। তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখবে কে?’
বীরগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে জিয়া সেতু দিয়ে আমাদের কাশিপুর ঘাটের বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচলে বাধা দিচ্ছে একটি পক্ষ। সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেয়া ঘাট থেকে যদি আমরা বালু বহন করতে না পারি, তাহলে তো আমাদের লোকসান হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
অপরদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নির্মিত জিয়া সেতু উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে এটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। এদিকে, বালুখেকোরা নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অবৈধ ১০ চাকার ডাম্পট্রাক এই সেতুতে পারাপার করান। এই বালু সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

খানসামায় ডাম্পট্রাক চলাচল নিয়ে দুপক্ষের বিরোধে সড়ক অবরোধ

প্রকাশের সময়: ১০:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জিয়া সেতুতে ডাম্পট্রাক চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গতকাল ১৬ নভেম্বর শনিবার বেলা দেড়টার দিকে এ অবরোধ করা হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ও এলাকাবাসীরা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বেলা ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় খানসামা জিয়া সেতু পূর্ব পাড়ে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক ড্রাইভারদের নিরুৎসাহিত করে ব্যানার টাঙিয়ে দেন স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুতে যেন এসব যান চলাচল না করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে খানসামা থেকে বীরগঞ্জগামী আঞ্চলিক মহাসড়কে বাঁশ দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বীরগঞ্জের কাশিপুর বালুঘাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। ঘণ্টাখানেক অবরোধে সড়কের দুই পাশে এক কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যানের চালকেরা দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের আশ্বাসে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জামাল উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোগী নিয়ে দিনাজপুর যাব, অপারেশন হবে, কিন্তু এখানে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। এটা কোনো কথা। কিছু হলেই রাস্তা অবরোধ। তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখবে কে?’
বীরগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে জিয়া সেতু দিয়ে আমাদের কাশিপুর ঘাটের বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচলে বাধা দিচ্ছে একটি পক্ষ। সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেয়া ঘাট থেকে যদি আমরা বালু বহন করতে না পারি, তাহলে তো আমাদের লোকসান হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
অপরদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নির্মিত জিয়া সেতু উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে এটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। এদিকে, বালুখেকোরা নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অবৈধ ১০ চাকার ডাম্পট্রাক এই সেতুতে পারাপার করান। এই বালু সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।