নিভৃত গ্রামাঞ্চল। বসতবাড়ির অদূরে কৃষিমাঠ। ছিপছিপে পানিতে সবুজ ঘাসের উঁকি। এ মাঠে লড়ছে পোকামাকড়। একইসঙ্গে স্বল্প সংখ্যক দেশি প্রজাতির ছোট মাছও ছোটাছুটি করছে। আর এখানে আনাগোনা বেড়েছে সাদা বকের ঝাঁক। হাপুর-হুপুর করে ওইসব কিটপতঙ্গ ও মাছগুলো আহার করছে এই বকের দল। হঠাৎ করে এ ধরনের চমৎকার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ পথচারিরা। একিইবারে উচ্ছ্বসিত কৃষকরাও।
শুক্রবার (১ আগস্ট) এমনি এক অপরূপ চিত্র দেখা গেছে- গাইবান্ধার জামালপুর ইউনিয়নের ছোট দাউদপুর গ্রামে। এ গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাকা রাস্তার ধারে খাসবিল নামক স্থানে দলবেঁধে ছুটে আসছে সাদা বক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে গাইবান্ধার ফসলি মাঠ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ করেছেন প্রান্তিক কৃষক। প্রায় মাস দেড়েক আগে এ ধান ঘরে তোলার পর থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় কৃষিমাঠ। বর্ষাকালে এ মাঠ এখন আগাছার দখলে। এরই মধ্যে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ছিপছিপে পানিতে কৃষকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন রোপা আমন চাষাবাদের। আর এ মুহূর্তে ফসলি মাঠে অবস্থান করছে সাদা বকের দল। হালচাষ করা জমি থেকে বেরিয়ে আসা কিটপতঙ্গ খেতেই দলবব্ধ ছুটছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বক।
মুরাদ মিয়া নামের এক পথচারি জানান, কৃষিমাঠে সাদা বকের ঝাঁক দেখে অনেকটা মুগ্ধ তিনি। বিশেষ করে বর্ষাকালের হালকা খড়ায় যখন মাঠ পরিত্যাক্ত থাকে তখন এসব বকের আনাগোনা লক্ষণীয়। তবে আগের মতো চোখে পড়ে কম।
মোজাহার আলী নামের কৃষক বলেন- গত কয়েক বছর এই এলাকা বকের ঝাঁক দেখা যায়নি। এবার হঠাৎ করে খাসবিলে দলে দলে আসছে সাদা বক। এরা তাড়াহুড়ো করে খাচ্ছে পোকামাকড় ও ছোট মাছ। আর পথচারিরা এই বকের মিলন মেলা দেখে দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রামীন জনপদে সাদা বক অতি পরিচিত পাখি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাঠের খাল-মিলে এই পাখির অবাধ বিচরণ দেখা মেলে। তবে আগের তুলনায় অনেক কম। আর এসব পাখি কেউ যেন শিকার না করে এ ব্যাপারে সবাইকে আন্তরিক থাকা দরকার।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















