রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাঙনে হুমকির মুখে বিদ্যালয় রক্ষার দাবি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ইছামতি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন থেকে বর্তমানে মাত্র ৩ থেকে ৭ ফুট দূরেই নদীর ভাঙন অবস্থান করছে। দ্রুত নদী শাসনের মাধ্যমে বিদ্যালয় রক্ষার দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল নলবাড়ী গ্রামের ক্যাম্পেরহাটে ইছামতি নদীর তীরে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি। নদীর তীরে গড়ে ওঠা মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়ে চলছে নিয়মিত পাঠদান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী ও ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পড়ালেখা করছে। রয়েছে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। মাঠের পশ্চিম পাশে একতলা ভবনের ৫টি শ্রেণিকক্ষ, ১টি কমনরুম, টিনশেডের ১টি লাইব্রেরি ও ২টি ব্যবহারিক শ্রেণিকক্ষ অবস্থিত। এসব কক্ষের ঠিক পিছনেই নদী ভাঙনের কারণে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ইছামতি নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। বিশেষ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে এই ভাঙন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর্নিকা আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, নদী ভাঙনের ফলে প্রতিনিয়ত ক্লাস করতে গিয়ে আমাদের ভয় লাগে। জানি না কখন নদী ভেঙে ভবনটি নিয়ে যাবে! আমরা স্বস্তি লেখাপড়া করতে চাই। স্থানীয় মিম শাহসহ কয়েকজন বলেন, নদী ভাঙনে যদি বিদ্যালয়ের ভবন ধ্বসে পড়ে, তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হবে। তাই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা জরুরি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রশিদা বানু বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের মুখে পড়ি। তবে এখন পরিস্থিতি আস্তে আস্তে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হবে, যাতে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

জনপ্রিয়

ভাঙনে হুমকির মুখে বিদ্যালয় রক্ষার দাবি

প্রকাশের সময়: ০২:০০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ইছামতি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন থেকে বর্তমানে মাত্র ৩ থেকে ৭ ফুট দূরেই নদীর ভাঙন অবস্থান করছে। দ্রুত নদী শাসনের মাধ্যমে বিদ্যালয় রক্ষার দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল নলবাড়ী গ্রামের ক্যাম্পেরহাটে ইছামতি নদীর তীরে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি। নদীর তীরে গড়ে ওঠা মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়ে চলছে নিয়মিত পাঠদান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী ও ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পড়ালেখা করছে। রয়েছে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। মাঠের পশ্চিম পাশে একতলা ভবনের ৫টি শ্রেণিকক্ষ, ১টি কমনরুম, টিনশেডের ১টি লাইব্রেরি ও ২টি ব্যবহারিক শ্রেণিকক্ষ অবস্থিত। এসব কক্ষের ঠিক পিছনেই নদী ভাঙনের কারণে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ইছামতি নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। বিশেষ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে এই ভাঙন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর্নিকা আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, নদী ভাঙনের ফলে প্রতিনিয়ত ক্লাস করতে গিয়ে আমাদের ভয় লাগে। জানি না কখন নদী ভেঙে ভবনটি নিয়ে যাবে! আমরা স্বস্তি লেখাপড়া করতে চাই। স্থানীয় মিম শাহসহ কয়েকজন বলেন, নদী ভাঙনে যদি বিদ্যালয়ের ভবন ধ্বসে পড়ে, তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হবে। তাই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা জরুরি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রশিদা বানু বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের মুখে পড়ি। তবে এখন পরিস্থিতি আস্তে আস্তে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হবে, যাতে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।