শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্মাণ কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা

দীর্ঘ ৬ বছরেও শেষ হয়নি আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়া ঘাটের সেতুর নির্মাণের কাজ। সেতুর অবশিষ্ট কাজ না করেই এক বছর আগেই লাপাত্তা হয়ে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়া ঘাটের এক প্রান্তে দিনাজপুরের খানসামা ও অপর প্রান্তে বীরগঞ্জ উপজেলা। এ দুই উপজেলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং যাতায়াতের জন্য ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জয়ন্তিয়াঘাটে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। এ সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুরমা কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পর পর দুইবার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫৬ শতাংশ। অবশিষ্ট কাজ ফেলে রেখেই এক বছর আগে থেকে লাপাত্তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এলজিইডি দিনাজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের মধুবনপুর ও খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের চেহেলগাজী এলাকায় আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়াঘাটে ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে করোনাকালীন সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরে দুই মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫৬ শতাংশ কাজ করে বাকি কাজ বন্ধ করে রাখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও এলজিইডির গাফিলতির কারণে সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না। সেতুর কাজ থমকে যাওয়ায় নদী পারাপারে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই এবং ভোগান্তিও দূর হচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের একমাত্র ভরনা কাঠের নির্মিত সাঁকো। সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে টোল দিতে হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে দুর্ভোগ-দূর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী। আর বর্ষা মৌসুমে সকলের ভরসা একটি নৌকা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি অর্থনীতি।

সরজমিন দেখা গেছে, সেতুর সব পিলার স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর ৫টি অংশের ৩টি স্প্যান ঢালাই হয়েছে। অবশিষ্ট পিলারগুলো নদীর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজে ব্যবহার হওয়া কিছু সামগ্রী, মালবাহী ট্রলি ও পাহারাদারদের রুম রয়েছে। সেখানে অলস সময় অতিবাহিত করছেন কাজ শুরুর সময় থেকে নির্মাণ সামগ্রী দেখভালের দায়িত্বে থাকা দু’জন পাহারাদার।

সাঁকোয় টোল দিয়ে পারাপার হওয়া কামরুজ্জামান, রেজাউল করিম, মানিক ও ফাতেমা বেগমসহ স্থানীয়রা জানান, জনসাধারণ থেকে শুরু করে এ সাঁকো দিয়ে বাইসাইকেল, রিকশাভ্যান ও ব্যাটারিচালিত চার্জারভ্যান জেলা পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দেয়া এ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হয়। এ নদীর পশ্চিমে মধুবনপুর, সনকা, বাছারগ্রাম, ভোগডোমা, রাজীবপুর, রঘুনাথপুর ও ধুনট গ্রাম এবং পূর্বদিকে খানসামা উপজেলার মধুবনপুর, নেউলা, কায়েমপুর, দুহশুহ, খামারপাড়া ও জোয়ার গ্রাম। নদীর উভয়পাড়ের গ্রামে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি লোক বসবাস করেন।

মধুবনপুর গ্রামের রিকশাভ্যানচালক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, সেতু না হওয়ায় এ পথে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। যাত্রী কম হলেও জীবিকার তাগিদে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। সেতু চালু হলে চলাচলেও যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনি আয়-রোজগারও বৃদ্ধি পাবে।

রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে হতাশা ব্যক্ত করে স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর সন্তুষ্ট ছিলাম, কাজটি হলে উপকার হবে। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার ৬ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। আমাদের ভোগান্তি লাঘবে কারও নজর নেই।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী তোতা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ হয়। এতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেতুর কাজ শেষ হলে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তাই দ্রুত সময়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি করেন তিনি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আব্দুল বাকী বলেন, ২০১৮ সালে কাজ শুরুর সময় থেকে পাহারার জন্য চুক্তিতে দায়িত্বে আছি। শুরু থেকেই সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতি ছিল। এক বছর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৬ মাস থেকে আমরা মাসিক বেতন পাই না। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হয়নি। তবুও বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায় এখনও দুইজন পাহারা দিচ্ছি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুরমা এন্টার প্রাইজের কেউ এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, এ সেতুর অভাবে নদীর দুই অঞ্চলের মানুষকে অন্তত ১০-১৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ, রোগী ও জরুরী প্রয়োজনে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হন। তাই দ্রুত সময়ে সেতুর কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করা দরকার।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করতে ইতিপূর্বেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবুও কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে কয়েক মাস থেকে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। সেতু নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্মাণ কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা

