শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় ভোজ্যতেল পাচ্ছে না টিসিবি’র ২১ হাজার কার্ডধারীরা 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী ২০ হাজার ৭৬৪টি পরিবার ডিলারদের নিকট থেকে ভোজ্যতেল ক্রয় করতে পারছেন না। এতে খোলা বাজারে তেল ক্রয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। টিসিবি’র পণ্য সরবরাহকারী ৮ ডিলার জানান ভোজ্যতেলের সংকট থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টিসিবি থেকে ফ্যামিলি কার্ড অনুযায়ী প্রতিমাসে ডিলারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে। নিম্ন আয়ের পরিবারের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে এই পণ্য সরবরাহ করে থাকে
টিসিবি।
গত ২ ডিসেম্বর সোমবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়া ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, প্রতিমাসে টিসিবি কার্ডধারীদেরকে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার ভোজ্যতেল ও ২ কেজি মসুর ডাল ৪৭০ টাকায় প্রতি প্যাকেজ দেয়ার কথা থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। চলতি পর্যায়ে টিসিবি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে ২৭০ টাকার বিনিময়ে শুধু ৫ কেজি চাল ও ২ কেজি ডাল দেয়া হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অন্যতম ভোজ্যতেল না পেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য ক্রয় করতে আসা মইনুল ইসলাম বলেন, সরকারি মূল্যে প্রতিমাসে ভোজ্যতেল, চাল ও ডাল কিনতাম। এবার এসে দেখি সয়াবিন তেল নাই। বাজারেও তো তেলের মূল্য বেশি। সবকিছুর বাজার বেশি হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি।
উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, টিসিবি’র মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সয়াবিন তেল ক্রয় করতে পারলে একটু অর্থ সাশ্রয় হয়। কিন্তু এবার তেল না পেয়ে বাজারে খুচরা-পাইকারি দোকানে ২ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয় করতে প্রায় ১৫০-২০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
টিসিবি পণ্য সরবরাহকারী মেসার্স আবরার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী বাইজিদ ইসলাম বলেন, টিসিবি ক্যাম্প অফিসে তেলের সংকট থাকায় চলতি মাসে ডিলারদের সয়াবিন তেল দেয়নি। এজন্য টিসিবি কার্ডধারীদের তেল দিতে পারছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, সয়াবিন তেলের জন্য সব কার্ডধারী টিসিবি পণ্যের পুরো প্যাকেজ ক্রয় করে। কিন্তু এবার সয়াবিন তেল না থাকায় টিসিবি পণ্য ক্রয়ে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।
খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য বেশি। পণ্য ক্রয় করতে এসে সয়াবিন তেল না পাওয়ায় টিসিবি কার্ডধারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর টিসিবি ক্যাম্প অফিসের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও জোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সয়াবিন তেল না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, টিসিবি অফিস থেকে এবার ডিলারদের সয়াবিন তেল সরবরাহ না করায় কার্ডধারীরা সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না। এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়

খানসামায় ভোজ্যতেল পাচ্ছে না টিসিবি’র ২১ হাজার কার্ডধারীরা 

প্রকাশের সময়: ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী ২০ হাজার ৭৬৪টি পরিবার ডিলারদের নিকট থেকে ভোজ্যতেল ক্রয় করতে পারছেন না। এতে খোলা বাজারে তেল ক্রয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। টিসিবি’র পণ্য সরবরাহকারী ৮ ডিলার জানান ভোজ্যতেলের সংকট থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টিসিবি থেকে ফ্যামিলি কার্ড অনুযায়ী প্রতিমাসে ডিলারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে। নিম্ন আয়ের পরিবারের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে এই পণ্য সরবরাহ করে থাকে
টিসিবি।
গত ২ ডিসেম্বর সোমবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়া ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, প্রতিমাসে টিসিবি কার্ডধারীদেরকে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার ভোজ্যতেল ও ২ কেজি মসুর ডাল ৪৭০ টাকায় প্রতি প্যাকেজ দেয়ার কথা থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। চলতি পর্যায়ে টিসিবি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে ২৭০ টাকার বিনিময়ে শুধু ৫ কেজি চাল ও ২ কেজি ডাল দেয়া হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অন্যতম ভোজ্যতেল না পেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য ক্রয় করতে আসা মইনুল ইসলাম বলেন, সরকারি মূল্যে প্রতিমাসে ভোজ্যতেল, চাল ও ডাল কিনতাম। এবার এসে দেখি সয়াবিন তেল নাই। বাজারেও তো তেলের মূল্য বেশি। সবকিছুর বাজার বেশি হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি।
উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, টিসিবি’র মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সয়াবিন তেল ক্রয় করতে পারলে একটু অর্থ সাশ্রয় হয়। কিন্তু এবার তেল না পেয়ে বাজারে খুচরা-পাইকারি দোকানে ২ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয় করতে প্রায় ১৫০-২০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
টিসিবি পণ্য সরবরাহকারী মেসার্স আবরার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী বাইজিদ ইসলাম বলেন, টিসিবি ক্যাম্প অফিসে তেলের সংকট থাকায় চলতি মাসে ডিলারদের সয়াবিন তেল দেয়নি। এজন্য টিসিবি কার্ডধারীদের তেল দিতে পারছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, সয়াবিন তেলের জন্য সব কার্ডধারী টিসিবি পণ্যের পুরো প্যাকেজ ক্রয় করে। কিন্তু এবার সয়াবিন তেল না থাকায় টিসিবি পণ্য ক্রয়ে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।
খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য বেশি। পণ্য ক্রয় করতে এসে সয়াবিন তেল না পাওয়ায় টিসিবি কার্ডধারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর টিসিবি ক্যাম্প অফিসের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও জোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সয়াবিন তেল না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, টিসিবি অফিস থেকে এবার ডিলারদের সয়াবিন তেল সরবরাহ না করায় কার্ডধারীরা সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না। এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।