প্রকাশের সময়: ০৩:৪০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

দীর্ঘ ৬ বছরেও শেষ হয়নি আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়া ঘাটের সেতুর নির্মাণের কাজ। সেতুর অবশিষ্ট কাজ না করেই এক বছর আগেই লাপাত্তা হয়ে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়া ঘাটের এক প্রান্তে দিনাজপুরের খানসামা ও অপর প্রান্তে বীরগঞ্জ উপজেলা। এ দুই উপজেলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং যাতায়াতের জন্য ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জয়ন্তিয়াঘাটে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। এ সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুরমা কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পর পর দুইবার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫৬ শতাংশ। অবশিষ্ট কাজ ফেলে রেখেই এক বছর আগে থেকে লাপাত্তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এলজিইডি দিনাজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের মধুবনপুর ও খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের চেহেলগাজী এলাকায় আত্রাই নদীর জয়ন্তিয়াঘাটে ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে করোনাকালীন সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরে দুই মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫৬ শতাংশ কাজ করে বাকি কাজ বন্ধ করে রাখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও এলজিইডির গাফিলতির কারণে সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না। সেতুর কাজ থমকে যাওয়ায় নদী পারাপারে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই এবং ভোগান্তিও দূর হচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের একমাত্র ভরনা কাঠের নির্মিত সাঁকো। সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে টোল দিতে হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে দুর্ভোগ-দূর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী। আর বর্ষা মৌসুমে সকলের ভরসা একটি নৌকা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি অর্থনীতি।

সরজমিন দেখা গেছে, সেতুর সব পিলার স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর ৫টি অংশের ৩টি স্প্যান ঢালাই হয়েছে। অবশিষ্ট পিলারগুলো নদীর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজে ব্যবহার হওয়া কিছু সামগ্রী, মালবাহী ট্রলি ও পাহারাদারদের রুম রয়েছে। সেখানে অলস সময় অতিবাহিত করছেন কাজ শুরুর সময় থেকে নির্মাণ সামগ্রী দেখভালের দায়িত্বে থাকা দু’জন পাহারাদার।

সাঁকোয় টোল দিয়ে পারাপার হওয়া কামরুজ্জামান, রেজাউল করিম, মানিক ও ফাতেমা বেগমসহ স্থানীয়রা জানান, জনসাধারণ থেকে শুরু করে এ সাঁকো দিয়ে বাইসাইকেল, রিকশাভ্যান ও ব্যাটারিচালিত চার্জারভ্যান জেলা পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দেয়া এ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হয়। এ নদীর পশ্চিমে মধুবনপুর, সনকা, বাছারগ্রাম, ভোগডোমা, রাজীবপুর, রঘুনাথপুর ও ধুনট গ্রাম এবং পূর্বদিকে খানসামা উপজেলার মধুবনপুর, নেউলা, কায়েমপুর, দুহশুহ, খামারপাড়া ও জোয়ার গ্রাম। নদীর উভয়পাড়ের গ্রামে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি লোক বসবাস করেন।

মধুবনপুর গ্রামের রিকশাভ্যানচালক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, সেতু না হওয়ায় এ পথে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। যাত্রী কম হলেও জীবিকার তাগিদে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। সেতু চালু হলে চলাচলেও যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনি আয়-রোজগারও বৃদ্ধি পাবে।

রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে হতাশা ব্যক্ত করে স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর সন্তুষ্ট ছিলাম, কাজটি হলে উপকার হবে। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার ৬ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। আমাদের ভোগান্তি লাঘবে কারও নজর নেই।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী তোতা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ হয়। এতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেতুর কাজ শেষ হলে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তাই দ্রুত সময়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি করেন তিনি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আব্দুল বাকী বলেন, ২০১৮ সালে কাজ শুরুর সময় থেকে পাহারার জন্য চুক্তিতে দায়িত্বে আছি। শুরু থেকেই সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতি ছিল। এক বছর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৬ মাস থেকে আমরা মাসিক বেতন পাই না। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হয়নি। তবুও বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায় এখনও দুইজন পাহারা দিচ্ছি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুরমা এন্টার প্রাইজের কেউ এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, এ সেতুর অভাবে নদীর দুই অঞ্চলের মানুষকে অন্তত ১০-১৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ, রোগী ও জরুরী প্রয়োজনে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হন। তাই দ্রুত সময়ে সেতুর কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করা দরকার।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করতে ইতিপূর্বেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবুও কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে কয়েক মাস থেকে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। সেতু নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে।